এসো গড়ি স্বপ্নের দেশ

প্রচ্ছদ রচনা ড. রাশেদ আখন্দ জানুয়ারি ২০২৬

‘স্বপ্ন আমার পুণ্যভূমি বাংলাদেশের মাটি

জীবন দিয়ে গড়বো স্বদেশ রাখবো পরিপাটি।’ 


এই স্বপ্ন তোমার। এই স্বপ্ন আমার। এই স্বপ্ন বাবার। এই স্বপ্ন মমতাময়ী মায়ের। এই স্বপ্ন ভাইয়ের, বোনের, সকলের। এই স্বপ্ন বাংলাদেশের প্রতিটি দেশপ্রেমিক জনতার। যাদের হৃদয়ে দেশের মমত্ববোধ আছে তাদের সকলের স্বপ্নই এভাবে হৃদয় উঠোনে দোল খায়। চোখের কোনায় ভাসে। বুকের ভেতর ঝরনার মতো বইয়ে চলে। সেই স্বপ্নের নেশায় জীবনের প্রতিটি ধাপ পাড়ি দেয়।

দেশ গড়ার স্বপ্নযাত্রা

স্বপ্নের এই গতিময় ধারা বুকে বুকে জেগেছিল বলেই আমরা ব্রিটিশের দখলমুক্ত হয়েছি। ১৯৪৭ সালে পৃথিবীর মানচিত্রে ভেসে উঠেছিল পাকিস্তানের আজাদী। পঁচিশ বছর চেষ্টা করেছি দেশটাকে বৈষম্যের হাত থেকে বাঁচাতে। পারিনি। স্বপ্নের ফুল হয়তো তখনও ফোটেনি। তাইতো আবারো মুক্তির জন্য স্বপ্ন বুনেছি। একটি স্বপ্নফুলকে বাঁচাবো বলে আমরা অস্ত্র ধরেছি। যুদ্ধ করেছি। মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতার সংগ্রাম। স্বপ্নটা তরতাজা ছিল বলেই লাখো মানুষ জীবন দিয়েছে মুক্তির নেশায়। স্বপ্নটা স্বচ্ছ ছিল বলেই লাখো মা-বোন জীবনের সর্বস্ব হারিয়েও বিজয়ের হাসি হাসতে চেয়েছে। দীর্ঘ নয় মাসের ক্লান্তিময় সংগ্রাম শেষে আমরা পেয়েছি লাল-সবুজের বিজয় নিশান। স্বপ্নের বাংলাদেশ। 


স্বপ্নফুলে পোকার হাসি

স্বাধীনতা অর্জনে মিশে ছিল হাজারো স্বপ্নফুল। স্বপ্ন উঠোন সুবাসিত হবার আগেই আমরা হতাশার অন্ধকারে নিমজ্জিত হলাম। অনেকবার চেষ্টা করেও সফলতার ফুল ফোটেনি। ক্রমশ জগদ্দল পাথর এসে বুকে চেপেছে। ফুলের হাসি ফোটার আগেই পোকার উৎপাত বেড়েছে। কেড়ে নিচ্ছে অধিকার। তাইতো আবারো আন্দোলনের ডাক। এই ডাক বৈষম্যের বিরুদ্ধে। এই ডাক তারুণ্যের উচ্ছলতার স্লোগানে। এই স্লোগানে ছিল সাম্যের কথা। এই স্লোগানে ছিল সম্প্রীতির কথা। সমৃদ্ধির কথা। মেধা মূল্যায়নের যৌক্তিক দাবি। এই দাবি তারুণ্যের কণ্ঠ থেকে ছড়িয়ে গেল বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণের মুখে মুখে। কৃষকের মুখে। শ্রমিকের মুখে। খেটে খাওয়া সর্বসাধারণের মুখে মুখে। স্কুল-কলেজ-মাদরাসা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে মুক্তির আওয়াজ ওঠে। সেই আমন্ত্রণে জেগে ওঠে কৃষক। শ্রমিক। মুটে-মাঝি। অফিসের কর্মচারী। জেগে ওঠে শিক্ষক-অফিসার। সকলের মুখেই মুক্তির গান-উই ওয়ান্ট জাস্টিস। ন্যায্যতার মহাস্লোগান। অবশেষে নতুন সূর্য এলো। এলো চব্বিশের ছত্রিশ জুলাই। ক্যালেন্ডারে অলিখিত নতুন তারিখ।

জুলাই বিপ্লবের ফুল ফোটাতে বইতে হয়েছে রক্তনদী। ঝরাতে হয়েছে দুই হাজারের মতো তাজা প্রাণ। আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয়েছে প্রায় দুই লক্ষাধিক। স্বপ্ন শুধু ন্যায় ও ইনসাফের। স্বপ্ন মানবিক মূল্যবোধের। স্বপ্ন দুর্নীতিমুক্ত সুখী সমাজের। স্বপ্ন নিরাপত্তার। পাকিস্তানের পঁচিশ বছরে সে স্বপ্ন পূর্ণ হয়নি। সে স্বপ্ন পূর্ণ হয়নি বাংলাদেশের চুয়ান্ন বছরে। এবার চব্বিশের ছত্রিশ জুলাই সেই স্বপ্ন নতুন করে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে।

যে স্বপ্ন পৌনে একশ বছরে পূর্ণ হলো না সেই স্বপ্ন কি পূরণ করতে পারবে জুলাই ছত্রিশ? বিষয়টি কি এতই সহজ? তাহলে কেনই-বা ব্যর্থতার গ্লানি দীর্ঘদিনের? এমন প্রশ্ন অনেকের চোখে মুখে। অনেকেই আবার স্বপ্নকে বাস্তবমুখী মনে করেন। তাহলে কী সেই কারিশমা? হ্যাঁ, সেই কারিশমাটিক কথা নিয়ে এই আয়োজন।


স্বপ্নের দেশ গড়তে হলে

দেশটা একটি দেহের মতো। শরীরের প্রতিটি অর্গানোগ্রাম সচল থাকলে মানুষ সুস্থ থাকে। দেশটাও তাই। দেশের আত্মা হচ্ছে সার্বভৌমত্ব। দেশের আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগসহ প্রতিটি সেক্টরে ন্যায্যতা বিধান চাই। তাহলে সুস্থ দেহের মতো বাংলাদেশও সুস্থ ও সুখী সমৃদ্ধ থাকবে। বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করতে চাই। চাই ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে। তার জন্য চাই নৈতিক ও মানবীয় গুণাবলি সম্পন্ন নাগরিক। তাইতো কয়েকটি গুণ অর্জন করা অতীব জরুরি।


প্রথমত, জ্ঞানচর্চা ও বিজ্ঞানমনস্কতা

শিক্ষা জীবনের প্রধান শক্তি। তাইতো প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জ্ঞান অর্জন ফরজ করা হয়েছে। ইসলামের প্রথম নাজিলকৃত শব্দই হচ্ছে ইক্রা। এই ইক্রা মানে পড়ো। ইকরা বি-ইসমি রব্বিকাল্লাজি খলাক। পড়ো তোমার প্রভুর নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। সেই প্রভুর স্মরণকে ধারণ করেই সকল ধরনের জ্ঞানচর্চা করা মুসলমানের জন্য অপরিহার্য। শিক্ষা ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমানতালে এগিয়ে নিতে হবে। কুসংস্কার ও গুজব পরিহার করে যুক্তিবাদী ও বিশ্লেষণী ধারাকে শানিত করে জ্ঞানচর্চায় এগিয়ে যেতে হবে। সেইসাথে বিশ্বায়নের চিন্তাধারাকে বুকে ধারণ করতে হবে। আধুনিক জাহেলিয়াতের সমস্ত চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করা শিখতে হবে। প্রযুক্তি ও আধুনিক চিন্তাধারার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার যোগ্যতাও অর্জন করতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বেসরকারি সহযোগীদের সঙ্গে নিরন্তর কাজ করে এ বিষয়টি আরও বিস্তৃত করতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র পুরোপুরি ডিজিটাইজ ও বায়োমেট্রিক হলে সেবা প্রদান অনেক সহজ ও ত্বরান্বিত হবে। আইটি পার্কগুলো যথাযথ পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে। তাহলে সফটওয়্যার রপ্তানিসহ নানাভাবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের গতিকে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়া যাবে।


দ্বিতীয়ত, সততা ও নৈতিকতা 

সততা ও নৈতিকতা সম্পন্ন দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি উন্নয়নের প্রথম ধাপ। ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে সততা বজায় রাখতে হবে। সেই গুণসম্পন্ন জনশক্তি তৈরি করতে হবে। ন্যায়-অন্যায় বোঝার মতো বিবেকবোধসম্পন্ন মানুষ প্রয়োজন। তাহলে দুর্নীতি, ঘুষ ও অনিয়ম পালিয়ে যাবে। বিশ্বায়নের ঢেউয়ে বাংলাদেশেও চালু হয়েছে এসডিজি বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা। শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতার ঘোড়দৌড়। বিগত পতিত আওয়ামী সরকারের তথাকথিত ‘অলৌকিক উন্নয়ন’ প্রচারের অপর পৃষ্ঠায় আছে শুভংকরের ফাঁকি। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে নৈতিক মানসম্পন্ন নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হতে হবে। তাহলে সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশ উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় থাকতে পারত।


তৃতীয়ত, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ

দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন নাগরিক সুখী-সমৃদ্ধশালী দেশ গঠনের অন্যতম শর্ত। আল্লাহর ভয় থাকলে মানুষ অপরাধ করতে পারে না। দায়িত্ববোধ বাড়ে। বাড়ে কর্তব্যনিষ্ঠা। দেশের আইন, সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে সম্মান করতে বদ্ধপরিকর থাকবেন তিনি। শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে প্রত্যেক মানুষ তার নিজস্ব অবস্থান থেকে নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। দেশের স্বার্থকে নিজের স্বার্থ হিসেবে বিবেচনা করা শিখতে হবে।


চতুর্থত, শৃঙ্খলা ও আইন মেনে চলা

প্রতিটি কাজেরই নির্ধারিত নিয়ম আছে। নিয়মের বাইরে গেলেই বিপত্তি। শৃঙ্খলা ও আইন মেনে চলার মানসিকতা তৈরি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানবিক জীবনে এই গুণগুলো তৈরির জন্যই মূলত ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভকে নির্ণয় করা হয়েছে। কালিমার মাধ্যমে মহান আল্লাহর একত্ববাদ এবং জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা)-কে মডেল মহাপুরুষ হিসেবে গ্রহণ করার ওয়াদা নেওয়া হয়ে থাকে। সেইসাথে সালাত, সিয়াম, জাকাত এবং হজের মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ তৈরি হয়। পাশাপাশি সামাজিক শৃঙ্খলাবোধ তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর মধ্যদিয়ে মানুষ সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে শেখে। সেইসাথে সম্পদের বিশুদ্ধতা রক্ষা এবং সরকারি সম্পদকে নিজের সম্পদের মতো রক্ষা করার মানসিকতা তৈরি হয়।


পঞ্চমত, মানবিকতা ও সহমর্মিতা

মানবিকতা ও সহমর্মিতার মধ্যদিয়ে একে অপরের প্রতি দায়িত্ববান ও শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। দরিদ্র, অসহায় ও প্রান্তিক মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল অন্তর তৈরিতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা)-এর মতো আদর্শ মানুষকে মডেল হিসেবে সামনে রাখতে হবে। তিনি একদিকে যেমন মদিনা সনদের মাধ্যমে ধর্ম, জাতি ও মতভেদে সহনশীলতার স্বীকৃতি দিয়েছেন তেমনি প্রত্যেক নাগরিককে ঠিক সেই চারিত্রিক গুণে গুণান্বিত করে তুলেছেন। তার ফলেই মদিনা রাষ্ট্রে সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় রাখা সম্ভব হয়েছিল।


ষষ্ঠত, শ্রমের মর্যাদা ও পরিশ্রমী মনোভাব

‘পরিশ্রমে ধন আনে পুণ্যে আনে সুখ, আলস্য দরিদ্রতা আনে পাপে আনে দুঃখ।’ এমন প্রবাদ সব সময়ই প্রযোজ্য। শ্রমের মর্যাদা ও পরিশ্রমী মনোভাবাপন্ন মানুষ একটি সফল রাষ্ট্রের জন্য অনেক বেশি দরকার। সব ধরনের কাজকে সম্মান করা শিখতে হবে। যেকোনো কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করলেই কেবল উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। অলসতা পরিহার করে পরিশ্রমী হওয়ার মধ্যেই সফলতা। সেইসাথে দক্ষতা উন্নয়নে আগ্রহী হওয়া এখন বিশ্বায়নের প্রধানতম দাবি। বেসরকারি ও সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগের বিস্তৃতি ঘটাতে হবে। বাংলাদেশি নানা পণ্য ও সেবা ছড়িয়ে দিতে হবে। সাধারণ জনগণকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন উদ্যোগ বিকশিত করতে হবে। স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে এ রকম উদ্যোগ গড়ে তোলার সম্ভাবনা অফুরান। এতে আমাদের অর্থনীতি, সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারবে। আমাদের এই বিশাল জনসংখ্যার বড় একটি অংশ তরুণ। তারুণ্যের উৎপাদনশীল চিন্তাকে প্রাধান্য দিতে হবে। তাদেরকে দক্ষ ও সক্ষম মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের জন্য বিশ^ায়নের চাহিদা মোতাবেক উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী তৈরি করতে হবে।  


সপ্তমত, পরিবেশ সচেতনতা

বাংলাদেশে আমাদের আবাস। বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি আমাদেরই দায়িত্ব। আরও বেশি সচেতনতা দরকার। সচেতন নাগরিক দরকার। নদী, বন, বায়ু ও প্রকৃতি রক্ষায় সচেতন হওয়া। গাছ লাগানো দরকার। অপচয় না করে টেকসই জীবনধারা অনুসরণ করা দরকার। প্রয়োজন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করা। সব মিলিয়ে চিন্তা করা যে, আমি আমার জায়গাটা কেমন অবস্থায় রেখে যাচ্ছি! এমন নাগরিক তৈরি হলেই আমাদের আবাস সুন্দর থাকবে।


অষ্টমত, নেতৃত্ব ও সামাজিক অংশগ্রহণ

আমাদের চারপাশে যা আছে তাই নিয়ে আমাদের পরিবেশ। আমাদের সমাজ। আমাদের স্বপ্নবলয়। এই আঙিনাকে সুন্দর রাখার দায়িত্ব নিতে হবে আমাদেরকেই। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। বিদেশি দাতাদের ওপর আমাদের নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। আমাদের নিজস্ব সম্পদ ও বুদ্ধির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে হবে।  আমাদেরকেই নেতৃত্ব দিতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস ও নৈতিক মনোবল তৈরি করতে হবে। স্থানীয় ও জাতীয় উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে অংশগ্রহণের সদিচ্ছা থাকতে হবে। সামাজিক বিধিনিষেধগুলো জেনে-বুঝে মেনে চলার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। রাষ্ট্রের প্রতিটি দায়িত্ববান ব্যক্তিকে তার সাফল্য ও ব্যর্থতার জন্য জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।


নবমত, মাদক ও সন্ত্রাসকে রুখতে শেখা

মাদক মানবতাকে কবর দেয়। সুস্থতা বিনষ্ট করে। বিশুদ্ধতা কেড়ে নেয়। বিবেককে খেয়ে ফেলে। নিঃশেষ করে দেয় জীবন ও যৌবন শক্তি। সন্ত্রাসও ঠিক একই কায়দায় ভবিষ্যৎকে নষ্ট করে দেয়। খেয়ে ফেলে মানবিক মূল্যবোধ। মানুষের অধিকার কেড়ে নেয়। অন্যায়ের দিকে ঠেলে দেয়। সুন্দর দেশ গড়তে হলে মাদক এবং সন্ত্রাসকে গুডবাই জানাতেই হবে। তাইতো খারাপ সঙ্গ ছেড়ে ভালো বন্ধু বেছে নিতে হবে। খারাপ নেতার পক্ষ ছেড়ে ভালো নেতার পক্ষে সাপোর্ট দিতে হবে।

সর্বোপরি, বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করতে শুধু অবকাঠামো বা অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, প্রয়োজন নৈতিক, মানবিক, দায়িত্বশীল ও সচেতন নাগরিক। প্রয়োজন ভালো মানুষ। ভালো নেতা। ভালো প্রশাসক। ভালো সেনাবাহিনী। ভালো পুলিশ। ভালো কর্মকর্তা। ভালো কর্মচারী। ঘুষ, দুর্নীতিকে না বলা শিখতে হবে। বুকের ভেতর আল্লাহর ভয় জাগাতে হবে। মানবিক মন তৈরি করতে হবে।  এমন নাগরিকই পারে একটি উন্নত, শান্তিপূর্ণ ও সম্মানজনক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। চান্দাবাজি, ধান্দাবাজি থাকবে না। মাদক নেশা খারাপ পথে ডাকবে না। দখলদারি, চোরা কারবারি, ছিনতাই চুরি থাকবে না। আমরাই হব সেই স্বপ্নময় সুখী দেশ গঠনের সাহসী সৈনিক।

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ