ভিনগ্রহে প্রাণের হাতছানি
বিশেষ রচনা সরকার হুমায়ুন অক্টোবর ২০২৪
সৌরজগতের সমস্ত সৌন্দর্যের মধ্যমণি আল্লাহর সৃষ্টি আমাদের এই দুনিয়া। সাগর-নদী-পাহাড় আর জীববৈচিত্র্য ইত্যাদি সবকিছুই পৃথিবী নামক গ্রহের সৌন্দর্যের উপকরণ। এর স্থলভাগ, জলভাগ এবং মহাকাশ জুড়ে রয়েছে দু’পায়া মানুষের শাসন। ডলফিন-তিমিরা যেমন সাগর মহাসাগরে দাপিয়ে বেড়ায় তেমনি ডানা মেলে উড়ে চলে চিল এর দিগন্তে। সীমাহীন বিস্তৃত এর আকাশ। এই আকাশ আর মহাকাশ নিয়েই বিশাল এই দুনিয়া মহান আল্লাহ বানিয়েছেন। আল্লাহর এই দুনিয়ায় আমাদের সূর্যের মতো লক্ষ কোটি তারকা যেমন রয়েছে- তেমনি তারকাগুলোকে ঘিরে ঘুরপাক খাচ্ছে আমাদের পৃথিবীর মতো কোটি কোটি পৃথিবী। আমাদের জ্যোতির্বিদগণ টেলিস্কোপের চোখে চোখ লাগিয়ে নিরন্তর খুঁজে ফিরছেন পৃথিবীর মতো কোনো গ্রহকে। এই খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে তারা ইতোমধ্যে প্রায় ৫ হাজার টিরও বেশি গ্রহ আবিষ্কার করেছেন। যেগুলোর মধ্যে কিছু গ্রহ পৃথিবীর মতো। কোনোটির আকার পৃথিবীর তুলনায় বিশাল বড়ো আবার কোনোটি একেবারেই ছোট। কোনোটি গ্যাসের পিণ্ড; আবার কোনোটি বরফের পিণ্ড। আমাদের পৃথিবীর মতো মাটি- পাথরে তৈরি গ্রহও বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন।
এক্সোপ্ল্যানেটগুলো বিশেষত যেগুলো আকার আকৃতিতে পৃথিবীর মতো; এমন এক্সোপ্ল্যানেট আবিষ্কার সম্ভবত মহাকাশের সমস্ত আবিষ্কারের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয়। পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বে নক্ষত্রের চারপাশে ১০ সেপ্টিলিয়ন গ্রহ রয়েছে বলে অনুমান করা হয়েছে। এক সেপ্টিলিয়ন মানে একের পরে আরও ২৪টি শূন্য। সংখ্যাটি আমাদের মস্তিষ্ক বুঝতে পারে না। মস্তিষ্ক যা গুনতে পারে তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি গ্রহ রয়েছে মহাবিশ্বে। এটি ভাবতে অসম্ভাব্য লাগে যে, এই এত বড়ো মহাবিশ্বে আমরা একা!
এটা সত্যিই অবাক হওয়ার মতো বিষয়! যে মহাবিশ্বে ১০ সেপ্টিলিয়ন গ্রহ থাকতে পারে, সেখানে জীবন থাকার প্রশ্নে এত প্রতিকূলতা কী? সেপ্টিলিয়ন সংখ্যক গ্রহের কাছে এক কোটি এমনকি একশো কোটি তো হাতের নস্যি। সেখানে একটি মাত্র গ্রহ যেখানে জীবন আছে। এটি কেমন যেন এলোমেলো লাগে। অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়। যেন বঙ্গোপসাগরে শুধু ইলিশই আছে আর কোনো মাছ নেই। প্রদর্শিত দশ সেপিটিলিয়নের মধ্যে শুধু একটিতেই অথবা বেশি বা কম? কে জানে?
খুব অসম্ভাব্য যে, আমরা মানুষ একা আছি। এটাও সম্ভব নয় যে, খুব শিগগিরই আমরা আলোকবর্ষের বিশাল দূরত্ব পাড়ি দিয়ে এমনকি নিকটতম বুদ্ধিমান জীবনকেও জয় করতে পারবো। তবে এটি নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, এই মহাবিশ্বে অবশ্যই আমরা একা নই। মহাকাশের বিশালতা এবং সেখানে এক্সোপ্ল্যানেটের উপস্থিতিই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে যথেষ্ট।
শুধু মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে প্রায় ৫ বিলিয়ন পৃথিবীর মতো গ্রহ রয়েছে বলে অনুমান করা হয়।
যেখানে এক্সোপ্ল্যানেট রয়েছে সেখানে অবশ্যই এক্সোমুনও রয়েছে। এই এক্সোমুন (Exomoons) জীবনের জন্য প্রধান প্রার্থী হতে পারে। আমাদের সৌরজগতে প্রায় ৩০০টি চাঁদ রয়েছে।
সেই বিবেচনায় সমগ্র মহাবিশ্বে চাঁদের পরিমাণ অসীম বলে মনে হয়। সম্ভবত কিছু এক্সোমুনগুলোতে আকাশচুম্বী ভবনের চেয়ে লম্বা গাছপালাও রয়েছে।
নতুন গ্রহগুলোর ভরকে বিবেচনায় আনলে ধরে নেওয়া যায়- এর কোনো কোনোটির অভিকর্ষজ টান বা মাধ্যাকর্ষণ বল পৃথিবীর তুলনায় দ্বিগুণ শক্তিশালী। এই অভিকর্ষজ বল আর ভূ-চুম্বকত্বের প্রভাবে গ্রহগুলোতে বিরাজিত রয়েছে বায়ুমণ্ডল। এর তাপমাত্রা যেহেতু পৃথিবীর মতো। অতএব, বৃষ্টি-বর্ষা আর জীববৈচিত্র্যে হয়তো ভরপুর এই গ্রহগুলো। যদি জীববৈচিত্র্যের অস্তিত্ব থাকে তবে তা কেমন হতে পারে। পৃথিবীর মতো গাছপালা, লতাগুল্ম, পোকামাকড়, ফুল-প্রজাপতি, সরীসৃপ-স্তন্যপায়ী ইত্যাদি জীবজন্তু আর আমাদের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীও কি রয়েছে ওখানে? সম্ভাবনা সীমাহীন।
আমাদের সৌরজগতের বাইরে এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি গ্রহের অস্তিত্ব আবিষ্কার করা হয়েছে। এক্সোপ্ল্যানেটের সংখ্যার এই মাইলফলকটি ইতোমধ্যে অতিক্রম হয়েছে এবং নাসার এক্সোপ্ল্যানেট আর্কাইভ দ্বারা এই সংখ্যা রেকর্ড করা হয়েছে।
আর্কাইভকৃত প্রায় ৫ হাজার এক্সোপ্ল্যানেটের প্রায় অর্ধেক আকাশের একটি অঞ্চলে আবিষ্কৃত হয়েছে। টেস (TESS) মিশন আরও বেশি কিছু খুঁজে বের করার জন্য সমস্ত মহাকাশ জুড়ে ট্র্যাকে রয়েছে। সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকার কাছাকাছি প্রদক্ষিণ করছে। এক্সোপ্ল্যানেট সন্ধান করা মানবতাকে কেবল মহাবিশ্বের অন্য কোথাও জীবনের সম্ভাব্য বিস্তারকে আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করে না, বরং কীভাবে আমাদের পৃথিবী এবং সৌরজগৎ গঠিত হয়েছিল সেটিও অনুধাবনে নিয়ে আসে। আমাদের মন ও মস্তিষ্ককে কৌতূহলী করে তোলে।
আরও পড়ুন...