আজব ফুল ড্রাকুলা সিমিয়া
চিত্র-বিচিত্র পলক হাসান ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ফুলের সৌন্দর্য সবাইকে আকর্ষিত করে। তবে ফুলটি যদি দেখতে অবিকল কোনো প্রাণীর মতো হয়, তাহলে কেমন হবে! ফুলটি ড্রাকুলা সিমিয়া নামে পরিচিত। ল্যাটিন শব্দ লিটল ড্রাগন থেকে ড্রাকুলা শব্দটি নেওয়া হয়েছে। আর বানরের মুখের সঙ্গে মিলের কারণে সিমিয়া।
ড্রাকুলা সিমিয়া লুয়ার, যাকে বানর অর্কিড বা বানরের মতো ড্রাকুলাও বলা হয়, এটি একটি এপিফাইটিক অর্কিড। কলাম, পাপড়ি এবং ঠোঁটের বিন্যাস সব মিলিয়ে বানরের মুখের মতো। এটিই এই ফুলের বিশেষত্ব। যা তাকে অন্য সব ফুল থেকে আলাদা করেছে। প্রাণীর সাথে মিল হওয়ায় একে মাঙ্কি ফেসড অর্কিডও বলা হয়।
উদ্ভিদ বিজ্ঞানী লুইয়ার ১৯৭৮ সালে বানরমুখো অর্কিড আবিষ্কার করেন। অর্কিডটিতে যেকোনো ঋতুতে কলি আসে, ফুল ফোটে। সারা বছরই এই ফুল ফোটে।
শুধু আকৃতি নয়, এই অর্কিডের গন্ধও মানুষকে হতবাক করে দিতে পারে। একটি ফুল ফোটার পর সেখানে থাকে সুমিষ্ট গন্ধ। কিন্তু এই ফুলে কোনো ফুলের গন্ধ নয়; বরং পাওয়া যায় একটি পরিচিত ফলের গন্ধ। ফুলটি থেকে পাকা কমলা লেবুর গন্ধ পাওয়া যায়।
ড্রাকুলা সিমিয়া ফুল সব জায়গায় দেখতে পাওয়া যায় না। দক্ষিণ আমেরিকার পেরু ও ইকুয়েডরে পাওয়া যায়। এখন পর্যন্ত এর প্রায় ২০ টি প্রজাতি শনাক্ত করা হয়েছে। ফুলটি দেখতে যে শুধুমাত্র বানরের মতো, তা কিন্তু নয়। বানর যেমন গাছের মগডালে থাকতে পছন্দ করে, তেমনি বানরমুখো অর্কিডও মাটি থেকে উঁচুতে অবস্থান করে।
রংবাহারি এই অর্কিড সমতলে হয় না। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ থেকে ৩ হাজার ফুট উচ্চতায় পাহাড়ের গায়ের সবুজ বনানীতে এদের দেখা মেলে। মেঘে ঢাকা এলাকা, একটু স্যাঁতসেঁতে এমন পরিবেশে এই ফুল ফোটে।
ড্রাকুলা সিমিয়া অন্য গাছের গায়ে হেলান দিয়ে ফোটে। এরা কার্যত পরাশ্রয়ী উদ্ভিদ। এদের নিজেদের কোনো মূল মাটিতে প্রবেশ করে না। তাই গাছের ডালের গায়ে এদের দেখা মেলে।
তবে দেখতে কিছুটা আজব হলেও এর কিন্তু রয়েছে ভিন্ন এক সৌন্দর্য। এ ফুল মানুষের জন্য ক্ষতিকর না। অনেকেই শখের বসে টবে চাষ করে ড্রাকুলা সিমিয়া।
আরও পড়ুন...