গুনাহ মাফের রোজা

হাদীসের আলো বিলাল হোসাইন নূরী মার্চ ২০২৫

ঈদে বাড়ি ফেরার কথা মনে হলেই মনটা কেমন সবুজ হয়ে যায়। কলাপাতার মতো সবুজ। রাশি রাশি সুখ জমতে থাকে হাসিবের শীতল অনুভবে। এ সুখ যেন শীতসকালের রুপা রুপা শিশির কণা। তবে সবসময়ের চেয়ে এবারের আনন্দটা আরও বেশি। কারণ রমজানের শুরুতেই তারা বাড়ি ফিরেছে। তাই পথে কোনো ঝামেলা পোহাতে হয়নি। আবার বেশিদিন ধরে বেড়ানোরও সুযোগ থাকছে- এ যেন সোনায় সোহাগা ঈদ!

শহরের চেয়ে গ্রামে এসে রোজা রাখতেও ভীষণ ভালো লাগছে হাসিবের। সাহরিতে কার আগে কে উঠতে পারে এমন প্রতিযোগিতা চলে প্রতিদিনই। আর ইফতারের সময় তো ঈদের হাট বসে। দাদা-দাদু, ভাই-বোনদের নিয়ে এমন উৎসবমুখর রোজা খুব কমই পেয়েছে সে।

এদিকে হাসিবদের দেখতে চলে এসেছে নানা-নানুও। সাথে ছোটোমামা তো আছেই। হাসিবকে আর থামায় কে? মামাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে ঘর থেকে। সাথে একঝাঁক কিশোরসেনা। অনেক সময় ধরে তাদের কোনো খোঁজ-খবর নেই। সবাই তো পেরেশান। বাবা বের হলেন একদিকে। দাদাও অন্যদিকে খুঁজছেন তাদের। না, নেই। কোথাও না পেয়ে ফিরে এলেন তারা। মা তো কেঁদেই ফেললেন। নানু বললেন, আরে থামো তো! দেখবে একটু পর ঠিকই ফিরে আসবে সবাই।

নানুর কথাই সত্যি হলো।

দূরের এক মাঠে খেলতে চলে গিয়েছিল তারা। একেকজনের নাকে-মুখে ধুলোবালির অভাব নেই। বাবা তো রেগে আগুন হয়ে আছেন। হাসিবও ভয়ে জবুথবু। দাদা এগিয়ে এলেন। যাক, কিছুটা আশার আলো দেখতে পেল হাসিব। বাবাকে সরিয়ে দিয়ে দাদা বললেন, তোমাদের শরীরভরা ধুলোবালি দেখে ভালোই হলো।

দাদা কি উপহাস করছেন? মনে মনে ভাবছে হাসিব।

দাদা বলতে লাগলেন, তোমাদের দেখে একটা মূল্যবান কথা মনে পড়েছে আমার। একবার ফেরেশতা জিবরিল (আ) এসে নবীজিকে তিনটি কথা বললেন। সবগুলোর জবাবেই নবীজি বলেছেন- ‘আমিন’। তার মধ্যে একটি কথা হচ্ছে- ‘তার নাক ধুলোয় মলিন হোক (সে অপমানিত হোক), যে রমজান মাস পেল, অথচ তার গুনাহ মাফ হলো না।’ (আল আদাবুল মুফরাদ)

আচ্ছা, তোমরা কি রোজা রেখেছো সবাই?

সবাই ওপরে হাত তুলে একে একে বলতে থাকলো- আমি রোজা রেখেছি! আমি রোজা রেখেছি!

দাদা বললেন, শুধু না খেয়ে থাকার নামই রোজা নয়। রোজা রেখে মিথ্যা কথা বলা যাবে না। গিবত করা যাবে না। করা যাবে না ঝগড়াঝাঁটিও। আর নামাজ তো কোনোভাবেই ছাড়া যাবে না। তাহলেই হওয়া যাবে আসল রোজাদার। কি, তোমরা রাজি তো?

সবাই বললো, ইনশাআল্লাহ। দাদা বললেন, তাহলে এবার পাক-সাফ হয়ে সবাই আসর নামাজের জন্য তৈরি হও।

- বিলাল হোসাইন নূরী

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ