চাঁদে বসবাসের স্বপ্ন নাসার আর্টেমিস প্রোগ্রাম

আইটি কর্নার টি এইচ মাহির এপ্রিল ২০২৬

পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। নিল আর্মস্ট্রং নামে এক নভোচারী চাঁদে পা রাখার পর চাঁদে পা দিয়েছেন আরও অনেক নভোচারী। চাঁদে গিয়েছে অনেক মানুষবাহী মহাকাশযান। শেষবার ১৯৭২ সালে নাসার মিশন ‘অ্যাপোলো ১৭’ অভিযানের মাধ্যমে চাঁদে পা রাখে মানুষ। তারপর আর মানুষবাহী আর কোনো অভিযান দেখা যায়নি। কিন্তু একবিংশ শতকে মানুষ আবার চাঁদে পা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চাঁদে বসবাসের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিও বাস্তবে রূপ দিতে পারে। চাঁদে গিয়ে ফিরে আসা নয়; বরং সেখানে মানুষের থাকার পরিকল্পনা করছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। 

প্রায় ৫০ বছর পর আবার চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে নাসা। তাই নাসার নতুন চন্দ্র অভিযান ‘আর্টেমিস’। চাঁদে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বসবাস করা, চলাচল করা, খাদ্য উৎপাদন করা, ঘাঁটি স্থাপন করার মতো কাজ করার পরিকল্পনা করছে নাসা। চাঁদে যাওয়ার বেশ বড়সড় পরিকল্পনাই করেছে নাসা। সংস্থাটির প্রকল্পে ২০-এর অধিক দেশ একসাথে যোগ দেবে। এই প্রকল্প শুধু মানুষকে চাঁদে নিয়ে যাওয়া নয়; বরং বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনাও করছে নাসা।


চাঁদে ফিরে যাওয়া

‘আর্টেমিস’ প্রজেক্টের অন্যতম লক্ষ্য চাঁদে আবার মানুষ পাঠানো। ১৯৭২ সালের পর আবার চাঁদে পা রাখবে মানুষ। তাই ধাপে ধাপে বিভিন্ন পরিকল্পনা করছে নাসা। আর্টেমিস প্রকল্পকে সাজানো হয়েছে ৪ ধাপে। আর্টেমিস ১, আর্টেমিস-২, এভাবে আর্টেমিস ৩, ৪ পর্যন্ত মিশন হাতে নিয়েছে নাসা। ইতোমধ্যে আর্টেমিস ১-এর মিশন শেষ হয়েছে। এটি ছিল নাসার নতুন শক্তিশালী রকেট এসএলএস বা স্পেস লঞ্চ সিস্টেম উৎক্ষেপণ করা এবং এর ডগায় ছিল স্পেসক্র্যাফট ওরিয়ন। ২০২২ সালের ১৬ নভেম্বর এটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন করা হয়। এটি ছিল মানুষবিহীন অভিযান। ২৫ দিনের অভিযানে এটি চাঁদের কক্ষপথে চল্লিশ হাজার মাইল পদক্ষিণ করে। এই অভিযানে ওরিয়ন মহাকাশযান মহাকাশে কতটুকু টিকে থাকতে পারে তা পরীক্ষা করা হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী আর্টেমিস-২ উড্ডয়নের দিনক্ষণ ঠিক হয়েছিল ২০২৫ সালে। কিন্তু পরে তা পিছিয়ে ২০২৬ সালে করা হয়। আর্টেমিস-২ হবে নভোচারীসহ রকেট উক্ষেপণ। চারজন নভোচারী চাঁদের চারপাশে উড়বেন কিন্তু অবতরণ করবেন না। এই অভিযানের লক্ষ্য চাঁদে ভবিষ্যৎ অবতরণ মিশনের জন্য নিরাপত্তা যাচাই করা। আর্টেমিস-২-এর পর নাসার পরবর্তী লক্ষ্য চাঁদের মাটিতে পা রাখা। এই মিশনের নাম আর্টেমিস-৩। ২০২৭-২৮ সালে আবার চাঁদে পা রাখতে পারবে মানুষ। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে প্রথমবারের মতো মানুষ পা রাখবে। চারজন নভোচারী এই মিশনে অংশ নেবেন। সেখানে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে। সবশেষ চাঁদে বসতি স্থাপনের জন্য নাসার মিশন আর্টেমিস-৪। এই অভিযানে নাসা চন্দ্র কক্ষপথে লুনার গেটওয়েগুলো একত্রিত করবে। চাঁদে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি থাকার ব্যবস্থা করবে।


চাঁদে বসবাস

আর্টেমিস-৪ মিশনের মাধ্যমে নাসার চন্দ্র বসতি অভিযান শুরু হবে। নাসার মতে, ২০৩০ সালের মধ্যেই চাঁদে বসবাস করতে পারবে মানুষ। চাঁদে বসবাসের জন্য ‘আর্টেমিস বেস ক্যাম্প’ নামে একটি আবাসস্থলের কথাও চিন্তা করেছে নাসা। এতে চারজন নভোচারী একত্রে থাকতে পারবেন। ২০১৬ সাল থেকে এর নকশা নিয়ে কাজ করছে নাসা। প্রাথমিকভাবে এই বেস ক্যাম্প অস্থায়ী হবে। যেসব নভোচারী চাঁদে গবেষণার জন্য যাবেন তারা সেখানে থাকবেন। যেহেতু চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে নভোচারীরা প্রথমবারের মতো যাবেন, তাই সেখানকার সম্ভাব্য পানি নিয়ে গবেষণা হতে পারে। চাঁদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির জন্য সৌর প্যানেল ও ছোট পারমাণবিক চুল্লি স্থাপনের পরিকল্পনাও আছে। চাঁদের কক্ষপথে লুনার গেটওয়ে নামক মহাকাশ স্টেশনও স্থাপন করা হবে। যাতে নভোচারীরা চাঁদে প্রবেশের আগে এখানে থাকতে পারেন। এভাবে একদিন হয়তো চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি বসতিও স্থাপন করতে পারবে মানুষ।

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ