কিংবদন্তিদের কথা

খেলার চমক আবু আবদুল্লাহ মার্চ ২০২৫

মোহাম্মাদ আলী

সর্বকালের সেরা ক্রীড়াবিদদের তালিকা করতে গেলে শুরুর দিকেই লিখতে হবে এই মার্কিন বক্সারের নাম। পেশাদার হেভিওয়েট বক্সিং ইতিহাসে তিনি যা করেছেন সেসব রেকর্ড আজও অক্ষুণ্ন। যতদিন রিংয়ে নেমেছেন ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তার মতো দীর্ঘ সময় কেউ এককভাবে চ্যাম্পিয়ন শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি।

১৯৪২ সালের ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাষ্ট্রের লুইসভিল শহরে জন্ম আলীর। পারিবারিক নাম ছিল ক্যাসিয়াস মার্সেলাস ক্লে জুনিয়র। মাত্র ১২ বছর বয়সে বক্সিং শিখতে শুরু করেন। ১৮ বছর বয়সে অপেশাদার বক্সার হিসেবে অলিম্পিকে লাইট হেভিওয়েট স্বর্ণপদক জেতেন। এরপর শুরু করেন পেশাদার বক্সিং। চার বছরের মাথায় সনি লিস্টনকে হারিয়ে বিশ^ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। আনকোরা এক তরুণ সেদিন বলে কয়ে হারিয়েছেন তৎকালীন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে। এরপর শুধুই সাফল্যের গল্প। ওই বছরই (১৯৬৪) ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মোহাম্মাদ আলী নাম গ্রহণ করেন।

তার ক্যারিয়ারের প্রতিটি অধ্যায় ছিল উত্তেজনাপূর্ণ ও জাঁকজমক। হারিয়েছেন একের পর এক নামকরা বক্সারদের। ১৯৭১ সালে জো ফ্রাজিয়েরের বিরুদ্ধে তার লড়াইটি বিখ্যাত হয়ে আছে ‘ফাইট অব দ্য সেঞ্চুরি নামে’। লড়াইটি এতই আলোড়ন তুলেছিল যে, বিশ্বের ৩৬টি দেশের টিভি চ্যানেল সেটি সরাসরি সম্প্রচার করে। ‘থ্রিলা ইন ম্যানিলা’, ‘দ্য রাম্বেল ইন দ্য জঙ্গল’ তার উল্লেখযোগ্য ফাইট।

ক্যারিয়ারে মোট তিনবার বিশ^ চ্যাম্পিয়ন শিরোপা নিজের করে নিয়েছেন। যতদিন খেলেছেন বেশির ভাগ সময়টাই শিরোপা ছিল তার দখলে। পুরো ক্যারিয়ারে ৬১টি ফাইট করে মাত্র ৫বার হেরেছেন। ৫৬টি জয়ের মধ্যে ৩৭ বার প্রতিপক্ষকে নকআউট করেছেন। (বক্সিংয়ে ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই প্রতিপক্ষ লড়াই করার শক্তি হারিয়ে ফেললে তাকে নকআউট বলে)

প্রচণ্ড রাজনৈতিক সচেতন ছিলেন আলী। ভিয়েতনাম যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যোগ দিতে না চাওয়ায় তার লাইসেন্স ও বিশ^ চ্যাম্পিয়ন খেতাব কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তারপরও তিনি নতি স্বীকার করেননি। এসব কারণে চার বছর খেলার বাইরে না থাকলে তার ক্যারিয়ার আরো সমৃদ্ধ হতো। ১৯৯৯ সালে বিবিসির জরিপে শতাব্দীর সেরা ক্রীড়াবিদ মনোনীত হয়েছিলেন আলী। ২০১৬ সালে ৭৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন এই কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ।


পেলে

ফুটবলের রাজা বলা হয় তাকে। ব্রাজিলের এই ফরোয়ার্ড ছিলেন ফুটবল দুনিয়ার প্রথম মহাতারকা। ১৯৪০ সালের ২৩ অক্টোবর ব্রাজিলের ত্রেস কোরাকোয়েস শহরের এক বস্তিতে জন্ম। পুরো নাম Edson Arantes Do Nascimento. (পর্তুগিজ উচ্চারণ এদসোঁ আরাঁচ দু নাসিমেঁতু)। তবে শৈশবেই সে বন্ধুদের কাছে পেলে ডাক নাম পায়। ১৫ বছর বয়সে ব্রাজিলের শীর্ষ ক্লাব সান্তোসে সুযোগ পাওয়ার পরের বছরই জায়গা হয় ক্লাবের মূল দলে। প্রথম মৌসুমেই লিগের সেরা গোলদাতার পুরস্কার ওঠে হাতে। পরের বছর সুযোগ হয় জাতীয় দলে।

জাতীয় দলের হয়ে পেলে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেন ১৯৫৮ সালে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ হ্যাটট্রিককারী হিসেবে নাম লেখান। ফাইনালেও স্বাগতিক সুইডেনের বিপক্ষে দুই গোল করেন। বিশ্বকাপের সিলভার বল, সিলভার বুট ও সেরা উদীয়মান ফুটবলারের পুরস্কার জেতেন।

১৯৭০ বিশ^কাপের ফাইনালেও তার গোলে চ্যাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। কখনো স্ট্রাইকার হিসেবে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে বল জালে জড়াতেন, কখনো প্লেমেকার হিসেবে গোল করাতেন সতীর্থদের দিয়ে। ৯৫ ম্যাচে ৭৭ গোল করে দীর্ঘদিন ছিলেন ব্রাজিলের পক্ষে সর্বোচ্চ গোলদাতা।

ক্লাব ফুটবলে টানা ১৮ বছর খেলেছেন সান্তোসে। জিতেছেন ২৫টি শিরোপা। ১১ বার হয়েছেন মৌসুমের সেরা গোলদাতা। ক্যারিয়ারের শেষ দিকে এসে দুই বছর খেলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব নিউ ইয়র্ক কসমসে। সেখানেও জিতেছেন দু’টি শিরোপা। ফিফার বিংশ শতাব্দীর সেরা ফুটবলার, টাইম ম্যাগাজিনের শতাব্দীর সেরা একশো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, অলিম্পিক কমিটি কর্তৃক শতাব্দীর সেরা ক্রীড়াবিদসহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন এই কিংবদন্তি।

ডিয়াগো ম্যারাডোনা

ফুটবলে পেলের সাথে সাথেই উচ্চারিত হয় ম্যারাডোনার নাম। এই দু’জনের মধ্যে কে সেরা সেটা নিয়ে বিতর্কও কম হয় না। জন্ম ৩০ অক্টোবর, ১৯৬০ সালে। আর্জেন্টিনার লানুস শহরে। ১৯৭৬ সালে ১৬তম জন্মদিনের ১০ দিন আগে পেশাদার ফুটবলে অভিষেক। আর্জেন্টিনার প্রিমিয়ার ডিভিশনের ইতিহাসে কম বয়সি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে রেকর্ড গড়েন।

১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে খেলতে নামেন আকাশি-সাদা জার্সি গায়ে। তার আগেই অবশ্য ওই সময়ের রেকর্ড ৫ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফিতে তাকে দলে ভেড়ায় এফসি বার্সেলোনা। তবে নাপোলি অধ্যায়টিই ম্যারাডোনার ক্লাব ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। ম্যারাডোনার নাপোলিতে যোগ দেওয়া ছিল ফুটবল বিশে^র একটি আশ্চর্যজনক ঘটনা। কারণ এর আগে কখনো লিগ শিরোপা জেতেনি। আগের মৌসুমে পয়েন্ট টেবিলের শেষের দিকে ছিল ইতালির নেপলস শহরের এই ক্লাবটি।

তবে ম্যারাডোনা আসার পরই ক্লাবটি গা ঝাড়া দিয়ে ওঠে। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে প্রথম লিগ শিরোপা জেতে। ৮৯-৯০ মৌসুমে দ্বিতীয় শিরোপা এনে দেন ‘আর্জেন্টাইন ফুটবল ঈশ^র’। মাঝখানের দুই মৌসুমে লিগে রানারআপ হয় নাপোলি। এছাড়া ১৯৮৭’র কোপা ইতালিয়া, ৮৯-এ উয়েফা কাপ এবং ৯০-এ ইতালিয়ান সুপার কাপ জেতান ক্লাবটিকে। মধ্যম সাড়ির একটি ক্লাব ম্যারাডোনার ছোঁয়ায় হয়ে ওঠে বিশ্বসেরা।

১৯৮৬ সালে বলতে গেলে একাই আর্জেন্টিনাকে ফুটবল বিশ্বকাপের শিরোপা জিতিয়েছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করেছেন বহুল আলোচিত দু’টি গোল ‘হ্যান্ড অব দ্য গড’ ও ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’। ফাইনালে বুরুচাগাকে দিয়ে করিয়েছেন জয়সূচক গোল।’ ৯০ বিশ্বকাপেও তুলেছেন ফাইনালে।

ড্রিবলিং, পাসিং, প্লেসিং কিংবা প্রতিপক্ষকে বোকা বানিয়ে বল নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া- যারা দেখেছে শুধু তারাই বলতে পারবে ম্যারাডোনা কেন সেরা ছিলেন। এতটা দর্শক উন্মাদনা আর কোনো ক্রীড়াবিদকে নিয়ে দেখা যায়নি ইতিহাসে। রাজনীতি নিয়েও প্রচণ্ড সচেতন ছিলেন ম্যারাডোনা। ফিলিস্তিনের নিপীড়িত মানুষের প্রতি তার ছিল ভালোবাসা। ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে জীবনের ‘শেষ বাঁশি’ শুনতে পান এই কিংবদন্তি।

ডন ব্রাডম্যান

ক্রিকেটের ডন তিনি। ব্যাট হাতে এমন কিছু করেছেন যা তার আগে-পরে আর কেউ করতে পারেনি। ক্রিকেট এখন এত গতি পেয়েছে, রানের বন্যা বইছে; কিন্তু ব্রাডম্যানকে ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি কারো পক্ষে। যে কারণে তাকে সর্বকালের সেরা ব্যাটার হিসেবে একবাক্যে স্বীকার করে সবাই।

ক্যারিয়ারে ৫২টি টেস্ট খেলেছেন ব্রাডমান। তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ১৯২৮ থেকে ১৯৪৮ পর্যন্ত। তখনকার যুগে বছরে ম্যাচ খেলা হতো হাতে গোনা কয়েকটি। তার ওপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ৭-৮ বছর খেলা বন্ধ ছিল। যে কারণে দীর্ঘ ২০ বছরের ক্যারিয়ারে ডনের টেস্ট ম্যাচ ৫২টিতেই থেমেছে; কিন্তু এই ৫২ টেস্টের ৮০ ইনিংসে তিনি সেঞ্চুরি করেছেন ২৯টি। ভারতীয় ব্যাটার শচিন টেন্ডুলকার ৩০তম টেস্ট সেঞ্চুরি করেছেন ১৫৯তম ইনিংসে। অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ স্মিথ করেছেন ১৬২তম ইনিংসে।

আবার সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে পরিণত করতেও ব্রাডম্যান ছিলেন সেরা। ২৯ সেঞ্চুরির ১২টিকেই তিনি নিয়ে গেছে দুইশোর ঘরে। ডনের ডাবল সেঞ্চুরি সংখ্যা ১২টি, যা এখনো ক্রিকেট বিশ্বের রেকর্ড বুকে এক নম্বরে আছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১টি কুমার সাঙ্গাকারার। সাঙ্গাকারা সেঞ্চুরি করেছিলেন ৩৮ বার।

ব্রাডম্যান ট্রিপল সেঞ্চুরি করেছিলেন ২ বার। (আরেকটি ইনিংস আছে অপরাজিত ২৯৯) ব্রায়ান লারা, ক্রিস গেইল ও বিরেন্দ্র শেবাগের দুটি করে ট্রিপল সেঞ্চুরি থাকলেও তারা প্রত্যেকে ম্যাচ খেলেছেন একশোর বেশি। কাজেই ব্রাডম্যান কেন সেরা- সেটা পরিসংখ্যান দেখেই বোঝা যায়।

ব্রাডম্যানের টেস্ট গড় ৯৯.৯৪। জীবনের শেষ ম্যাচে ব্যাট করেছিলেন এক ইনিংস। সেদিন মাত্র চার রান করতে পারলেই টেস্ট গড় একশো হয়ে যেত তার; কিন্তু শূন্য রানেই আউট হয়ে যান। তবু এই তালিকায় তিনিই ডন। কুমার সাঙ্গাকারার গড় ৫৭.৫৪, স্টিভ স্মিথের ৫৫.৮৬, জ্যাক ক্যালিসের ৫৫.৩৭, শচিন টেন্ডুলকারের ৫৩.৭৮, ব্রায়ান লারার ৫২.৮৮। ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটেও ডনের গড় ছিল ৯৫.১৪, যা সত্যিই অবিশ্বাস্য।

১৯০৮ সালের ২৭ আগস্ট জন্ম নেওয়া ব্রাডম্যানের ‘জীবনের ইনিংস’ শেষ হয় ২০০১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। 

ইমরান খান 

পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ী পেস বোলার আকিব জাভেদ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, লিডার তো অনেক হয়; কিন্তু ইমরান খানকে লিডার লেখার সময় ‘এল’ অক্ষরটা ক্যাপিটাল লেটারে লেখা উচিত। ইমরান খানকে নিয়ে তার টিমমেটদের মুগ্ধতা এখনো কতটা জীবন্ত- বোঝা যায় এই কথায়।

এমনই এক দলনেতা ছিলেন তিনি। সহখেলোয়াড়দের উদ্দীপ্ত করে খাদের কিনারে যাওয়া ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়তেন ইমরান। প্রতিটি খেলোয়াড়দের মনে এই বিশ্বাস ঢুকিয়ে দিতেন যে, তোমার প্রতিভা আছে, তুমি জিততে পারবে।

১৯৯২ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ওয়ানডে বিশ^কাপের শিরোপা জিতিয়েছেন পাকিস্তানকে। সেবার পাকিস্তান দলটি গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়বে বলে মনে হয়েছিল। একেবারে খাদের কিনারে যাওয়া সেই দলটা শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইমরান খানের অসাধারণ নেতৃত্বের গুণে।

ইমরান খানকে যখন ২০০৯ সালে আইসিসি তাদের ‘হল অফ ফেমে’ জায়গা দেয় তখন তাদের ওয়েবসাইটে ইমরান সম্পর্কে বলা হয়- ‘একজন যোদ্ধা, যে শেষ বল পর্যন্ত লড়ে গিয়েছে।’ ইমরান খানের বিশ^কাপ জয়ের প্রসঙ্গে বিবিসি লিখেছে, যিনি বিশ্বকাপের আগে ক্রিকেট ছেড়েই দিয়েছিলেন, সেই তিনিই দেশের প্রেসিডেন্টের ডাকে অবসর ভেঙে আবারো ফেরেন ২২ গজে। এরপর ধীরে ধীরে একটা ভাঙাচোরা দলকে বিশ্বকাপ মঞ্চে নিয়ে গিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে চ্যাম্পিয়ন করেন।

অলরাউন্ডার হিসেবেও ইমরান খান ছিলেন সেরাদের একজন। ব্যাট কিংবা বল- যে-কোনো একটাতে দলকে জেতানোর সামর্থ্য ছিল তার। ১৯৭১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া ইমরান টেস্ট খেলেছেন ৮৮টি। ব্যাট হাতে ৬ সেঞ্চুরিতে ৩ হাজার ৮০৭ রানের পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছেন ৩৬২ উইকেট। ১৭৫ ওয়ানডেতে ১ সেঞ্চুরিতে ৩ হাজার ৭০৯ রানের পাশাপাশি উইকেট নিয়েছেন ১৮২টি। ৮টি টেস্ট সিরিজে ম্যান অব দ্য সিরিজ পুরস্কার জেতার কৃতিত্ব আছে তার।

টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০ উইকেট ও ৩ হাজার রান আছে এমন অলরাউন্ডারের সংখ্যা ১০ জন। তবে তাদের বেশির ভাগেরই ম্যাচ সংখ্যা একশোর ওপরে। ইমরান খান ৮৮ ম্যাচ খেলেই এই রেকর্ড গড়েছেন। এছাড়া একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও ১০ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব আছে মাত্র তিনজন ক্রিকেটারের, তাদের একজন ইমরান খান।

উসাইন বোল্ট

সর্বকালের সেরা স্প্রিন্টার। স্প্রিন্টার বলা হয়- যারা অল্প দূরত্বের দৌড় প্রতিযোগিতা করেন। ১৯৮৬ সালে জন্ম নেওয়া এই স্প্রিন্টারের দেশ ক্যারিবীয় অঞ্চলের জ্যামাইকা। ক্যারিয়ারে মোট আটটি অলিম্পিক স্বর্ণপদক জিতেছেন বোল্ট (আসলে নয়টি)। এছাড়া ১০০ ও ২০০ মিটার একক এবং ৪০০ মিটার দলগত দৌড়ের বিশ^ রেকর্ড তার দখলে।

বিশে^র একমাত্র দৌড়বিদ হিসেবে টানা তিনটি অলিম্পিকে (২০০৮, ২০১২, ২০১৬) ১০০ ও ২০০ মিটার ইভেন্টে স্বর্ণপদক জিতেছেন। ৪০০ মিটার রিলে (দলগত) ইভেন্টেও টানা তিনটি অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জিতেছিল তার দল; কিন্তু দলের একজন সদস্য ডোপ টেস্টে পজেটিভ প্রমাণিত হওয়ায় ২০০৮ অলিম্পিকের এই পদকটি বাতিল করা হয়। যে কারণে বোল্টের নামের পাশে ৪০০ মিটারের দুটি স্বর্ণপদক লেখা রয়েছে। তবে মাঠের পারফরম্যান্সে তিনি তিনটিই জিতেছিলেন।

অলিম্পিক ছাড়াও ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ২০০৯ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত তিনটি ইভেন্টেই টানা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব রয়েছে বোল্টের। যে কারণে চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল পুরুষ খেলোয়াড় তিনি। সব মিলে ১১ বার দৌড়ে বিশ^ চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তিনি।

আধুনিক রেকর্ড সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে বোল্ট পৃথিবীর দ্রুততম মানব। ৯.৫৮ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড় শেষ করার বিশ^ রেকর্ডটি তিনি ২০০৯ সালে গড়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ডটিও (৯.৬৩ সেকেন্ড) তার দখলে। ১৯.১৯ সেকেন্ডে ২০০ মিটার দৌড় শেষ করার বিশ^ রেকর্ডের মালিকও তিনি।

২০১৭ সালে এই কিংবদন্তি অ্যাথলেট পেশাদার ক্রীড়াজগৎ থেকে অবসরে যান।

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ