প্রাচীন স্থাপনা জিগুরাত

বিজ্ঞান তারিক হোসেন মার্চ ২০২৫

ইরাকের প্রাচীন শহর উর। হাজার বছর আগে এখানে নির্মাণ করা হয় চোখ ধাঁধানো স্থাপনা জিগুরাত। মিসরীয়দের গর্ব যেমন পিরামিড, ঠিক তেমনি মেসোপটেমীয় সভ্যতার মানুষের গর্ব ছিল জিগুরাত। 

চার হাজার বছরের বেশ আগে মেসোপটেমীয় সভ্যতার কেন্দ্র ছিল অধুনা ইরাকের উর শহর। সে সময় মেসোপটেমিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী ছিল উর। যে শহরের প্রাণকেন্দ্রে ছিল জিগুরাত নামের এক স্থাপত্য। বয়সের ভারে যা আজ ন্যুব্জ। আধুনিক ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলে ধিকার প্রদেশের ধুধু মরুভূমিতে গেলে এই উর শহরের ধ্বংসাবশেষের দেখা মিলবে।

জিগুরাত শব্দটি এসেছে প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার জাকারু বা জাগারু শব্দ থেকে, যার অর্থ ওপরে ওঠানো। জাকারু থেকে পরবর্তীতে জিকুরাতু বা জিগুর শব্দটির উদ্ভব হয়, যার অর্থ উচ্চস্থানে নির্মাণ করা, পর্বতের চূড়া অথবা ওপরে উঠে যাওয়া স্থাপনা। আক্ষরিক অর্থেই জিগুরাতগুলো সুউচ্চ স্থাপনা, যাদের অধিকাংশের উচ্চতা ৫০ মিটার বা তার চেয়েও বেশি। সর্বোচ্চ ৯২ মিটার উচ্চতা বিশিষ্ট জিগুরাতেরও সন্ধান পাওয়া গেছে। 

কৃষিনির্ভর মেসোপটেমীয় সভ্যতা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা। ইরাক, কুয়েত এবং ইরান, সিরিয়া ও তুরস্কের অংশবিশেষ মেসোপমেটিয়া অঞ্চলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। 

আজ থেকে প্রায় ৫,০০০ বছর পূর্বে ফোরাত ও দজলা নদীর মধ্যবর্তী মেসোপটেমিয়ান অঞ্চলে শাসকশ্রেণির সাথে পুরোহিত শ্রেণির সূক্ষ¥ দ্বন্দ্ব চলছিল। সে সময়ের সমাজে পুরোহিতরা ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী। কাজেই মেসোপটেমিয়ার শাসকশ্রেণি নিজেদের পুরোহিতদের চেয়েও ধর্মের প্রতি অধিক নিবেদিত প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে হাতে নিয়েছিলেন এক বিশাল প্রকল্প। ছোট ছোট অসংখ্য ইট দ্বারা তারা তৈরি করেছিলেন সুউচ্চ ধর্মীয় স্থাপনা, জিগুরাত। প্রাচীন মেসোপটেমিয়ার প্রায় সবগুলো প্রধান শহরেই একটি করে জিগুরাত নির্মাণ হয়েছিল।

সবচেয়ে প্রাচীন জিগুরাত নির্মিত হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব ৩,০০০ অব্দের দিকে। সুমেরীয় শাসকরা জিগুরাত নির্মাণের প্রচলন করলেও পরবর্তীতে ব্যাবিলনীয় এবং অ্যাসিরীয় রাজাদের সময় জুড়েও এগুলোর নির্মাণ অব্যাহত ছিল। সর্বশেষ জিগুরাত নির্মিত হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দের দিকে। 

ইরাকের পাশাপাশি ইরানেও এর অংশবিশেষ খুঁজে পাওয়া যায়। এই স্থাপত্যটি মিসরের গিজার পিরামিডের থেকেও পুরোনো। যদিও পিরামিডের মতো সমতল আকারে এর গঠন হয়নি। সিঁড়িওয়ালা কয়েকটি তলের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে জিগুরাত। এর একেবারে ওপরে ওঠা যায়। উরের জিগুরাতের আশপাশে আধুনিক কোনো স্থাপনা নেই। শুধু জিগুরাতটির প্রবেশপথে শেকল লাগানো দরজা ও কংক্রিটে বাঁধানো পার্কিং লট আধুনিক যুগের জানান দেয়।

কালের বিবর্তনে অধিকাংশ জিগুরাত ধ্বংস হয়ে গেলেও ঊনবিংশ শতাব্দীতে মাটি খুঁড়ে ইরাক এবং ইরানের বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু জিগুরাতের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। এর বাইরেও প্রাচীন ইতিহাসবিদদের এবং সাহিত্যিকদের বর্ণনা থেকেও বিভিন্ন জিগুরাতের বিবরণ, নির্মাণের উদ্দেশ্য, কার‌্যাবলি প্রভৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে।

জিগুরাতগুলো দেখতে অনেকটা পিরামিডের মতো হলেও পিরামিডের সাথে এদের বেশ কিছু পার্থক্য আছে। জিগুরাতের অভ্যন্তরে পিরামিডের মতো কোনো প্রকোষ্ঠ নেই। অর্থাৎ জিগুরাতের অভ্যন্তর পিরামিডের মতো ফাঁপা নয়, বরং পর্বতের মতো নিরেট। নির্মাণ কৌশলের দিক থেকেও পিরামিডের সাথে জিগুরাতের পার্থক্য আছে। পিরামিডের মতো জিগুরাতের পৃষ্ঠ সমতল বা মসৃণ না, বরং একাধিক ধাপ বিশিষ্ট। পিরামিডের মতো জিগুরাত বিশালাকৃতির প্রস্তরখণ্ড দ্বারাও তৈরি করা হয়নি, বরং এগুলো তৈরি করা হয়েছে অসংখ্য ছোট ছোট ইট দ্বারা। 

শুরুতে ধারণা করা হতো, প্রাচীন মিসরের ফারাও সম্রাটদের শেষ বিশ্রামের স্থান পিরামিড। তবে সাম্প্রতিক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, পিরামিড তৈরির মূল লক্ষ্য ছিল এর মাধ্যমে ফারাওদের মৃত দেহের মমি সংরক্ষণ করে রাখা অন্যদিকে মেসোপটেমীয় সভ্যতার মানুষ প্রার্থনার স্থান হিসেবে জিগুরাত নির্মাণ করে। তাই পুরোহিতরাই শুধু জিগুরাতের ভেতর প্রবেশ করতে পারতেন, আর কেউ নয়। 

জিগুরাতের ভূমি সাধারণত বর্গাকার, আয়তাকার বা উপবৃত্তাকার হয়ে থাকে। অধিকাংশ বর্গাকার জিগুরাতের ভূমির বাহুর দৈর্ঘ্য মোটামুটি ৫০ মিটার এবং আয়তাকার জিগুরাতের দৈর্ঘ্য ৫০ মিটারের কাছাকাছি ও প্রস্থ ৪০ মিটারের কাছাকাছি হয়ে থাকে। যদিও বর্তমানে কোনো জিগুরাতই সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত অক্ষত নেই, কিন্তু বিভিন্ন বিবরণ থেকে সর্বনিম্ন দুই থেকে সর্বোচ্চ সাত ধাপ বিশিষ্ট জিগুরাতের সন্ধান পাওয়া গেছে। প্রতিটি ধাপের ক্ষেত্রফল তার নিম্নবর্তী ধাপের ক্ষেত্রফলের চেয়ে কম। প্রতিটি ধাপের ঢালু দেওয়াল এবং উপরস্থ চত্বর বিভিন্ন গাছপালা দ্বারা সজ্জিত থাকতো। মেসোপটেমিয়ার জিগুরাতগুলোর প্রতিটি ধাপ থেকে পরবর্তী ধাপে পৌঁছানোর জন্য একাধিক সিঁড়ির ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু ইরানের জিগুরাতগুলোতে নিচ থেকে চূড়া পর্যন্ত একটিমাত্র সর্পিলাকার র‌্যাম্প বা ক্রমশ ঢালু পথ ছিল।

জিগুরাতের অংশবিশেষ পরীক্ষার পর প্রত্নতত্ত্ববিদদের দাবি, দুই সারি বিশালাকার মাটির সিঁড়ির স্তরের ওপরে একটি উপাসনালয়কে ধরে রাখতো এই স্থাপত্য। জিগুরাতের সমতলকে ধরে রাখতে ৭২০,০০০টি কাদা-মাটির ইট ব্যবহার করা হয়েছিল। এক-একটির ওজন ছিল ১৫ কেজি। 

মেসোপটেমিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী উরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব কম নয়। মেসোপটেমিয়াতেই প্রথম কৃত্রিম সেচের মাধ্যমে ফসল ফলানো হয়। উরের মানুষ কৃষিকাজের জন্য খাল-বিল খনন করতো, যাতে জলপ্রবাহ ব্যাহত না হয়। ম্যাডালেনা রিউমারের মতে, কৃত্রিমভাবে সেচের কাজের ক্ষেত্রে মেসোপটেমিয়া ছিল অগ্রগণ্য। ইউফ্রেতিস নদীর পানি কৃষিকাজে ব্যবহার করতে খাল কেটে এর প্রবাহকে নিয়ন্ত্রিত করতেন উর শহরের বাসিন্দারা।

উর শহর ঐতিহাসিকভাবে অন্য কারণেও বিখ্যাত। খ্রিস্টপূর্ব ২১০০ সালে সুমেরীয় ভাষায় পাথরখণ্ডে লেখা বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন জ্ঞাত আইন কোড অব উর-নাম্মু মেসোপটেমিয়ার উর শহরে লেখা হয়। ব্যাবিলনের ঐতিহাসিক ২৮২টি বিধান নিয়ে লেখা হাম্মুরাবি কোড অব ল’সের ৪০০ বছর পর লেখা হয়।

উর শহরের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে পাওয়া ধ্বংসাবশেষের ওপর নির্ভর করে বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত যে, উরের জিগুরাতের মাথায় আকাশি নীল রঙের একটি উপাসনালয় ছিল। ৭ লাখ ২০ হাজারের বেশি মাটির ইট এই উপাসনালয়ের ভিত তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। চন্দ্র ও সৌর চক্রের ভিত্তিতে জিগুরাতের চারটি কোণ উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিমের দিকে মুখ করে নির্মাণ করা হয়। 

নাম্মু খ্রিস্টপূর্ব ২১০০ সালে জিগুরাতের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। এটির নির্মাণকাজ শেষ হয় তার ছেলে রাজা শুলগির আমলে। ততদিনে উর মেসোপটেমিয়ার উদীয়মান শহর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তবে খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর মধ্যে মরুভূমির অত্যধিক তাপ ও রুক্ষ বালির কারণে উরের জিগুরাত ধসে পড়ে। 

প্রায় ৫৫৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ব্যাবিলোনিয়ার সম্রাট নাবোনিদাসের আমলে জিগুরাতের সংস্কারকাজ শুরু হয়। তবে সে সময় তিনটির বদলে সাতটি সিঁড়ির সারি গড়েন সম্রাট নাবোনিদাস। তিনি জিগুরাতের মূল নকশায় পরিবর্তন এনেছিলেন। এর মধ্য দিয়ে ব্যাবিলনের সে সময়ের বিশালাকৃতির স্থাপনার তালিকায় উরের নতুন জিগুরাতের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। 

জিগুরাতের অংশবিশেষ যে এখনও তুলনামূলকভাবে অক্ষত রয়েছে, তার পেছনে সুমেরীয় কারিগরদের উদ্ভাবনী ক্ষমতাও যথেষ্ট কৃতিত্ব দাবি করে। এর স্থাপত্যের অংশবিশেষ আজও ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি মূলত তিনটি কারণে।

প্রথমত, জিগুরাতের ভেতরে অবাধে বায়ু চলাচলের সুবন্দোবস্ত রয়েছে। জিগুরাতগুলো নির্মিত হতো ইট দ্বারা। প্রাচীন মেসোপটেমীয়রা মাটিকে পবিত্রতম মৌলিক উপাদান হিসবে বিবেচনা করতো। জিগুরাতের অভ্যন্তরে ব্যবহৃত হতো সূর্যের তাপে পোড়া মাটির ইট, আর বাইরের শক্ত দেওয়াল এবং সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হতো আগুনে পোড়া মাটির ইট। একেকটি জিগুরাত তৈরিতে কোটি কোটি ইট ব্যবহৃত হতো। কিছু কিছু জিগুরাতের বিভিন্ন ধাপের দেওয়াল বিভিন্ন রংয়ের হতো। 

ভেতরে কাদামাটির ইট এবং বহিরঙ্গে রোদে পোড়া ইটের সারি- এভাবেই তৈরি এটি। ভেতরের কাদামাটির সারি আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। যার জেরে এই স্থাপত্য সহজেই ধ্বংসের মুখে চলে যেতে পারতো। তবে বহিরঙ্গের দেওয়ালে অসংখ্য ছিদ্রের মধ্যে দিয়ে সেই আর্দ্রতা দ্রুত বের হয়ে যায়। ফলে এই স্থাপত্যে দ্রুত ধ্বংসের মুখে যায়নি।

প্রকৌশলীদের এসব উদ্ভাবনী ক্ষমতার পরও শেষ রক্ষা হয়নি। ইউফ্রেতিস নদীর গতিপথে পরিবর্তন এলে একসময়ের সমৃদ্ধ শহর উর তার উজ্জ্বলতা হারাতে শুরু করে। শহরটিতে পানির অভাব দেখা দেওয়ায় তা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ে। শহরবাসী উর ছাড়তে শুরু করে এবং একপর্যায়ে এটি পরিত্যক্ত শহরে পরিণত হয়। সময় যত যেতে থাকে, বাতাসে ভেসে আসা মরুভূমির বালি ততই উরের জিগুরাতকে পুরোপুরি ঢেকে দিতে থাকে। 

গত শতাব্দীর বিশের দশকে ব্রিটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক স্যার লিওনার্ড উরে জিগুরাতের খননকাজ শুরু করেন। খননকাজ চলাকালে চারপাশের সমাধি থেকে সোনার ছোরা, খোদাই করা মূর্তি, বীণাসহ বেশ কয়েকটি জিনিস পাওয়া যায়। প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটির মাত্র ৩০ শতাংশ এখন পর্যন্ত খনন করা হয়েছে।

বর্তমানে খুব কম সংখ্যক জিগুরাতই তার অবিকৃত আকৃতি ধরে রাখতে পেরেছে। প্রত্নতাত্ত্বিকদের প্রচেষ্টায় সন্ধান পাওয়া জিগুরাতগুলোর মধ্যে আকারে সবচেয়ে বড়ো এবং সংরক্ষিত জিগুরাতগুলোর একটি হচ্ছে ইরানের চোগা জানবিল জিগুরাত। খ্রিস্টপূর্ব ৬৪০ সালে বহিঃশত্রুর আক্রমণে এটি ধ্বংস হয়ে যায়। এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ১০৫ মিটার এবং উচ্চতা ৫৩ মিটার, যদিও সম্পূর্ণ উচ্চতা এখন আর অবশিষ্ট নেই। 

আরেকটি সংরক্ষিত জিগুরাত হলো ইরাকের দি কার প্রদেশে অবস্থিত দ্য গ্রেট জিগুরাত অফ উর। ২,১০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে নির্মিত জিগুরাতটির দৈর্ঘ্য ৬৪ মিটার, প্রস্থ ৪৬ মিটার এবং উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার। বর্তমানে অবশ্য এর উচ্চতা মাত্র এক ধাপ পর্যন্ত অবশিষ্ট আছে, কিন্তু ভূমির ক্ষেত্রফল, জিগুরাতের গঠন, ইটের সংখ্যা প্রভৃতি হিসেব করে এই উচ্চতা নির্ণয় করা হয়েছে। 

দ্য গ্রেট জিগুরাত অফ উরের ইটগুলোর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ৩০ সেন্টিমিটার, উচ্চতা ৯.৫ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ১৫ কেজি। জিগুরাতটির শুধুমাত্র প্রথম ধাপের বহিঃস্থ দেওয়াল নির্মাণেই প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার ইট ব্যবহৃত হয়েছে। বর্তমানে এর মাত্র তিনটি ধাপ অবশিষ্ট আছে। 

১৯৮৫ সালে ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেন জিগুরাতটির সর্বনিম্ন ধাপের দেওয়াল এবং সিঁড়িগুলো সংস্কার করেছিলেন। 

২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের সময় তার নির্দেশে কিছু মিগ যুদ্ধবিমান জিগুরাতটির পাশে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল এই আশায় যে, আমেরিকানরা হয়তো এখানে বিমান হামলা করবে না। কিন্তু তার অনুমান ভুল ছিল, বিমানগুলো মার্কিন হামলা থেকে রক্ষা পায়নি। তবে যুদ্ধে জিগুরাতটির সামান্য ক্ষতি হলেও এটি এখনও প্রায় আগের মতোই দাঁড়িয়ে আছে।

দক্ষিণ-মধ্য মেসোপটেমিয়ার সুমেরিয়ান সভ্যতায় বর্ণিত চাঁদ এবং সূর্যের সময়চক্রের ছায়া দেখতে পাওয়া যায় জিগুরাতের স্থাপত্যে। এর চারটি কোণের প্রতিটি একটি কম্পাসের মতো এক-একটি দিককে চিহ্নিত করে। জিগুরাতের ওপরের স্তরে একটি বিশাল আকারের সিঁড়ি রয়েছে যেটি পূর্ব দিকে মুখ করে তৈরি করা হয়েছে।

উরের জিগুরাত সৌন্দর্য ও স্থাপত্যশৈলীর জন্য এটি বেশ সাড়া ফেলে। শুরু থেকেই এটি পিরামিডের মতো বেশ যতেœর সঙ্গে সংরক্ষণ করা হয়। নিঃসন্দেহে এখানে বহু অজানা ইতিহাস লুকিয়ে রয়েছে, যা এখনও খুঁজে বের করা হয়নি। তবে অনুসন্ধান এখনো অব্যাহত আছে। আশা করা যায় ভবিষ্যতে অনেক চমকপ্রদ তথ্য পাওয়া যাবে।

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ