চালাক হরিণ ও শিকারির গল্প
অনেক অনেক দিন আগের কথা। হিজলগাঁও নামক ছোট্ট গ্রামের জঙ্গলে একটা হরিণ থাকত। সে খাবারের খোঁজে জঙ্গলে এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়াত। একদিন বনে ঘোরাফেরা করার সময় সে বন্য গাছের নিকটে কিছু পাকা ফল দেখতে পেল। ফলগুলো মাটিতে পড়েছিল। হরিণ পাকা ফল খেতে শুরু করল। ফলগুলো ছিল খুবই মিষ্টি ও সুস্বাদু। সেদিন থেকে অন্যদিকে খাদ্য খোঁজা বন্ধ করে দিলো। সে প্রতিদিন গাছের নিকটে আসত। ফল খেতো। যতক্ষণ না তার পেট পুরো ভর্তি হতো। এভাবে হরিণটির সুখের দিনগুলো ভালোভাবে কেটে যাচ্ছিল। একদিন এক শিকারি এলো বনে। শিকারির নজরে পড়ল হরিণ। সে ভাবল, হরিণটি ধরে বিক্রি করলে অনেক অর্থ উপার্জন করা যাবে। হরিণটিকে ফাঁদে ফেলার জন্য ভাবতে লাগল সে।
শিকারি একটি উঁচু মাঁচা তৈরি করল গাছের মাথায়। নিচে জাল পাতল। এরপর উদ্বিগ্ন হয়ে অপেক্ষা করতে লাগল হরিণটির জন্য।
পরের দিন হরিণ আবার যথাস্থানে চলে এল। গাছের নিকটে যাওয়ার আগেই সে সাবধানতার সাথে চারপাশ দেখে নিতে লাগল। সে দেখতে পেল, মানুষের পায়ের ছাপ। সতর্ক হয়ে গেল হরিণ। বুঝতে পারল, কাছাকাছি কোনো শিকারি লুকিয়ে আছে।
এদিকে গাছের ডালে লুকিয়ে থাকা শিকারি চিন্তা করতে লাগল, হরিণ কেন গাছের নিকট আসছে না? সম্ভবত হরিণ আজ মাটির ওপর পড়ে থাকা পাকা ফলগুলো দেখতে পায়নি।
শিকারি গাছ থেকে কিছু পাকা ফল পাড়ল। ফলগুলো ছুঁড়ে দিলো হরিণের দিকে। শিকারি পাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকলেও হরিণ তাকে দেখে ফেলল। চালাক হরিণের মাথায় নতুন বুদ্ধি খেলে গেল এবার। সে চিৎকার করে বলতে লাগল, “ওহে ফলগাছ, তুমি কেন তোমার সুস্বাদু ফলগুলো মাটিতে ফেলার পরিবর্তে আমার দিকে ছুঁড়ে দিচ্ছ? তোমার আচরণ আমাকে আঘাত করেছে দারুণভাবে। তাই এখন থেকে আমাদের সম্পর্ক আর আগের মতো থাকল না।’
এটা বলে হরিণটি বন ছেড়ে দৌড়ে পালাল। বেচারা শিকারি হতাশায় তার মাথায় হাত বোলাতে থাকল।
আরও পড়ুন...