ইংরেজি শেখা অনেক সহজ
ক্যারিয়ার গাইডলাইন ফাহিম হাসান মে ২০২৬
তোমাদের অনেকের কাছেই ইংরেজি ভাষা কখনো কখনো খুবই কঠিন মনে হয়। তোমাদের কেউ কেউ মনে করে এটি শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য পড়তে হয়। আবার কেউ ভাবতে পারে ইংরেজি শেখা মানে বড় বড় কঠিন শব্দ মুখস্থ করা। কিন্তু আসলে বিষয়টি এমন নয়। ইংরেজি একটি ভাষা। যেমন : আমরা বাংলা ভাষা ব্যবহার করি মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য, গল্প বলার জন্য, বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলার জন্য বা নতুন কিছু জানার জন্য-ঠিক তেমনই ইংরেজিও পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
আজকের পৃথিবী আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি কানেক্টেড। ইন্টারনেট, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষা, এসবের সঙ্গে যুক্ত হতে গেলে ইংরেজি জানা অনেক বড় একটি সুবিধা দেয়। আমাদের দেশের শিশুরা যদি ছোটবেলা থেকেই ইংরেজি শেখার প্রতি আগ্রহী হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তারা শুধু নিজের দেশেই নয়, পুরো পৃথিবীর জ্ঞানভান্ডারের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।
ইংরেজি শেখা মানে নিজের চিন্তার দরজা আরও বড় করে খোলা। ধরো, তুমি বিজ্ঞান ভালোবাসো। পৃথিবীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানের বই, গবেষণা এবং শিক্ষামূলক ভিডিও ইংরেজিতে তৈরি হয়। যেমন : “National Geographic Kids” বা “BBC Bitesize”-এর শিক্ষামূলক ভিডিওতে তুমি সহজ ভাষায় নতুন নতুন বিজ্ঞান জানো। যদি তুমি ইংরেজি বুঝতে পারো, তাহলে তুমি সরাসরি সেই জ্ঞান থেকে শিখতে পারবে। একইভাবে ইতিহাস, প্রযুক্তি, গল্পের বই, এমনকি মহাকাশ সম্পর্কে অসংখ্য চমৎকার তথ্য ইংরেজিতে পাওয়া যায়।
আমাদের দেশের অনেক সফল মানুষ তাদের জীবনের শুরুটা করেছেন ছোট শহর বা গ্রামের সাধারণ স্কুল থেকে। এমনকি অনেক তরুণ আইটি খাতে সফল হয়েছে যারা ছোটবেলায় কম্পিউটার বা ইংরেজি শেখার শুরুটা ঘরে বসে অনলাইনে করেছে।
তোমরা অনেকেই মনে করো ইংরেজি শেখার জন্য খুব কঠিন নিয়ম মেনে চলতে হয়। বাস্তবে ভাষা শেখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নিয়মিত ব্যবহার করা। যেমন : তুমি যদি প্রতিদিন কয়েকটি নতুন শব্দ শিখো এবং সেগুলো দিয়ে ছোট বাক্য তৈরি করার চেষ্টা করো, তাহলে ধীরে ধীরে তোমার আত্মবিশ্বাস বাড়বে। ভাষা শেখা অনেকটা সাইকেল চালানো শেখার মতো। প্রথমে একটু কঠিন লাগে, কিন্তু অনুশীলন করলে একসময় খুব সহজ হয়ে যায়।
ইংরেজি শেখার একটি মজার উপায় হলো গল্পের বই পড়া। ধরো, তুমি Goodnight Stories from the Life of the Prophet Muhammad by Saniyasnin Khan, Allah Knows All About Me by Yasmin Mussa, The Proudest Blue by Ibtihaj Muhammad, Golden Domes and Silver Lanterns by Hena Khan Ges Migo & Ali: Love for the Prophets by Zanib Mian-এর মতো বই পড়ো, তাহলে নতুন শব্দ শেখার পাশাপাশি কল্পনাশক্তিও বাড়বে। প্রথমে হয়তো সব শব্দ বোঝা যাবে না, কিন্তু প্রতিদিন পড়া চালিয়ে গেলে তুমি ধীরে ধীরে বাক্য গঠন এবং গল্প বোঝার ক্ষমতা অর্জন করবে।
শুধু বই নয়, ইংরেজি শেখার আরেকটি সুন্দর মাধ্যম হলো কার্টুন এবং শিক্ষামূলক ভিডিও দেখা। ধরো, তুমি
Omar & Hana, Barakah Hills, The 99, Amina & Ahlan, Zaky & Friends এবং Adam’s World দেখছ। অজান্তেই তুমি নতুন শব্দ শিখছ এবং বাক্য গঠন শিখছ। আবার ছোটদের মজাদার কিছু গান শুনলে শব্দ মনে রাখা অনেক সহজ হয়। উদাহরণস্বরূপ-Thank You Allah, I Am a Muslim, Allah Made Everything এবং Good Life গানের মাধ্যমে ছোটরা rhyming words এবং sentence structure শিখতে পারে।
বন্ধুদের সঙ্গে ইংরেজিতে ছোট ছোট কথা বলার চেষ্টা করাও খুব উপকারী। ধরো, তুমি প্রতিদিন কয়েক মিনিট ইংরেজিতে নিজের দিন সম্পর্কে বলার চেষ্টা করলে। যেমন : “Today I went to school and learned about plants” বা “ও I played football with my friends.” এতে তোমার কথা বলার অভ্যাস তৈরি হবে। ভুল হওয়া খুবই স্বাভাবিক। ভুল থেকে শেখাই ভাষা শেখার সবচেয়ে ভালো উপায়।
বাংলাদেশে এখন অনেক স্কুল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিশুদের ইংরেজি দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম চালু করেছে। যেমন : ইংরেজি বিতর্ক, গল্প বলা, নাটক বা বক্তৃতা প্রতিযোগিতা। ধরো, ঢাকা শহরের এক সরকারি স্কুলে একটি শিশু ইংরেজি গল্প প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। প্রথমে সে ভয় পায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে সাহস করে গল্প শোনায় এবং পুরস্কারও পায়। এসব কার্যক্রমে অংশ নিলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং ভাষা ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হয়।
তবে মনে রাখতে হবে, ইংরেজি শেখা মানে নিজের মাতৃভাষাকে ভুলে যাওয়া নয়। বাংলা আমাদের পরিচয়, সংস্কৃতি এবং মাতৃভাষা। একজন সত্যিকারের শিক্ষিত মানুষ দুই ভাষাকেই সম্মান করে। বাংলায় সুন্দরভাবে ভাবতে এবং লিখতে পারা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ইংরেজি জানলে আন্তর্জাতিক জগতের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হয়। অনেক সময় কিছু শিক্ষার্থী মনে করে, ইংরেজি শেখা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। হয়তো তারা একবার পরীক্ষায় কম নম্বর পেয়েছে বা কোনো বাক্য ঠিকভাবে বলতে পারেনি। কিন্তু মনে রাখতে হবে, কোনো ভাষা শেখা এক দিনের কাজ নয়। ধৈর্য, অনুশীলন এবং আগ্রহ এই তিনটি বিষয় থাকলে যে কেউ ধীরে ধীরে ভালো করতে পারে।
ইংরেজি শেখার ক্ষেত্রে কৌতূহল একটি বড় শক্তি। নতুন কোনো শব্দ দেখলে তার অর্থ জানার চেষ্টা করা, নতুন বাক্য শুনলে সেটি মনে রাখার চেষ্টা করা। এসব ছোট অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনে। ধরো, তুমি অনলাইনে একটি ছোট কমিকস বা ভিডিও দেখছ এবং একটি নতুন বাক্য শিখছ “I am curious about space.” প্রতিদিন এমন কয়েকটি বাক্য শেখা তোমার ইংরেজি শক্তি অনেক বাড়িয়ে দেবে।
আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মানে তোমাদের মতো প্রজন্ম যদি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, শিক্ষা এবং গবেষণায় এগিয়ে যেতে চায়, তাহলে ইংরেজিতে দক্ষতা তোমাদের বড় সহায়ক হবে। কারণ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হলে একটি সাধারণ ভাষা দরকার হয়। অনেক ক্ষেত্রেই সেই ভাষাটি ইংরেজি।
কিন্তু সবকিছুর শুরু হয় ছোট ছোট পদক্ষেপ থেকে। প্রতিদিন কয়েক মিনিট ইংরেজি পড়া, নতুন শব্দ শেখা, বা একটি ছোট গল্প লেখা। এসবই ধীরে ধীরে বড় দক্ষতায় পরিণত হয়। ধরো, তুমি একদিন লিখেছ “Today I learned about plants.” ছোট একটি বাক্য হলেও এটি ভবিষ্যতে বড় গল্পের শুরু।
তোমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শেখাকে আনন্দের সঙ্গে যুক্ত করা। যদি ইংরেজি শেখাকে শুধু পরীক্ষার বিষয় মনে করা হয়, তাহলে এটি কঠিন লাগতে পারে। কিন্তু যদি এটিকে নতুন গল্প, নতুন বন্ধু এবং নতুন পৃথিবী আবিষ্কারের একটি চাবি হিসেবে দেখা যায়, তাহলে শেখার আগ্রহ অনেক বেড়ে যায়। আমাদের দেশের অনেক কিশোর ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞান মেলা এবং অনলাইন শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। তাদের অনেকেই ইংরেজি ব্যবহার করে বিশ্বের অন্য দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। যেমন : এক শিশু অনলাইনে “Code.org” বা “Khan Academy Kids” ব্যবহার করে গণিত এবং বিজ্ঞান শিখছে এবং শিখা বিষয় নিয়ে ইংরেজিতে বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করছে। এটি প্রমাণ করে যে, আমাদের দেশের শিশুরাও মানে তোমরা চাইলে বিশ্বমঞ্চে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাঁড়াতে পারো।
একদিন হয়তো তোমাদের মধ্য থেকেই কেউ নতুন বৈজ্ঞানিক হয়ে কিছু আবিষ্কার করবে, কেউ আন্তর্জাতিক লেখক হবে, আবার কেউ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে কাজ করবে। সেই পথচলায় ইংরেজি একটি শক্তিশালী সঙ্গী হতে পারে। তাই আজ থেকেই ছোট একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। প্রতিদিন একটু একটু করে ইংরেজি শেখার চেষ্টা করা। ভুল করলে ভয় না পেয়ে নতুন শব্দ শেখা, বই পড়া, গল্প শোনা এবং নিজের চিন্তা প্রকাশ করার অভ্যাস তৈরি করা। কারণ ভাষা শুধু শব্দের সমষ্টি নয়, এটি নতুন জগতের দরজা খোলার একটি চাবি। আর সেই দরজার ওপাশে অপেক্ষা করছে অসংখ্য গল্প, জ্ঞান এবং সম্ভাবনার বিস্তৃত পৃথিবী।
আরও পড়ুন...