চোরের দোয়া
রম্যগল্প মোহাম্মদ লিয়াকত আলী মার্চ ২০২৬
বাদল ছেলেটা খারাপ না। তবে মাঝে মাঝে মাথায় ইবলিশ শয়তান ভর করে। তখন আজেবাজে কথা বলে আর মানুষের বকা খায়। বকাঝকা খেয়ে কান ধরে স্যরি বলে। বন্ধুরা পরামর্শ দেয়-শুধু স্যরি বললেই হবে না, আল্লাহর কাছেও ক্ষমা চাইতে হবে।
‘আল্লাহ, আই অ্যাম ভেরি স্যরি।’
‘আরে বোকা, আল্লাহকে স্মরণ করার ভাষা আলাদা। তাওবা ও ইসতিগফার করতে হয়।’
চাপ দিলে ভুল মেনে নিলেও একটু পরেই ভুলে যায় সে। শুরু হয় আবার উলটো-পালটা কাজকাম।
হঠাৎ একটা জিন্সের প্যান্ট কেনার শখ হলো তার। পোশাক তৈরির কারখানায় জিন্সের লুঙ্গি তৈরি হয় না। শার্ট, প্যান্ট, টুপি, সবি আছে। কিন্তু এসব পরে তো ঘুরে বেড়ানো যাবে না। লোকে খ্যাত বলবে।
প্যান্টের দাম কত, সে সম্পর্কে কোনো আইডিয়া নেই বাদলের। তবে এই আইডিয়া সবার আছে, দোকানের চেয়ে ফুটপাতের এবং অর্ডার দিয়ে বানানোর চেয়ে, রেডিমেড মালের দাম কম।
ফার্ম গেট বাস স্ট্যান্ডের পাশের ফুটপাত গ্রিলের রেলিং ঘেরা। রেলিং দখল করে রেখেছে কাপড় ব্যবসায়ীরা। বাদল ঘুরে ঘুরে খুঁজে বের করে পছন্দের প্যান্ট। ‘এইডার দাম কত?’
‘আপনার কোমর কত?’
‘আমি কি কোমর বেঁচতে আইছি?’
‘কোমরের সাইজ জিগাইছি।’
‘আপনার হাতে তো ফিতা আছে, মাইফা দেহেন।’
মাস্টার টেইলারের ভাব নিয়ে কোমর ও হাইট মেপে বলে, ‘খাপে খাপে মিলে গেছে। লইয়া যান। খাইয়া মজা পাইবেন।’
‘প্যান্ট কি খাওয়ার জিনিস?’
‘ঐ একই কথা। মাল ভালাই পাইছেন। বিসমিল্লাহ বইলা লইয়া যান।’
‘দাম কত?’
‘মুলামুলি করবেন? নাকি এক দাম কমু?’
‘ফুটপাতে মুলামুলি ছাড়া জিনিস কিনে কোন পাগলে?’
‘এক হাজার টেহা দেন।’
‘টেহা কি গাছে ধরে, ঝাড়ি দিলেই পড়ে?’
‘সাত শ টেহা দেন।’
‘এক ঠেলায় তিন শ কইমা গেছে। নামতে থাকেন।’
‘আপনেও উঠতে থাকেন। এক জায়গায় ঠেকবই।’
‘সাপ লুডুর মই পাইছি। তিন শ টেহা পাইবেন, দিলে দেন।’
‘লাস্ট দাম, পাঁচ শ টেহা, নিলে নেন।’
‘আমারও লাস্ট কথা, পাইবেন চার শ টেহা।’
‘বননির কাস্টমার ফিরাই না। দেন টেহা।’
‘পলিথিন ব্যাগে ভরে সামনে ধরতেই ঘটে নাটকীয় ঘটনা। ছোঁ মেরে ব্যাগটা নিয়ে পেছন দিকে ভোদৌড়। চোর চোর বলে পিছু নেয় দোকানি। চোরের দৌড় লাগাম ছাড়া। রিকশার সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যায় চিৎ হয়ে। জামার কলার ধরে টেনে তোলে দোকানি। ‘চোরের বাচ্চা চোর। চুরিই যদি করবি, এত দামাদামি করলি কেন?’
‘আপনার লস কমাইছি।’
‘মানেটা কী?’
‘ব্যবসা করেন, সোজা হিসাব বোঝেন না? এক হাজারের জাগায় মাত্র চার শ টেহা লস অইছে।’
‘আর বুইঝা কাম নাই। চেহারা ছুরতে তো চোর মনে অয় না। এই পচা কাম করলি কেন?’
‘কফালের দোষে। জিন্সের প্যান্ট পিনধনের শখ অইছিল। জন্মের মতো শখ মিডছে। গুষ্টি মারি জিন্সের।’
চোরের ওপর মায়া হয় দোকানির। ব্যাগটা হাতে দিয়ে বলে, প্যান্টটা বাকি দিলাম। যহন পারবি, শোধ করিস। খাইয়া দোয়া করিস।’
‘চোরের দোয়া কি কবুল অয়?’
‘চোর কি সারা জীবন চুরি করে? তাওবা কইরা ভালা অইয়া যা। ভালা অইতে তো টেহা লাগে না।’
আরও পড়ুন...