মোরা বড়ো হতে চাই

ক্যারিয়ার গাইডলাইন ড. আহসান হাবীব ইমরোজ জুন ২০২৫

সুপ্রিয় কিশোর-তরুণ বন্ধুরা! আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। তোমাদের গ্রীষ্মের তালপাকা গরম আর মৌ মৌ আম-কাঁঠালের শুভেচ্ছা। যদিও বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল তবে আম ফলের রাজা হিসেবে সমাদৃত। এ দেশে প্রায় ৩০০ জাতের আম পাওয়া গেলেও প্রধানত বাজারে আসে ১৫-২০ প্রকার। সেগুলো হচ্ছে : গোপালভোগ, ক্ষীরশাপাতি, হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি, আশ্বিনা, আ¤্রপালি, লক্ষ্মণভোগ, রানিপছন্দ, হাঁড়িভাঙা, বোম্বাই ইত্যাদি।

এত আমের গল্প করছি বলে কেউ ভেবো না যে, তোমাদের কিশোরকণ্ঠের ঠিকানায় আম পাঠাতে মন্ত্রণা দিচ্ছি। না সেজন্য আপাতত চিন্তিত হওয়ার দরকার নেই।

আমপর্ব শেষ করার আগে এটি মজার তথ্য দিয়ে রাখি; তোমরা যারা হাল জামানার জেন-জি, জেন-আলফা-এটি টোটকা হিসেবে তোমাদের কাজে লাগতেও পারে। দুনিয়ার আম-বিশেষজ্ঞরা বলেন, পাঁচ হাজার বছর আগে ভারতে প্রথম আমের জন্ম ও বিশ্বের ৪৫% আম ভারতেই উৎপাদিত হয়। তবুও মজার তথ্য হলো, এশিয়ার সর্ববৃহৎ আম গাছটি কিন্তু ভারতে নয়; বাংলাদেশে। 

কি বিশ্বাস হচ্ছে না? তাহলে খুলেই বলি, বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মান্ডুমালা নামক ছোট্ট গ্রামে ২২০ বছরের এই প্রাচীন সূর্যপুরী আমগাছটি অবস্থিত। বটগাছের মতো দানব আকৃতির এই আমগাছের উচ্চতা ৯০ ফুট। এটি প্রায় ১ একর জমির ওপর বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ফলের রাজা আম নিয়ে কিছু কথা হলো, এবার আমজনতা নিয়ে কিছু বলতে চাই।


যারা রক্ত-ঘামে দেশ গড়ে; তারাই কেন বেঘোরে মরে? 

গত ১৭ই এপ্রিল দিবাগত রাত। ঘড়ির কাটায় ৩টা। শাহজালাল ইন্টা. এয়ারপোর্টের ৮ নং গেট। বৈশাখের মৃদুমন্দ শীতল হাওয়া বহমান। এর মাঝে বরফশীতল আয়োজন নিয়ে ১১টি লাশবাহী গাড়ি সারি সারি আজদাহার মতো ওঁত পেতে আছে কফিনের অপেক্ষায়। দক্ষিণ-পশ্চিম দিগন্তে অষ্টাদশী চাঁদ যেন আকাশ নামক উনুনে আধখানা তন্দুর-রুটির মতোই লেপটে আছে। ফিনিক জোছনাতেও গোটা পঞ্চাশেক মানুষ তাদের পাণ্ডুর মুখ, বাক্সবন্দি স্বজনের মরদেহ গ্রহণের প্রহর গুনছে। 

এমনিতেই ২০১৬ থেকে ২০ এ পাঁচ বছর আমি মালয়েশিয়াতে ছিলাম। সে সময় আমি প্রবাসী শ্রমিকদের সাথে গভীরভাবে মিশেছি। দিনের পর দিন তাদের জীর্ণঘরে অতিথি হিসেবে থেকেছি। তাদের কষ্টের কান্না এবং দেশ ও স্বজনদের জন্য তাদের কলিজার বিশালত্ব মাপার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আজকে বিমানবন্দরের এই ৮ নং গেট আমাকে হতবাক করে দিলো।  

ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড (ডঊডই)-এর তথ্যানুসারে বিদেশ থেকে বাংলাদেশি অভিবাসীদের মৃতদেহের আগমন রেকর্ডসংখ্যক বেড়েছে। গত বছর ৪৮১৩টি মৃতদেহ এসেছে, যা ২০২৩ সালে প্রাপ্ত ৪৫৫২টির তুলনায় অনেক বেশি।

কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী এই ৮ নং গেট দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩টি লাশ দেশে আসে। বুধ থেকে শনিবার এ আগমনটা বেশি। গত বুধবারই এসেছে প্রায় ২৪টি লাশ। আজ রাত সাড়ে ১২টায় ওমান থেকে এলো ৪টি কফিন। ১টায় মালয়েশিয়ার মাস এয়ারলাইনসে এলো ৭টি বাংলাদেশির লাশ। 

এর মাঝে ৬১ বছর বয়সি আমার চাচা-শ্বশুর আবদুল কাদের বাবুলও ছিলেন। গত ২রা এপ্রিল সকালে তিনি মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। তিনি সুদীর্ঘ ৩০ বছর সৌদি আরব ও মালয়েশিয়ায় চাকুরি করে আসছিলেন। তিনি স্ত্রী, ২ কন্যা, ২ পুত্র ও ৪ নাতি-নাতনি রেখে গেছেন। 

নরসিংদী থেকে এসেছে ৩৫ বছর বয়সি এক ভাই, হয়তো কোনো মাদরাসার শিক্ষক হবেন। এসেছেন তার ৩১ বছর বয়সি ছোটো ভাইয়ের লাশ রিসিভ করতে। ছেলেটি ব্রেইন স্ট্রোকে মারা গেছে। শ্বশুরপক্ষীয় স্বজনদের আরও চাই- আরও চাই এমন প্রেসার নাকি ছিল। 

স্বজনদের সাথে আলাপে জানলাম, আগত লাশের অধিকাংশের বয়স ৩০ থেকে ৫০-এর ভেতর। সরকারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে গবেষণা হওয়া দরকার, কেন এই তরুণরা এভাবে চলে যাচ্ছে। প্রায় দেড় কোটি রেমিট্যান্স-যোদ্ধা বাংলাদেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড়ো কারিগর, অথচ তারাই আজ সবচেয়ে অবহেলায় নিপতিত।  

মানিকগঞ্জ থেকে এসেছে একজন; ২৬/২৭ বয়সি এক স্ত্রী, সাথে ৪/৫ বছরের কন্যা ও স্বজনেরা। তার স্বামীর লাশ যখন ভ্যানে তোলা হচ্ছে, তখন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হলো। 

তার আর্তচিৎকারে থমকে গেল সবাই; এমনকি বন্দরের সদাব্যস্ত পরিবেশ। স্ত্রী বলছে, আমাকে কফিনের সাথে এই বরফ-ভ্যানে উঠতে দাও! ওর সাথে (মৃত স্বামী) আমার অনেক কথা আছে-অনেক কথা! অনেক কষ্টে সবাই তাকে আটকাতে চেষ্টা করছে। 

রাত ১২টায় আমরা এসেছি। অতি ধীর বাংলাদেশি কায়দায় ব্যবস্থাপনা শেষে রাত প্রায় ৪টায় বাবুল কাকার কফিনটি বুঝে পেলাম। ছোটো চাচা-শ্বশুর হুমায়ুন পাথরের মতো স্থির, আমার স্ত্রী ও শ্যালিকা স্কার্ফ দিয়ে চোখের পানি সামলাচ্ছে। 

আমার স্ত্রীর শিশুকালে এই কফিনবদ্ধ বাবুল কাকাই তাকে বেশি কোলে-পিঠে রেখেছে। শেষ হয়ে গেল এক মহাকাব্যিক অধ্যায়। 

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আমাদের কাকার ত্রুটিগুলো মাফ করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় দেন। 

হুমায়ুন কাকার নেতৃত্বে কফিনবাহী গাড়িটি বিদায় করে আমরা যখন জসিমউদ্দীন রোড দিয়ে উত্তরায় ঢুকছি, তখন ফজরের আজান হচ্ছে।

সুমধুর আজানের মূর্ছনা আর শিস দিয়ে ওড়া ভোরের পাখির ডাক ছাপিয়ে আমার কেবলই কানে বাজছে, বাবাহারা সেই কন্যাশিশুটির অভিমানী কান্না আর অল্পবয়সি বধূটির বুকফাটা অস্ফুট আর্তনাদ-আমার যে ওর সাথে অনেক কথা আছে। 

হায়! সাত সাগর, তেরো নদীর দুপারে লক্ষ-কোটি বাবা-মা-সন্তান আর স্বামী-স্ত্রীর অব্যক্ত কান্না গুমরে মরে। হাজারো অবুঝ শিশু পিতার মায়াময় ছায়া ছাড়াই বেড়ে ওঠে অবহেলা আর অনাদরে। 

মহান আল্লাহ যেন আমাদের এই কোটি কোটি রেমিট্যান্স-যোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে প্রশান্তি ও বরকতের ছায়ায় স্থান দেন। তাদের প্রতি দেশ ও জনগণের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়ে দেন।

কিন্তু সবচেয়ে ভয়াবহ কষ্টের বিষয় হলো, সবার লাশ তো বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে না; হারিয়ে যায় মধ্যপ্রাচ্যের মরু-সাহারায়, থাইল্যান্ড বা বসনিয়ার গহিন অরণ্যে। আর সবচেয়ে ব্যাপকভাবে যেটি হচ্ছে, সেটি ভূমধ্যসাগরে ভেসে যাচ্ছে আমাদের গর্বিত তারুণ্য। লাশ না পাওয়া স্বজনদের বাঁধভাঙা কান্না আর কখনো থামে না!


ভূমধ্যসাগরে ভাসছে কেন আমাদের তারুণ্য?

পৃথিবীর অন্যতম ব্যস্ততম সাগর ভূমধ্যসাগর। এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপ মহাদেশের প্রায় ২২টি দেশ এর চতুর্পাশে; এর মাঝে কিন্তু বাংলাদেশ নেই। বাংলাদেশের দূরত্ব এ সাগর থেকে প্রায় ৭০০০ কিলোমিটার। কিন্তু মর্মান্তিক বিষয় হচ্ছে, প্রতি বছর যে পরিমাণ ইউরোপ অভিযাত্রী তরুণ এ সাগরে ডুবে মারা যায় বা হারিয়ে যায়, তার সিংহভাগ হচ্ছে বাংলাদেশি তরুণ। কিন্তু কেন? শুধু এখন নয়, শত বছর কিংবা হাজার বছর পরেও যখন কোনো প্রত্নতাত্ত্বিক সাগরের গভীরে কঙ্কাল বা জীবাশ্ম খুঁজে পাবে আর ডিএনএ টেস্ট করে জানবে এরা বাংলাদেশি। নিশ্চয়ই তারা তাজ্জব হবে আর হন্যে খুঁজবে এর উত্তর। 

গত ১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৫-এ প্রথম আলোসহ অনেক জাতীয় পত্রিকায় নিউজ হয়-লিবিয়ার উপকূলে ভেসে এলো ২০ মরদেহ। লিবিয়ার স্থানীয় রেড ক্রিসেন্টের ধারণা, এরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। দূতাবাস জানিয়েছে, পচে-গলে যাচ্ছিল তাই মরদেহগুলো লিবিয়ার আজদাদিয়া নামক একটি স্থানে সমাহিত করা হয়েছে।


বাংলাদেশের দামাল তারুণ্য মিলনদের বিয়োগান্ত যাত্রা 

২০০৫ সালের কথা। আমার এক স্কুলবন্ধুর ভাগনে, ফুটফুটে চেহারা নাম মিলন। সে যেমন প্রাণোচ্ছল তেমনি কর্মচঞ্চল। মামা মামা বলে ডাকত, আমরাও খুব ভালোবাসতাম ছেলেটিকে। একদিন শুনলাম তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। আঁতকে উঠলাম। জানা গেল, বন্ধুদের সাথে সে ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছিল। আজ ২০ বছর বাবা-মার চোখের পানি আর থামে না। তার কোনো খবর মেলে না। 

পত্রিকার পাতায় অনেক অভিযাত্রী তরুণের মর্মান্তিক খবর পাওয়া যায়। আবার হাজারো মিলন খবর ছাড়াই ঝরাপাতার মতো কালের গহ্বরে হারিয়ে যায়।  

দৈনিক কালের কণ্ঠ ২৯ জুলাই, ২০২৩ রিপোর্ট করে, ভূমধ্যসাগরে প্রতি বছর ৫০০ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। তথ্যের কিছুটা পার্থক্য থাকলেও সংখ্যাটা বেশি বই কম হবে না। 

আর লাশ নিখোঁজের ঘটনা তো অহরহ; যেমন একই পত্রিকার বলা হয়েছে : দালালের মাধ্যমে ইউরোপ যাচ্ছিলেন নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আব্দুল নবি (৩০)। পরিবার জানত, গত মার্চ মাসে সে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিচ্ছিল। এরপর আর কোনো খোঁজ নেই।

নবির সঙ্গে আরও ৯ জন যুবক নিখোঁজ হয়। দুই মাস পর জেলা প্রশাসন থেকে নবির পরিবারকে জানানো হয়, ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে সে মারা গেছে। এ দশজনের কারো লাশ আর মেলেনি।

বৃহত্তর সিলেট, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নোয়াখালী, কিশোরগঞ্জ, কুমিল্লা জেলা থেকে সবচেয়ে বেশি লোক ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছে। সম্ভবত মাদারীপুর এ ক্ষেত্রে চ্যাম্পিয়ন। বিপদসংকুল এ যাত্রায় আবার ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা দালালের হাতে তুলে দিচ্ছে একেকজন। খরচের পরিমাণ আরও বেশিও হয়। মাদারীপুরের ইয়াসিন বলেন, ‘লিবিয়ায় মাফিয়ার কাছে আটক ছিলাম। আমার পরিবার ঋণ, জমি বন্ধক ও আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার নিয়ে আমার মুক্তিপণ জোগাড় করে দালালদের মোট ২৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছে। এখন আমার পরিবারের আর কিছুই নেই।’

কিন্তু ওদিকে মৃত্যুর পরিমাণ দিনকে দিন বাড়ছেই, গত ২২ জুলাই, ২০২১ পত্রিকায় আসে : উত্তাল ভূমধ্যসাগরে প্রাণ গেল ১৭ অভিবাসন প্রত্যাশী বাংলাদেশির। তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে তিউনিশিয়ান কোস্টগার্ড। 

এই ভয়ংকর অভিযাত্রার কিছুটা বিবরণ পাওয়া যায় জাতীয় পত্রিকায় ২০২৪-এ কামরান রেজা চৌধুরীর লেখায়। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি তিউনিশিয়ার জলসীমায় ৩৪ বাংলাদেশিসহ ৫৩ অবৈধ অভিবাসী বহনকারী একটি ট্রলার ডুবে যায়। ওই ঘটনায় ৮ বাংলাদেশি নিহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান ২৬ জন, যাদের অধিকাংশই মাদারীপুর জেলার অধিবাসী।

নৌকার আরোহী মাদারীপুরের বুলু শেখ (৪০) বলেন, ‘রাত নয়টার দিকে আমাদের লিবিয়া উপকূলে নিয়ে যাওয়া হয়। সবাইকে ছোটো একটি নৌকায় উঠতে বাধ্য করা হয়।’ তিনি বলেন, ‘ওই নৌকায় সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ জন উঠতে পারে। সেখানে ৩৪ বাংলাদেশিসহ ৫৩ জন ছিলেন।’

বাংলাদেশি তরুণদের এই ভয়ংকর অভিযাত্রার ব্যাপকতা বোঝা যায় ২০২৪-এর এ নিউজ থেকে। লিবিয়া ও পার্শ্ববর্তী তিউনিশিয়া হয়ে ইতালি প্রবেশের চেষ্টাকালে আটক হয়েছেন কমপক্ষে ২৩০ বাংলাদেশি। এটিই সাম্প্রতিক সময়ে ইতালি প্রবেশকালে সবচেয়ে বড়ো আটকের ঘটনা। বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘তারা সবাই মানব পাচারকারীদের ১০ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকা দিয়েছে। আটকদের বেশির ভাগের বয়স ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে।’

তরুণদের এই ভয়ংকর অভিযাত্রা কতটা মর্মান্তিক হতে পারে রাতুলের ঘটনায় আমরা বুঝতে পারি। মানব পাচারকারীদের সহায়তায় গত বছর লিবিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানার রাতুল খালাসী। পুরো প্রক্রিয়ায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা খরচ হলেও ইতালি যাওয়া হয়নি তার, মারা গেছেন আলজেরিয়ার একটি মরুভূমিতে।

রাতুলের বড়ো ভাই সুমন খালাসী বলেন, ‘তার বাবা একজন কৃষক। চার ভাই-বোনের মধ্যে রাতুল সবার ছোটো। সে দালালদের প্ররোচনায় ইতালি যাওয়ার বায়না, কান্নাকাটি ও অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। এই অবস্থায় ইতালি পাঠাতে রাজি হন বাবা-মা।’

রাতুলসহ চার বাংলাদেশিকে তিউনিশিয়ায় পাঠিয়ে দালালরা একটি ঘরে আটকে রাখে। একসময় তিউনিশিয়ার পুলিশ রেইড দিয়ে তাদের আটক করে আলজেরিয়া সীমান্তের মরুভূমিতে ছেড়ে দেয়। আকাশ নামে এক বাংলাদেশির মাধ্যমে তারা জেনেছেন, মরুভূমিতে কোনো খাবার ও পানি না খেয়ে একটানা তিন দিন হাঁটার পর সেখানে পড়ে গিয়ে রাতুল মারা যান।

সঙ্গীরা রাতুলের লাশ মরুভূমিতে রেখেই চলে যায়। রাতুলকে ইতালি পৌঁছানোর জন্য এ পর্যন্ত সাড়ে ১৭ লাখ টাকা খরচ করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সাত কাঠা জমি ছিল। সেটি বিক্রি করেছি। আর সুদের ওপর ৯ লাখ টাকা ধার নিয়েছি। প্রতি এক লাখের জন্য প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা হিসাবে সুদ দিতে হয়। প্রতি মাসে ৯০ হাজার টাকা সুদের কিস্তি টানছি। দুই মাস ধরে সুদের কিস্তি দিতে পারি না।’

‘বাড়ির গরু বিক্রি করেছি। আমরা পথে বসে গেছি। এখন ছয় কাঠার বাড়িটুকু আছে। রাতুলও মরে গেল। আমাদেরও মেরে গেল।’ বলে কান্নায় ভেঙে পড়ে বড়ো ভাই সুমন।

কিন্তু কেন বাংলাদেশের তরুণদের এ মরণযাত্রা? পরিত্রাণের উপায় কী? এর উত্তর জানতে চোখ রাখতে হবে ‘শতাব্দী আজ ডাকছে তোমায়’ পরবর্তী লেখায়। হ


পরবর্তী পর্বগুলোতে থাকবে-

# কোন যোগ্যতায় সেরা কোম্পানির শীর্ষে ভারতীয় তারুণ্য?

# সফট স্কিল কাকে বলে? কেন তা জরুরি?

# আমরা আল্লাহর খলিফা কিন্তু সর্বত্র দুর্বল কেন?

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ