ফুল-পাখির আসরে আল মাহমুদ ড. মোজাফফর হোসেন

ফুল-পাখির আসরে আল মাহমুদ ড. মোজাফফর হোসেন

স্মরণ ড. মোজাফফর হোসেন জুন ২০২৪

একটা পাখি একলা ডাকে একটা গাছে

সে পাখিটার নাম জানি না কোথায় আছে

গানের পাখি প্রাণের পাখি ডাক দিয়েছে

আমি কি আর ফিরতে পারি নিজের কাছে? 

(একটা পাখি একলা ডাকে)

মরমি এই চেতনার প্রকাশ যিনি ঘটিয়েছেন তিনি কবি আল মাহমুদ। অন্তমিল ছন্দের আত্মানুসন্ধানী লেখক তিনি। কিশোর উপযোগী কবিতায়ও তিনি খুঁজে ফেরেন নিজের আসল পরিচয়। তাঁর  প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মৌড়াইল গ্রামে। বাবার নাম আবদুর রব মীর, মাতা রওশন আরা মীর। আল মাহমুদের শিক্ষাজীবন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত। তিনি লিখেছেন দু’হাতে। কবিতা, প্রবন্ধ, ছোটোগল্প, উপন্যাস, আত্মজীবনী, কিশোর উপন্যাস, শিশুসাহিত্য ইত্যাদি সৃষ্টিকর্মে তিনি ছিলেন উদ্ভাসিত। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লিখেছেন। বাংলা ভাষা, বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য, বাংলার প্রকৃতি ও নিসর্গ, বাঙালির যাপিত জীবন, গ্রামীণ পুরুষ, শাশ্বত বাঙালি নারীর ইতিহাস সত্য সত্তা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন তাঁর  কাব্য সম্ভার। লোক লোকান্তর, কালের কলস, সোনালী কাবিন, মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো, অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না, বখতিয়ারের ঘোড়া, আরব্য রজনীর রাজহাঁস, প্রহরান্তের পাশফেরা, একচক্ষু হরিণ, মিথ্যাবাদী রাখাল, আমি দূরগামী, হৃদয়পুর, দোয়েল ও দয়িতা, দ্বিতীয় ভাঙ্গন, নদীর ভেতরে নদী, উড়ালকাব্য, না কোনো শূন্যতা মানি না, বিরামপুরের যাত্রী, তোমার জন্য দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী, বারুদগন্ধী মানুষের দেশে, তুমিই তৃষ্ণা তুমিই পিপাসার জল, সেলাই করা মুখ, পিপাসার বালুচরে, প্রেমপত্রপল্লবে, তোমার রক্তে তোমার গন্ধে, পাখির কথায় পাখা মেললাম, ছায়ার সঙ্গে মায়ার লড়াই, দেশের কবিতা, একি অশ্রু একি রক্ত, তোমার গন্ধে ফুল ফুটেছে, তোমাকে হারিয়ে কুড়িয়ে পেয়েছি ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থসমূহ  কবিতাপ্রেমী মানুষের কাছে এনে দেয়। এসব কাব্যগ্রন্থের কবিতা কবিকে চিনতে যেমন পাঠককে সাহায্য করে তেমনি পাঠকও কবিতা পড়ে নিজের সম্পর্কে পুনঃমূল্যায়নের সুযোগ পেয়ে থাকেন।

কবি আল মাহমুদ ইতিহাস-ঐতিহ্যের শেকড়সন্ধানী মানুষের সার্থক কবি ছিলেন। তিনি নিজের পরিচয়কে স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন কবিতার ভেতর দিয়ে। তিনি যেমন বাঙালি মুসলমানদের নৃতত্ত্ব খুঁজেছেন তেমনি  বাঙালি জাতিসত্তারও অনুসন্ধান করেছেন। তিনি খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন বাঙালির লুকিয়ে থাকা  গৌরব কোথায় রয়েছে। সেজন্য নাগরিক শঠতা কুড়াতে ধাবিত বাঙালি যখন নির্মল প্রকৃতিকে উপেক্ষা করে ছুটছেন নগরসভ্যতার  চোরাবালির দিকে তখনও কবি বাঙালিকে আবিষ্কার করছেন পাখিডাকা ভোরের শিশিরভেজা ঘাসে। কবি উবু হয়ে মুখ গুঁজে পড়ে থাকতে চান ভেজা ঘাসের নরম বিছানায়। সবুজ ঘাসে আচ্ছাদিত এই সতেজ গালিচা ও সিসামুক্ত বায়ুপ্রবাহের গ্রামবাংলার নিসর্গ কবিকে সবসময় মাতাল করেছে। শহুরে জীবনে বসবাস করেও কবি বারবার ফিরে গেছেন প্রকৃতিনির্ভর মাটিঘেঁষা বন্যাপ্লাবিত পলিধরা নদীনির্ভর জীবনের কাছে। সেখানে কবির শৈশব কেটেছে তিতাসের বালুচরে সাদা বকের ওড়াউড়ি দেখে। তিনি লিখেছেন-

‘আমার কেবল ইচ্ছে জাগে নদীর কাছে থাকতে

বকুল ডালে লুকিয়ে থেকে পাখির মতো ডাকতে

সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে কর্ণফুলীর কূলটায়

দুধভরা ঐ চাঁদের বাটি ফেরেস্তারা উল্টায়।

তখন কেবল ভাবতে থাকি কেমন করে উড়ব

কেমন করে শহর ছেড়ে সবুজ গাঁয়ে ঘুরব!

তোমরা যখন শিখছ পড়া মানুষ হবার জন্য

আমি না হয় পাখিই হব পাখির মতো বন্য। (পাখির মতো)

প্রকৃতির কোলে নিজেকে সঁপে দেওয়া কবি উপলব্ধি করেছেন এভাবে ‘সোনার বৈঠার ঘায়ে পবনের নাও যেন আমি/ বেয়ে নিয়ে চলি একা অলৌকিক যৌবনের দেশে’। গ্রাম, নদী, ক্ষেত, মাঠ বিস্তৃত কচি কলাপাতা ঘেরা জনবসতিকে কবি চিরযৌবনের দেশ মনে করেছেন। মাটির স্পর্শেই তো কবির বেড়ে ওঠা, মানুষ হওয়া, কবি হওয়া। যে গোত্র পেশির টানে মাটিকর্ষণ করে জন্ম দেয় নানান ফল-ফসল। সেই ফল-ফসলের স্বাদ, গন্ধে কবির জীবন পূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই গোত্রকে ভুলে থাকা যে কবির পক্ষে বড়ো বেশি বেমানান। কবিদের পারতে নেই বৃষ্টি¯œাত কাদামাটির আস্তরণে নিমজ্জিত শৈশবের আঁতুড়ঘর, উঠানের গলি, চাল কুমড়ার বরি, ঘরের চালা বেয়ে চুঁয়েপড়া আলতাজলে মাখানো পরিবেশকে ভুলে যাওয়া। যে মাটি, যে ক্ষেত, যে ফসল, যে বৃক্ষ, যে নদী, যে কলাবাগান, কৃষাণী, হাল, বলদ অনন্তকাল ধরে শহুরেদের খাদ্যের জোগান দিতে থাকবে সেই দীঘল মাঠ, উদোম কৃষক, হাড্ডিসার হালের বলদকে ভুলে থাকা যে নিজের অস্তিত্বকেই ভুলে থাকা, নিজেই নিজেকে অস্বীকার করা; কবি আল মাহমুদ সেটি উপলব্ধি করেছেন ক্ষণে ক্ষণে। সেজন্যই তিনি মাঠ, ক্ষেত, পাখিকে নিয়ে গর্ব করেছেন। গর্ববোধ করেছেন ক্ষেতের আল, বলদের পিঠে ওড়াউড়ি করা শালিক, হাঁটুপানিতে নেমে থাকা সাদা বক আর মাথার ওপরে মেঘে ঢাকা আকাশকে নিয়ে। সেজন্য তিনি বারবার ফেরেন শস্যশিল্পীদের আস্তানায়। কবি আল মাহমুদ লিখেছেন-

আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে

হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে

নদীর কাছে গিয়েছিলাম, আছে তোমার কাছে?

হাত দিও না আমার শরীর ভরা বোয়াল মাছে।

বললো কেঁদে তিতাস নদী হরিণবেড়ের বাঁকে

শাদা পালক বকরা যেথায় পাখ ছড়িয়ে থাকে।

জল ছাড়িয়ে দল হারিয়ে গেলাম বনের দিক

সবুজ বনের হরিৎ টিয়ে করে যে ঝিকমিক।

বনের কাছে এই মিনতি ফিরিয়ে দেবে ভাই

আমার মায়ের গয়না নিয়ে ঘরকে যেতে চাই।

কোথায় পাবো তোমার মায়ের হারিয়ে যাওয়া ধন

আমরা তো সব পাখপাখালি বনের সাধারণ।

সবুজ চুলে ফুল পিন্দেছি নোলক পরি না তো

ফুলের গন্ধ চাও যদি নাও হাত পাতো হাত পাতো।

বলে পাহাড় দেখায় তাহার আহার ভরা বুক

হাজার হরিণ পাতার ফাঁকে বাঁকিয়ে রাখে মুখ।

এলিয়ে খোঁপা রাত্রি এলেন, ফের বাড়ালাম পা

আমার মায়ের গয়না ছাড়া ঘরকে যাবো না। (নোলক)

 যৌবনে নগরজীবনের কোলাহলকে পরমাত্মীয় মনে হলেও জীবনসায়াহ্নে সেই কোলাহলকে স্বার্থপরই মনে হয়। তাই জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অনেককেই পাখিদের নীড়ে ফেরার মতো করে নগর-গঞ্জ ছেড়ে নাড়ীপোঁতা বিরানভূমির কোটরে আবাস গড়তে হয়। তবুও নগরবাসী নতুন অব্দে এসে বেমালুম ভুলে যায় নিষাদের গোত্র। সেকথা কবি তার  কবিতায় স্পষ্ট করেছেন। লিখেছেন-

আলো আঁধারির খেলায়

দাঁড়িয়েছি শেষ বেলায়

চোখের মুখে এসে পড়েছে তোমার কেশ

পাখিরা গাইছে বেলা শেষ, খেলা শেষ।

তবু যে কিসের গন্ধে উতলা মন

আমাকে টানছে ইশারায় অনুক্ষণ

আমিও চলেছি প্রবল হাওয়ার ঠেলায়

কোথায় চলেছি অদৃষ্টের কোন মেলায়।

জগৎ সংসারের নতুন অভিজ্ঞতা ধরা পড়েছে এই ‘নতুন অব্দে’ কবিতায়।

শিল্প-বাণিজ্যের নতুন পৃথিবীতে নতুন নতুন আবিষ্কারে যে সভ্যতা গড়ে উঠেছে সে সভ্যতায় অভ্যস্ত হয়ে মানুষ কৃষিসভ্যতাকে জঘন্য বলতেও কার্পণ্য করতে চাইছেন না। অথচ এখনো যে কৃষি, ধান, গম, আখ, ভুট্টা, মসুর, খেসারি, হাঁস, নারকেল মুগ, মুরগি, গরু, ছাগলের গুরুত্ব কমে আসেনি। মনীষীদের হাড্ডি-গুড্ডি, মাথা-মস্তিষ্ক, রক্ত-গোশত তৈরিতে যে কৃষিজ পণ্যের বিকল্প নেই সে কথাও নতুন দুনিয়ার বুদ্ধিবাদীরা অস্বীকার করতে চাইছেন। ঠিক অস্বীকার নয় কেমন যেন নাক সিটকানো মানসিকতায় তাচ্ছিল্য অবজ্ঞা-অবহেলা করছেন। অতীব প্রয়োজনীয় নিত্য ব্যবহার্য এইসব পণ্যের উৎপাদন প্রক্রিয়াতে নাকসিটকানোর অর্থ যে নিজের অস্তিত্বকে বিলীন করা সে কথা আজকাল কেউ স্মরণ করতে পারছেন না। কিন্তু কবি নিত্য তা স্মরণ করে চলেছেন। দুনিয়ার সকল মানুষ এই কৃষিজশিল্পকে অগ্রাহ্য করলেও কবি সসম্মানে তার কদর করতে ভুলতে চাননি কখনো। সে কারণেই তিনি দিনের শেষে একবার হলেও ধানের সোনালি খড়ের গাঁদায় কনুইতে ভর করে শুয়ে থাকেন। পরম মমতায় শুকনো খড়ের গন্ধ শোঁকেন।

আল মাহমুদের কবিতায় নিটোল নিসর্গ প্রকৃতি নদী, পাখি, ফুল লতাপাতা, বন-বাদাড়ি ধরা পড়েছে গদ্যছন্দে। কবির কবিতায় কৃষিনির্ভর মানুষ ও প্রকৃতির প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠেছে।

আল মাহমুদের কবিসত্তা ইতিহাসে সমৃদ্ধ। ইতিহাসকে বোঝার ও বিশ্লেষণ করার অসম্ভব দক্ষতা ছিল এই কবির। তাঁর রচিত সোনালী কাবিনের পরতে পরতে ইতিহাসের যে সন্নিবেশ লক্ষ্য করা গেছে সে গাঁথুনি বাংলা কাব্যসাহিত্যে বিরল। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েননি বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু অমাত্যগণ কবিকে ছোটো করার অপচেষ্টা  করেন কিন্তু কবির ইতিহাস চেতনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমাত্যগণকে ভাবিয়ে তুলতে বাধ্য করে। আল মাহমুদ  ইতিহাস স্মরণ করলেন কিশোরদের জন্য এভাবে-

ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ

দুপুর বেলার অক্ত

বৃষ্টি নামে বৃষ্টি কোথায়

বরকতের রক্ত।

হাজার যুগের সূর্যতাপে

জ্বলবে এমন লাল যে

সেই লোহিতেই লাল হয়েছে

কৃষ্ণচূড়ার ডাল যে।

প্রভাতফেরীর মিছিল যাবে

ছড়াও ফুলের বন্যা

বিষাদগীতি গাইছে পথে

তিতুমীরের কন্যা।

চিনতে না কি সোনার ছেলে

ক্ষুদিরামকে চিনতে?

রুদ্ধশ্বাসে প্রাণ দিল যে

মুক্ত বাতাস কিনতে?

পাহাড়তলীর মরণ চূড়ায়

ঝাঁপ দিল যে অগ্নি

ফেব্রুয়ারির শোকের বসন

পরলো তারই ভগ্নী।

প্রভাতফেরী প্রভাতফেরী

আমায় নেবে সঙ্গে

বাংলা আমার বচন, আমি

জন্মেছি এই বঙ্গে।

আল মাহমুদ নিজের পরিচয় খুঁজতে গিয়ে করতোয়ার তীরে পুণ্ড্রনগরে পৌঁছে যান, ঘুরাফেরা করেন কুমিল্লার শালবন বিহারে, খোঁজ করেন কারা এই নগর পত্তন করেছিল? কী তাদের পরিচয়? আত্মজিজ্ঞাসার এই পর্যায়ে কবি মনে করেন, এই বঙ্গে মহুয়ার ফল কুড়েছেন বহু জাতি কিন্তু বঙ্গকে ভালোবেসে স্থায়ীভাবে নিবাস গড়েছেন তাদের মধ্যে খুব কম জনই। কবি প্রত্নবঙ্গ খুঁজে যে পরিচয় পেয়েছেন তাতে খোঁজ মিলেছে কবির পূর্বপুরুষদের। তাঁদের আগমন ঘটেছিল  লোহিতাভ মৃত্তিকার দেশে। কবি উপলব্ধি করার চেষ্টা করেছেন কোনো যুগেই কোনো একটি সভ্যতা চিরস্থায়ী হতে পারেনি। ঈজিপ্ট, গ্রিস, সেরাসিন কোনো জনপদই সে সীমা অতিক্রান্ত করতে সক্ষম হয়নি। বঙ্গেও সেটিই হয়েছে। এখানেও কোনো কালে ছিল কেউ; পরেরকালে আবার এসেছে অন্য কেউ। সেজন্য সভ্যতার ভিড়ে কবি তাঁর নিজের পরিচয়কে স্পষ্ট করতে গিয়ে গোত্র নির্ণয় করে নিয়েছেন। কবি এই বঙ্গের প্রাচীন জনপদের খবরাখবর রেখেছেন। বঙ্গ জনগোষ্ঠীর পূর্বপুরুষগণ বা আদি পুরুষগণ কত শত বছর পূর্ব থেকে বঙ্গদেশে বসবাস করে আসছে কিংবা বসতি স্থাপন করেছিল তা সঠিকভাবে বলা খুব কঠিন হয়ে ওঠে। তবে বাংলাদেশের প্রত্নাঞ্চলগুলোতে প্রস্তর যুগ ও তা¤্রযুগের নিদর্শন পাওয়া গেছে সহজেই। সেসব প্রত্ননিদর্শন থেকে ধারণা করা হয়েছে, বঙ্গে প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই জনবসতি গড়ে উঠেছিল। এই প্রাগৈতিহাসিক কালে বঙ্গে বসতি স্থাপনকারী জনগোষ্ঠীই বাঙালির আদি পুরুষজাতি বলে অনেকের মনে হয়েছে। কবি আল মাহমুদের তুলনা অন্য কারোর সাথে দেওয়া যায় না। তিনি এক ব্যতিক্রমী কবি।

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ