অলরাউন্ডার আরমান
ব্লগ আবু আবদুল্লাহ নভেম্বর ২০২৫
ক্রিকেটে অলরাউন্ডার বলা হয় যিনি একই সাথে দলের জন্য বোলিং, ব্যাটিং ও ফিল্ডিং করেন। তবে আজকে পরিচয় করিয়ে দেবো ভিন্নধারার এক অলরাউন্ডারকে। যিনি একই সাথে অ্যাথলেটিক্সের কয়েকটি শাখায় কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। পাশাপাশি সেবামূলক কাজ, ক্রীড়া প্রশিক্ষক, ক্রীড়া সংগঠক এবং ছাত্রনেতা হিসেবেও দারুণ দক্ষতা দেখিয়ে চলছেন। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র আরমান হোসেন। বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে বেশ পরিচিত মুখ। বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিজের এসব যোগ্যতা কাজে লাগিয়ে খেলাধুলার বিকাশে অনেকদিন ধরে কাজ করছেন তিনি। পাশাপাশি এ বছর অনুষ্ঠিত ছাত্রসংসদ নির্বাচনে (ডাকসু) ক্রীড়া সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন। লেখাপড়া ও খেলাধুলার পাশাপাশি নেতৃত্ব দেওয়ার গুণাবলিও রয়েছে তার মাঝে। সবকিছু মিলে তাই আরমান একজন পাকা অলরাউন্ডার।
আরমানের অনেকগুলো পরিচয়। ক্রীড়াঙ্গনে তার সবচেয়ে বড়ো পরিচয় একজন কারাতে খেলোয়াড় হিসেবে। জুডো ও কারাতের অত্যন্ত সম্মানজনক অর্জন ব্ল্যাকবেল্ট। ২০২১ সালে এটি অর্জন করেন তিনি। জুডোতে ব্ল্যাকবেল্টের প্রথম ড্যান ও কারাতেতে দ্বিতীয় ড্যান সম্পন্ন করেছেন। তিনবার ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় আন্তঃহল জুডো ও কারাতে প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। এ ছাড়া জাতীয় পর্যায়ের জুডোতে অংশ নিয়েছেন বেশ কয়েকবার। সেখানে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করেছেন আরমান। ফুটবল, ভলিবল ও হ্যান্ডবলেও সাফল্য আছে তার। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকে এই তিনটি খেলায় নিয়মিত দেখা গেছে তাকে। তিনটি খেলাতেই আন্তঃবিভাগ প্রতিযোগিতায় রানার আপ হয়েছে তার দল। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অ্যাথলেটিক্স ও ওয়াটার পোলোতেও আরমানকে দেখা যায় অংশ নিতে।
ছোটোবেলা থেকেই খেলাধুলায় প্রচণ্ড ঝোঁক ছিল আরমানের। সব খেলায় কমবেশি অংশ নিলেও জুডো-কারাতে তার মনে বেশি জায়গা করে নেয়। যে কারণে এই খেলাটা পেশাদারিত্বের লক্ষ্য নিয়ে শিখতে শুরু করেন। দ্রুত উন্নতিও করতে থাকেন। কয়েকটি ধাপ পার হয়ে ২০২১ সালে ব্ল্যাকবেল্ট অর্জন করার পর আরমান ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আত্মরক্ষায় সক্ষম করে তুলতে উদ্যোগ নেন। নিজে খেলার পাশাপাশি এক্ষেত্রে তিনি ক্রীড়া সংগঠক ও কোচের ভূমিকায় নামেন।
প্রতিষ্ঠা করেন জে কে কমব্যাট অ্যাকাডেমি, যেখানে ৮টি সেমিনারে আটশ’র বেশি শিক্ষার্থী আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এ ছাড়া বিশ^বিদ্যালয়ের মল চত্বরে ছাত্রদের জন্য ১৪ দিনের সেল্ফ-ডিফেন্স কোর্স পরিচালনা করেছেন। মেয়েদের হলে আয়োজন করেছেন ৭ দিনের সেল্ফ-ডিফেন্স ও ফিটনেস ট্রেনিং কোর্স। ব্যক্তিগতভাবেও অনেককে শরীরচর্চা ও আত্মরক্ষার কৌশল শিখতে সহযোগিতা করে আসছেন নিয়মিত। এসবের পাশাপাশি নিজে বিকেএসপি থেকে কোচ হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। আবার ফুটবল রেফারি হিসেবে সার্টিফিকেট অর্জন করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন থেকে।
খেলাধুলার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের সাথে জড়িত আরমান। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় জুডো ও কারাতে ক্লাবের সভাপতি তিনি। বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর-বিএনসিসি’র বিমান শাখার একজন সদস্য তিনি। সাফল্যের সাথে বিএনসিসির সিইউও ব্যাজ অর্জন করেছেন। এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাঁধন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে লাভ করেছেন ‘ডিউক অব এডিনবার্গ’ সম্মাননা। ব্রিটিশদের দেওয়া এই অ্যাওয়ার্ডটি পেতে ১৮ মাসের চ্যালেঞ্জে জিততে হয়। সামাজিক কার্যক্রম, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম ও ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে গোল্ড ক্যাটাগরিতে এই অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন আরমান। আবার পড়াশোনাতেও আরমান বরাবরই দারুণ করেছেন। এমন অলরাউন্ডার কজন পাওয়া যায়!
আরমান হোসেনের জন্ম যশোর জেলার ঝিকড়গাছা উপজেলায়। বাবা ইউসুফ আলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। শিক্ষাজীবনের শুরুতে আরমান স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দাখিল মাদরাসা থেকে পাস করার পর যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হন আরবি বিভাগে। সাফল্যের সাথে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করার পর এখন এমফিল অধ্যয়নরত। তার এমফিল গবেষণার বিষয় ‘আত্মরক্ষার কলাকৌশল’। পাশাপাশি ব্যাচেলর অব ফিজিক্যাল এডুকেশন ডিগ্রি নিয়েছেন আরমান।
নিজের ক্রীড়া দক্ষতা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান আরমান। সব শিক্ষার্থীকে খেলাধুলার সাথে সংযুক্ত করতে চান। তার বিশ^াস, খেলাধুলার সাথে থাকলে শিক্ষার্থীরা যেমন শারীরিক ও মানসিকভাবে ফিট থাকবে, তেমনই মাদকের ছোবল থেকেও বেঁচে থাকতে সহায়তা করবে।
আরও পড়ুন...