গল্পের বই পড়ো ইংরেজি শেখো
ক্যারিয়ার গাইডলাইন ফাহিম হাসান আগস্ট ২০২৬
বন্ধুরা, আগের সংখ্যায় আমরা মোবাইল আর কম্পিউটারের পর্দার ওপারে ইংরেজি শেখার এক রঙিন দুনিয়া খুঁজে বের করেছিলাম। কিন্তু তোমরা কি জানো আমাদের সবার ঘরের কোণে বা স্কুলের লাইব্রেরিতে এমন এক জাদুকরী জগৎ লুকিয়ে আছে, যেখানে সেই জগৎটা তোমাকে নিয়ে যেতে পারে মহাকাশের কোনো গ্রহে কিংবা কোনো জাদুর রাজ্যে? হ্যাঁ, আমি গল্পের বইয়ের কথা বলছি! মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে যখন আমরা বইয়ের পাতায় ডুব দেই তখন ইংরেজি শেখাটা আর পড়াশোনা থাকে না; বরং সেটা হয়ে যায় এক অসামান্য অ্যাডভেঞ্চার। চলো, আজকে আমরা ঠিক করি কীভাবে বইয়ের পাতায় ইংরেজিকে একদম বন্ধু বানিয়ে ফেলা যায় আর সেটা করতে গিয়ে আমরা জে কে রাউলিংয়ের বিখ্যাত হ্যারি পটার সিরিজকে আমাদের শিক্ষক হিসেবে ব্যবহার করব। তোমরা হয়তো ভাবছ ইংরেজি বই পড়া তো অনেক কঠিন, অনেক বড় বড় শব্দ থাকে, কিন্তু বিশ্বাস করো বন্ধুরা, তুমি যদি ঠিকঠাক পদ্ধতিটা জানো তাহলে এটা হবে তোমার জীবনের সবচেয়ে মজার গেম।
কল্পনা করো তো তুমি হ্যারি পটারের প্রথম বই হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফার্স স্টোন হাতে নিয়ে বসে আছ। প্রথম পাতায় চোখ বোলাতেই তুমি হয়তো দেখলে এমন একটা বাক্য যা তুমি ঠিক বুঝতে পারছ না। ধরো, বইয়ে লেখা আছে Harry was forbidden to enter the dark forest. এই যে শব্দটা ‘forbidden’ এটা হয়তো তোমার কাছে নতুন। এখন তুমি ডিকশনারি নিয়ে বসে পড়বে না। একটু শান্ত হও। একটু অন্যভাবে চিন্তা করো। হ্যারি তো একটা সাহসী ছেলে, সে কেন বনের ভেতরে ঢুকছে না? নিশ্চয়ই কেউ তাকে বারণ করেছে বা নিষেধ করেছে। ব্যাস! তুমি বুঝে গেলে যে forbidden মানে হলো নিষেধ বা যা করা মানা। এই যে তুমি বইয়ের গল্পের সূত্র ধরে শব্দের অর্থ বুঝে গেলে, একেই বলে কনটেক্সট ক্লু। এটা তোমার ব্রেইনকে এমনভাবে তৈরি করবে যে তুমি যখন কোনো ইংরেজি মুভি দেখবে বা কোনো গেম খেলবে তখন দেখবে তুমি নতুন সব শব্দ কত সহজে ধরে ফেলছ। বই পড়ার সময় এভাবে নতুন নতুন শব্দের মানে আন্দাজ করতে শেখাটা একটা দারুণ বুদ্ধির খেলা। আর এই খেলায় তুমি যত জিতবে তোমার ইংরেজি তত ধারালো হবে।
এবার একটা দারুণ কৌশলের কথা বলি যেটা তুমি হ্যারি পটার পড়ার সময় ট্রাই করতে পারো। তোমরা যারা নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে স্বপ্ন দেখছ তারা হয়তো বড় হয়ে একজন দারুণ কমিউনিকেটর বা গ্লোবাল লিডার হতে চাও। মনে রাখবে, ইংরেজিতে ভালো হওয়া মানে শুধু মুখস্থ করা-এই ধারণাটি ভুল। মানুষের সাথে সুন্দর করে কথা বলতে পারাটা ইংরেজিতে ভালো হওয়ার অন্যতম দিক। হ্যারি পটার পড়ার সময় একটা ছোট ম্যাজিক নোটবুক রাখো। সেখানে তুমি জাদুকরী সব শব্দ লিখে রাখবে। ধরো, হ্যারির একটা মন্ত্রের নাম লুমোস (Lumos) যেটা দিয়ে আলো জ্বলে ওঠে। এটা তো একটা ইংরেজি শব্দ Illumination বা আলো’র সাথে জড়িত। তুমি খাতায় লিখলে Lumos = Light up এবং একটা বাক্য লিখলে, ও I can use my phone light to lumos up my room. দেখছ! তুমি নতুন একটা শব্দ শিখলে আর সেটা দিয়ে নিজের জীবনে একটা মজার বাক্য বানিয়ে ফেললে। এভাবেই তুমি Spells বা মন্ত্রগুলোর সাথে নতুন ইংরেজি শব্দের মিল খুঁজে বের করো। যখন তুমি নিজে থেকে বাক্য বানাবে তখন তোমার মাথার ভেতরে ইংরেজি বলার জড়তা ভেঙে যাবে। তুমি তখন আর শুধু বইয়ের ভাষা পড়বে না; বরং নিজের মনের কথা ইংরেজিতে সাজাতে শিখবে।
আচ্ছা, ক্যারিয়ারের কথা যখন এলোই, তোমাদের বলি, তোমরা যারা এখন ছোট তারা কিন্তু একটা বিশাল সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে আছ। এখনকার ডিজিটাল যুগে যারা সৃজনশীল তাদের কদর সবচেয়ে বেশি। তুমি যখন হ্যারি পটারের মতো একটা বড় গল্পের বই পড়া শেষ করো তখন তোমার মস্তিষ্ক একটা ছোটখাটো সুপার পাওয়ার পেয়ে যায়। সেটা হলো ইমাজিনেশন বা কল্পনাশক্তি। তুমি যখন পড়ছ হ্যারি কীভাবে তার বন্ধুদের সাথে নিয়ে ভলডেমর্টের বিরুদ্ধে লড়াই করছে তখন তুমি আসলে শিখছ কীভাবে কঠিন সময়ে ধৈর্য ধরতে হয়। এই ধৈর্য আর সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা তোমার ক্যারিয়ারে তোমাকে সবার চেয়ে এগিয়ে রাখবে। ধরো, তুমি ভবিষ্যতে একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বা ডিজাইনার হতে চাও। যখন তুমি কোনো জটিল কোডিং করবে ,তখন দেখবে সেই গল্পের বই পড়ার অভ্যাস তোমাকে শেখাচ্ছে কীভাবে একটা বড় প্রজেক্টকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে সমাধান করতে হয়। বই পড়ার সময় চরিত্রগুলোর কথোপকথন বা ডায়ালগ যখন তুমি মন দিয়ে পড়ো তখন তুমি বুঝতে শেখো মানুষ কীভাবে একে অপরের সাথে কথা বলে। বইয়ের পাতায় যখন লেখা থাকে Hermione said confidently, তখন তুমি বুঝে যাচ্ছ যে confidently শব্দটা সাহসের সাথে কথা বলার সময় ব্যবহার করতে হয়। তুমি কি এটা শিখতে পারছ না যে বড় হয়ে ইন্টারভিউ বোর্ডে বা ক্লায়েন্টের সাথে কথা বলার সময় তুমিও এই শব্দটি ব্যবহার করতে পারো? এভাবেই গল্পের বই তোমাকে শুধু ইংরেজি শেখায় না, তোমাকে জীবনের বড় বড় চ্যালেঞ্জ নেওয়ার সাহস জোগায়।
তোমরা অনেকে প্রশ্ন করতে পারো, আমি যদি ভুল করি? আরে বন্ধুরা, ভুল না করলে কি আর হ্যারি পটার জাদুকর হতে পারত? সে তো শুরুতে মন্ত্র উচ্চারণ করতে গিয়েও কতবার হোঁচট খেয়েছে। তুমি যখন বই পড়বে তখন ভুল উচ্চারণ হতে পারে। ভুল মানে বুঝতে পারো। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এই ভুলগুলোই তোমার সেরা শিক্ষক। পড়ার সময় একটু নাটুকে হয়ে পড়ো। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হ্যারির মতো করে কথা বলো কিংবা হাগরিডের মতো মোটা গলায় সংলাপ পড়ার চেষ্টা করো। তুমি যখন কথাগুলো উচ্চারণ করবে তখন তোমার জিভ ইংরেজি শব্দের সাথে অভ্যস্ত হয়ে যাবে। তুমি যদি প্রতিদিন মাত্র ৫টি পৃষ্ঠা মনোযোগ দিয়ে পড়ো এবং সেখান থেকে মাত্র ৩টি নতুন শব্দ নিজের ভাষায় বাক্য বানিয়ে শেখো তবে মাসে তুমি প্রায় ১০০টি নতুন শব্দ শিখে ফেলবে! এটা কি কম? এক বছর পর তুমি দেখবে তোমার ভোকাবুলারি বা শব্দভাণ্ডার এতটাই সমৃদ্ধ যে, তোমার বন্ধুরা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকবে।
বই পড়ার সময় আরেকটা ছোট মজার কাজ করতে পারো। যাকে আমি বলি রিয়েল লাইফ কানেকশন। বইয়ে হয়তো কোনো একটা জায়গায় লেখা আছে হ্যারি তার প্রিয় খাবার পামকিন জুস খাচ্ছে। তুমি তোমার ডায়েরিতে লেখো Today I am eating rice and dal, but Harry Potteris drinking pumpkin juice. এই যে তুমি নিজের বাস্তব জীবনের সাথে বইয়ের জগতের তুলনা করলে এতে তোমার ব্রেইন ইংরেজি ভাষাকে আলাদা কোনো কঠিন বিষয় হিসেবে দেখবে না। তোমার মনে হবে ইংরেজি তোমারই এক অংশ। তুমি যদি হ্যারি পটার ছাড়া অন্য বই পছন্দ করো, যেমন গোয়েন্দা গল্প বা সায়েন্স ফিকশন তবে সেগুলোও পড়ো। শার্লক হোমস পড়লে তুমি শিখবে কীভাবে যুক্তিবাদী হতে হয় আর অ্যাভেঞ্জার্স বা কমিকস পড়লে শিখবে কীভাবে ছোট ছোট বাক্যে দ্রুত কথা বলতে হয়। তোমার পছন্দের জগৎটাই হোক তোমার ইংরেজি শেখার ক্লাসরুম।
সবশেষে একটা কথা খুব ভালো করে মাথায় গেঁথে নাও : ইংরেজি শেখাটা শুধু কোনো পরীক্ষার জন্য নয়, এটা তোমার নিজের জন্য। তুমি আজ যে ইংরেজি শিখছ সেটা তোমাকে বিশ্বনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে। তুমি যখন বড় হবে তখন এই ইংরেজি তোমাকে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশের বিশ^বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ করে দেবে। তোমাকে বড় বড় আন্তর্জাতিক কোম্পানির সাথে কাজ করার পাসপোর্ট দেবে। আর এই সফলতার প্রথম ধাপটা লুকিয়ে আছে ওই বইয়ের পাতায়। তুমি যখন হ্যারি পটারের সেই অদ্ভুত জাদুর দুনিয়ায় হারাবে তখন তুমি আসলে নিজের ভবিষ্যৎকেই নতুন করে সাজাচ্ছ। তুমি হচ্ছ আজকের তরুণ বাংলাদেশের প্রতিনিধি। তোমার হাতেই আগামী দিনের স্বপ্ন। তাই ভয়কে বিদায় জানাও। আজই লাইব্রেরি থেকে বা বন্ধুর কাছ থেকে একটা ইংরেজি গল্পের বই জোগাড় করো। সেটা যদি হ্যারি পটার হয় তবে তো সোনায় সোহাগা! খোলা পাতায় চোখ রাখো, শব্দের সাথে বন্ধুত্ব করো আর দেখবে ইংরেজি তোমার কাছে আর কোনো দুর্বোধ্য বিষয় নয়; বরং তোমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুর মতো হয়ে গেছে। বইয়ের পাতায় তোমার অ্যাডভেঞ্চার শুরু হোক আজ থেকেই। কারণ তুমি তো সেই নায়ক যে নিজের গল্পের ভাষা নিজেই লিখতে জানে!
আরও পড়ুন...