জনতার পাশে ক্রীড়াঙ্গন

খেলার চমক আবু আবদুল্লাহ অক্টোবর ২০২৪

তারকারা দেশ ও সমাজের কাছে অনুসরণীয়। বিশেষ করে তরুণ-কিশোর প্রজন্ম তাদের আইডল মনে করে বেড়ে ওঠে। তাদের চুলের স্টাইল, পোশাক, তাদের জীবনযাপন এসবই হয়ে ওঠে অনেকের কাছে প্রিয়। যে কারণে তারকা খেলোয়াড়রা সমাজ ও মানুষের মাঝে খুব দ্রুত প্রভাব বিস্তার করতে পারেন।

তাইতো দেশ ও সমাজের প্রয়োজনে তাদের ছোট্ট একটু ভূমিকাও কোটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে পারে। আর ব্যক্তিগত লাভ-লোকসানের হিসাব বাদ দিয়ে কিংবা ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে যারা দেশের প্রয়োজনের সময় এগিয়ে আসতে পারেন তারাই হয়ে ওঠেন প্রকৃত তারকা।

জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশ যখন শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচার গুলি চালাতে শুরু করে তখন ক্রীড়া জগতের অনেকেই শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। ক্যারিয়ার ও জীবনের ভয়কে তুচ্ছ করেই তারা এই সাহসের কাজটি করেছিলেন।

জাতীয় দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটার নুরুল হাসান সোহান বন্ধুদের সাথে বেশ কয়েকদিন রাজপথেও নেমেছিলেন বলে শোনা যায়। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি আর পুলিশের গুলির প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নামেন এই ক্রিকেটার। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক আকবর আলী ওই সময়ে ছিলেন অস্ট্রেলিয়া সফরে। তার নেতৃত্বেই অস্ট্রেলিয়ার একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে অংশ নিতে গিয়েছিল বিসিবির হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) স্কোয়াড। অস্ট্রেলিয়া থেকেই ফেসবুকে আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থন জানান আকবর। দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়েও সরকার বিরোধী আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ার মতো সাহস সবার থাকে না; কিন্তু বিশ্বকাপ জয়ী আকবর তো আর সবার মতো নয়। এই সাহসটা আছে বলেই হয়তো দেশকে যুব বিশ্বকাপ এনে দিতে পেরেছিলেন তিনি।

আরো অনেক ক্রিকেটার ও ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট মানুষ শিক্ষার্থীদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। বিকেএসপির তৎকালীন কোচ ও বর্তমানে ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক নাজমুল আবেদীন ফাহিমও প্রাণহানির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছিলেন। আগস্টের ২ তারিখ শিক্ষার্থীদের সমর্থনে একটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যত মৃত্যু  দেখেছি যত অত্যাচার দেখেছি ছাত্র ও সাধারণ মানুষের ওপর, সেটা একটা স্বাধীন দেশে গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি এ আন্দোলনের প্রথম থেকেই ওদের পাশে ছিলাম। আজ মাঠে এসেছি, ওদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি।’

আন্তর্জাতিক ধারাভাষ্যকার সৈয়দ আবিদ হোসেন সামি আহত শিক্ষার্থীদের জন্য রক্ত সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার ডাকে সাড়া দিয়ে একদল নবীন ক্রিকেটার রক্তদানের জন্য প্রস্তুত হয় দ্রুতই। এমনিভাবে আরো অনেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের। আবার অনেকে সরাসরি আন্দোলনে সমর্থন দিতে না পারলেও প্রাণহানির প্রতিবাদ করেছেন। তবে সেই দলে শামিল হতে পারেননি সবাই। যারা পেরেছেন তারাই আমাদের প্রকৃত তারকা।

আগস্টের ২০ তারিখ নেপালে অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গোল করেই জার্সির ওপর আলাদা একটি টি-শার্ট পরেন স্ট্রাইকার মিরাজুল। সাদা ওই টি-শার্টে কালো কালিতে লেখা ছিল, ‘মুগ্ধ এবং আবু সাঈদের স্মরণে/ মনে রেখো যুদ্ধ করে রক্ত দিয়ে দেশ পেয়েছি।’

আন্তর্জাতিক ফুটবলে যে-কোনো ধরনের বার্তাকেই ‘অপরাধ’ হিসেবে দেখা হয়। এ ধরনের বার্তা দিলে হলুদ কার্ড দেখাই নিয়ম। মিরাজুল হলুদ কার্ডের ঝুঁকি মাথায় নিয়ে জেনে-বুঝেই নিজের গোল উৎসর্গ করেছেন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দুই আলোচিত শহিদকে।

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ