এসো নিজেই তৈরি করি
ব্লগ খাতুনে জান্নাত কণা এপ্রিল ২০২৪
আলহামদুলিল্লাহ! আবার আমাদের মাঝে ঈদ চলে এসেছে। দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার পর যখন ঈদের দিনটা চলে আসে খুব আনন্দ হয় তাই না? এই আনন্দগুলো নতুন মাত্রা পায় ঈদের সারাদিনজুড়ে মজাদার সব খাবার খাওয়ার মধ্য দিয়ে। ঈদের দিন সকালে কয়েক পদের মিষ্টি খাবার তৈরি করা হয়। সবার বাড়িতেই প্রায় মা-খালা, চাচি-ফুপুরা এটা তৈরি করেন। যাদের বড়ো বোন, ভাবি, মামি অথবা কর্মক্ষম নানি-দাদি আছেন, তারাও পিছিয়ে থাকেন না। নিত্য নতুন খাবার তৈরির আয়োজনে ঈদের দিনটাকে উৎসবমুখর করে তোলেন। মিষ্টি খাবারের পাশাপাশি ভারি খাবার হিসেবে থাকে ভুনা খিচুড়ি, বিরিয়ানি, পোলাও-এর মতো কোনো পদ। এর সাথে গোশতের তৈরি নানা ধরনের খাবার থাকে। যেমন- রোস্ট, রেজালা, কাবাব। অনেকে অবশ্য পরিবারের সদস্যদের পছন্দের কথা ভেবে, মাছ ভুনা বা ভাজা মাছও রাখেন। ইদানীং একটা ব্যাপার দেখে খুব ভালো লাগে। কোনো কোনো বাসায় পরিবারের কর্তা অর্থাৎ বাবা-চাচারাও রান্না করেন। স্পেশাল কোনো আইটেম থাকলে তারাই সেটা রান্নার আয়োজনে যুক্ত হয়ে যান। বিশেষ করে, যারা বাংলাদেশের বাইরে থেকে লেখাপড়া করেছেন বা অনেক দিন বিদেশে কর্মরত ছিলেন, তারা এই কাজটি খুব আগ্রহ নিয়ে করেন। কারণ প্রবাসে থাকাকালীন সময়ে তাদের নিজের হাতে রান্না করে খেতে হতো। এখন অবশ্য তোমরাও নানা উপলক্ষ্যে বারবিকিউয়ের আয়োজন করো। মাছ-গোশত, কাঠ-কয়লার আগুনে ঝলসে খাওয়ার একটা প্রবণতা নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের মাঝে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ঈদের দিন উপলক্ষ্যেও অনেকে এমন আয়োজন রাখে। ধরো, তুমি একটা খাবারের আইটেম বা পদ নিজেই তৈরি করে সবাইকে পরিবেশন করলে। ব্যাপারটা কেমন হয় বলো দেখি? অনেক মজার না? সাধারণত ফিরনি, সেমাই, জর্দা, মুরগির রোস্ট, গরুর গোশতের রেজালা এসব ঈদের দিনের অনেকটা কমন আইটেম। এই ঈদে, তুমি যদি এগুলোর মধ্যে কোনো একটা অথবা দুই তিনটা পদ তৈরি করতে চাও, তাহলে কিন্তু অনায়াসেই তৈরি করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিতে পারো। পাশাপাশি বড়োদের কাজে সহযোগিতাও করা হলো। ঈদের কথা ভেবে তারা তো আগেই সবকিছু গুছিয়ে রাখেন। তুমি শুধু সেসব উপকরণ দিয়ে রান্না করে নেবে। আজকে আমরা জানবো কীভাবে সেমাই, ফিরনি, আর রোস্ট তৈরি করতে হয়। এসো জেনে নিই আমরা কীভাবে রান্না করবো।
জর্দা সেমাই
উপকরণ : এক প্যাকেট সেমাই, ৪ টেবিল চামচ ঘি, দুই কাপ চিনি, ২ টেবিল চামচ কিশমিশ, ৩ টেবিল চামচ ভাজা চীনা বাদাম, দুটো তেজপাতা তিন টুকরো দারুচিনি, দুই কাপ পানি, স্বাদমতো লবণ।
তৈরির পদ্ধতি: প্রথমে কড়াইতে ঘি দিয়ে সামান্য গরম করে চিনি দাও। এবার প্যাকেট সেমাইয়ের অর্ধেকটা ঢেলে ১০ থেকে ১৫ মিনিট নাড়তে থাকো, যাতে সেমাইটা ঘিয়ে ভাজা হয়। কিছুক্ষণ পর পানি দিয়ে আঁচ কমিয়ে নাড়তে থাকো। পানি শুকিয়ে আসলে বাদাম, কিশমিশ, তেজপাতা, দারুচিনি দিয়ে আরও ১০ মিনিট হালকা আঁচে দমে রাখবে। সেমাই ঝরঝরে হলে নামিয়ে পরিবেশন করো জর্দা সেমাই।
ফিরনি
উপকরণ : তরল দুধ- ২ লিটার, পোলাও চাল- আধা কাপ, গুঁড়া দুধ ঘন করে গুলিয়ে নেওয়া- ১ কাপ, কনডেন্সড মিল্ক- ১ কৌটা, এলাচ ছয়-সাতটি, দারুচিনি তিন টুকরো, ডেকোরেশনের জন্য জাফরান- এক চিমটি, কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, পেস্তা কুচি, কিশমিশ।
প্রণালি : তরল দুধ হাঁড়িতে ঢেলে চুলায় বসাও। এবার এলাচ আর দারুচিনি দিয়ে নাড়তে থাকো। কিছুক্ষণ পর গুলে রাখা পাউডার দুধ ঢেলে দাও। ঘন হয়ে এলে চাল দিয়ে নাড়তে থাকবে। এবার কনডেন্সড মিল্ক দাও। কনডেন্সড মিল্ক দিলে চিনির দরকার হবে না। যদি আরও বেশি মিষ্টি খেতে চাও তবে চিনি যোগ করতে পারো। কিশমিশ, জাফরান আর অল্প পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের বাদাম কুচি ঢেলে নাড়তে থাকো। ঘন হয়ে এলে নামিয়ে নাও। এবার পরিবেশন পাত্রে ঢেলে বাকি বাদাম কুচি, জাফরান ওপরে ছড়িয়ে দাও। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এলে, ফ্রিজের নরমালে রেখে ঠাণ্ডা করে খেলে বেশি ভালো লাগবে।
মুরগির রোস্ট
উপকরণ : মাঝারি সাইজের মুরগি ৩টি, ঘি ১০০ গ্রাম, তেল এক লিটার, জায়ফল বাটা এক চা-চামচ, জয়ত্রী বাটা এক চা-চামচ, আদা বাটা দুই চা-চামচ, রসুন বাটা দেড় চা-চামচ, পোস্তদানা বাটা আধা চা-চামচ, কাঠবাদাম বাটা দুই টেবিল চামচ, কিশমিশ এক টেবিল চামচ, আলু বোখারা ৭-৮টি, এলাচ ৪টি, দারুচিনি ৪টি, কাঁচামরিচ ৭-৮টি, টক দই, পেঁয়াজ বাটা এক কাপ, চিনি অল্প, লবণ ১৫০ গ্রাম।
প্রণালি : মুরগি রোস্টের মতো করে কেটে লবণ, টক দই, আদা ও রসুন দিয়ে মাখিয়ে রাখতে হবে। পনেরো থেকে বিশ মিনিট সময় ধরে মাখিয়ে রাখার পর, কড়াইয়ে তেল দিয়ে তাতে মুরগির টুকরোগুলো বাদামি রং করে ভেজে তুলো।
এবার কড়াইতে ঘি আর তেল দিয়ে সব রকম মসলা, পেঁয়াজ বাটা, টক দই, চিনি, এলাচি, দারুচিনি, লবণ, বাদাম, আলু বোখারা, কিশমিশ দিয়ে কষিয়ে ভাজা মুরগিগুলো রান্না করো। মসলাগুলো ভালো করে মুরগির টুকরোর গায়ে লেগে গেলেই মজাদার রোস্ট তৈরি হয়ে যাবে। গরম গরম পোলাও কিংবা বিরিয়ানির সঙ্গে পরিবেশন করো সুস্বাদু চিকেন রোস্ট।
এবারের ঈদে তোমার নিজের হাতে তৈরি রান্না থাকছে তো? রেসিপি অনুসরণ করে রান্না করে দেখো, খুব সহজ এবং মজার একটা কাজ।
আরও পড়ুন...