থানার হাটে একদিন

গল্প সরকার মাসুদ নভেম্বর ২০২৫

মুকুল ও মনির উদ্দীন এখন শুয়ে আছে থানার হাটের একটা বাড়িতে। থানার হাট কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারি উপজেলার একটা জায়গা। মনির উদ্দীন নাতি মুকুলকে নিয়ে উঠেছে তার স্ত্রীর বড়ো ভাইয়ের বাসায়। ভদ্রলোকের নাম, খেজমত হোসেন। পেশায় দর্জি। থানার হাট বাজারে তার বড়ো দোকান আছে। খেজমতের সঙ্গে তাদের দেখা হয় বেলা বারোটার দিকে এবং মনির উদ্দীন সম্বন্ধিকে সালাম দেয়। মুকুল তখনই লক্ষ করেছিল, খেজমত হোসেনের থুতনিতে অল্প দাড়ি; তার পরনের পাঞ্জাবি হাঁটুর অনেক নিচ পর্যন্ত ঝোলানো। ফলে তার লুঙ্গির নিচের অল্প অংশ দেখা যাচ্ছে। সে আরও খেয়াল করেছে, খেজমতের হাসিটা বড়ো মধুর।

কুশল বিনিময়ের পরে বেশিক্ষণ দাঁড়ায়নি খেজমত। অনন্তপুর থেকে মেহমান এসেছে বহুদিন বাদে। তাদের ভালোমন্দ খাওয়াতে হবে। সেজন্য তিনি বাজারের দিকে গেছেন। হাটবার ছাড়াও সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতেও বাজার এখানে জমজমাট। চিলমারি বন্দর ব্রহ্মপুত্র নদের পেটে চলে যাওয়ার পরে এই থানার হাটই এলাকার সবচেয়ে বড়ো গঞ্জ। ভরদুপুরেও এখানে মাছ-মাংস সবজি মেলে।

আড়াইটার মতো বাজে। দুপুরের খাবারের আয়োজন শেষ হয়নি এখনো। হবে কী করে, বাজারই তো এলো পৌনে একটায়। রান্না-বান্নার কাজে দেরি হবে বুঝতে পেরে খেজমত-গিন্নী নাশতার ব্যবস্থা করেছিল। শোয়া অবস্থা থেকে উঠে বসে মনির উদ্দীন কোলবালিশে হেলান দিয়ে বলে, মুন্না, ক্ষুধা লাইগছে? মুকুলকে উনি আদর করে ‘মুন্না’ বলে ডাকেন। 

মুকুল বলে, না দাদা। পেট খালি হয় নাই। আমরা মুড়ি-কলা খাইলাম না! 

মনির উদ্দীন নাতিকে আর কিছু জিজ্ঞেস করে না। মুকুলও চুপচাপ। মনির উদ্দীন ভাবে, মেলা দিন বাদে আইসছি। আইজ তো আমাদের যাইতে দিবে না। কাইল আর বেশি দেরি করা যাবার নয়। সকালের নাশতাটা খায়া আমরা রওনা হমো। তার চোখে এখন ঘুম-ঘুম ভাব। শরীরে ক্লান্তি। ক্লান্তি অবশ্য মুকুলেরই বেশি। সে ছেলে মানুষ। এ বছর ক্লাস টেনে উঠেছে। অনন্তপুর থেকে থানার হাট ন’মাইল পথ। এতখানি রাস্তা সে সাইকেলে এসেছে, দাদাকে সঙ্গে নিয়ে। মনির উদ্দীন অবশ্য ছোটোখাটো, হালকা-পাতলা মানুষ। সাইকেলের সামনের রডে নরম কাপড় পেঁচিয়ে তার ওপর বসেছিল। তার অসুবিধা হয়নি তেমন। খাটুনি হয়েছে মুকুলের। এর আগে এতটা পথ সে কাউকে সাইকেলে তুলে আনেনি। এ মুহূর্তে মুকুল শুয়ে শুয়ে দেখতে পাচ্ছে ধুলাধূসর উলিপুর-চিলমারি সড়ক। বালাবাড়ি থেকে রমনা বাজার পর্যন্ত কাঁচা রাস্তাটা ধুলার সাগর। এ পথে তুমি যদি হাঁটো, কোথাও কোথাও এমন অবস্থা যে, পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত ধুলায় ডুবে যাবে! শুকনো মৌসুমে কাঁচা রাস্তার মাটি পাউডারের মতো মসৃণ হয় কী করে তা প্রথমে মুকুল বুঝতে পারেনি। পরে খেয়াল করেছে, গরুর গাড়ির চাকায় লাগানো লোহার রিং শুকনো মাটিকে ধুলার পাউডারে পরিণত করে। আর এ পথে দশ/বিশ/পঞ্চাশটা নয়, শত শত গরুর গাড়ির চলাচল।

মেহমানরা যেখানে উঠেছে, সেই ঘরে ঢোকে খেজমত হোসেন। তাকে দেখে মনির উদ্দীন আধশোয়া অবস্থা থেকে উঠে বসে। মুকুল ঘরে নেই। উঠোনের সামনের খোলা জায়গায় সে হাঁটছে; ধীরে ধীরে হাঁটছে আর নানা জাতের শাক-সব্জিভরা একটা বাগান দেখছে। বাগানটা করেছে খেজমতের স্ত্রী দিলারা বেগম। দিলারা গাছপালা খুব ভালোবাসে। খেজমত এসে হাজির। খোলা দরজার কাছাকাছি পাতা একটা হাতলঅলা চেয়ারে বসে পড়ে সে বলে, দেরি হয়্যা গেল, না? এই আর দশ/পনর মিনিটের মধ্যে ভাত-তরকারি আসি যাইবে।

মনির উদ্দীন বলে, আচ্ছা হউক তা। আমরা তো আর না-খায়া বসি নাই। নাশতা-পানি তো হইছে একবার। 

মিনিট বিশেক পরেই দিলারা বেগম ঘরে ঢোকে। হাত থেকে কাঁসার জগ ও কাঁসার গ্লাস টেবিলের ওপর রেখে স্বামীর উদ্দেশে বলে, আপনে একটু পাক ঘরে আইসপেন? ভাত-তরকারিগুলা আনা লাগে। 

তারপর মনির উদ্দীনের দিকে তাকিয়ে বলে, কাজের চ্যাংড়িটা আইজ আইসে নাই। উয়ার মার বলে জ্বর।

সাধারণত মধ্যাহ্নভোজের ঘণ্টা দেড়েক পরে খেজমত দোকানে যায়। আজ বাড়িতে মেহমান। আজ সে দোকানে গেছে আরও এক ঘণ্টা পরে, পাঁচটার দিকে। তার বাড়ি ফিরতে রাত নটা বাজে। আজ তাকে ঘণ্টাখানেক আগে ফিরে আসতে হবে। একদম না যেতে পারলেই ভালো হতো। কিন্তু আজকাল তার পসার বেড়েছে। আগের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি লোক জামাকাপড় বানাতে দিচ্ছে তাকে। খেজমত হোসেন যে-কোনো মূল্যে এই সুনাম ধরে রাখতে চায়। বিকেলে দোকানের উদ্দেশে হাঁটতে হাঁটতে খেজমত মনে মনে বলে, মেহমানদেরকে সময় দেওয়ার কারণেই তো আইজ দেরি করি দোকানে যাইতেছি। রাইতে খাওয়াদাওয়ার পরে ঘণ্টাখানেক গল্পগুজব করব এখন। সকালে তো আর সময় হবার নয়। নাশতা খাওয়ার পরে উমরা রওনা দিবে...।

সন্ধ্যার কিছু আগে দিলারা বেগম অতিথিদের ঘরে ঢুকে মনির উদ্দীনকে লক্ষ্য করে বলে, ভাইজান, একটু চা-নাশতা খান। সেমাই আর চা। 

মনির উদ্দীন বলে, দুপুরে যথেষ্ট খাওয়া হইছে। বইন, সেমাই রান্নার ঝামেলা করতে যাইও না; শুধু চা করো। সাথে দুই/এক পিস বিস্কুট দিলেই চইলবে।

দিলারা বেরিয়ে গেলে মনির উদ্দীন মুকুলের উদ্দেশে বলে, তুই সেমাই খাবু?

মুকুল বলে, না না, দাদা। সেমাই আমার পছন্দ না। তুমি খেলে খেতে পারো।

মনির বলে, না থাউক। চা-বিস্কুটই ভালো।

হঠাৎ মুকুলের মনে পড়ে, সাইকেলের কথা। নতুন বাইসাইকেল। তার প্রিয় সাইকেল। ক্লাস টেন-এ ওঠার পর বাবা কিনে দিয়েছে। মুকুল এখন কিছুটা উদ্বিগ্ন স্বরে বলে, দাদা, সাইকেলটা এ ঘরে আনি রাখলে ভালো হইত না?

তুই চিন্তা করিস না, মুন্না। সাইকেল ভেতরের ঘরে আছে। নিরাপদে আছে।

ওই ঘরে কেউ থাকবে, নাকি তালা দিয়া রাখবে?

মনির উদ্দীন এবার বলে, মানুষ থাইকপে ওই ঘরে। এত চিন্তা করিস না তো ভাই। তোর সাইকেলের কিছু হবার নয়।

শুনে মুকুল আশ্বস্ত হয়। 

চা-পর্ব শেষে সন্ধ্যার মুখে বাইরে বেরোয় দাদা-নাতি। হাঁটতে হাঁটতে তারা অনেক দূর চলে যায়। হঠাৎ কী মনে হওয়ায় মনির উদ্দীন মুকুলকে বলে, ভাই রে, তুই ঘুড্ডি উড়াইস না?

মুকুল উত্তর দেয়, এখন উড়াই না। আগে উড়াইতাম। 

মনির উদ্দীন বলে, ও তুই তো এখন বড়ো হয়্যা গেছিস! ক্লাস টেনে উঠছিস! সেই জন্যে?

না-না দাদা, সেজন্য না। আমাদের মহল্লায় একটা ছেলে পাঁচতলার ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছে। ছাদে ও ঘুড্ডি উড়াইতেছিল। ছেলেটা ক্লাস নাইনে পড়ত। ওই ঘটনার পর আব্বার কড়া নিষেধ, ছাদে আর ঘুড্ডি ওড়ানো যাবে না। তখন থেকে ঘুড়ি ওড়ানো একদম বন্ধ।

মনির উদ্দিন জিজ্ঞেস করে, ছাদে ঘুড্ডি উড়ায় ক্যা?

মুকুল বলে, মাঠ অনেক দূরে, সেজন্য।

কেরানিপাড়ার যে দিকটায় মুকুলরা থাকে সেখানে মনির উদ্দীন তিন/চারবার গেছে। ওদিকে বেশ কয়েকটা চার/পাঁচ তলা ভবন হয়েছে। আশেপাশে খোলা জায়গা নেই প্রায়। বিকেল হলেই দেখা যেত প্রত্যেকটা ছাদে খেলাধুলা করছে বাচ্চারা। কেউ কেউ ঘুড্ডি ওড়াচ্ছে। মনির উদ্দীন কিছু বলে না; সমবেদনাও জানায় না। চোখ বন্ধ করে দুর্ঘটনার স্থল পাঁচ তলার সেই ছাদ ও লাটাইসমেত ছেলেটির পড়ে যাওয়ার মুহূর্তটি কল্পনা করে। অনেকক্ষণ পরে প্রায় অস্ফুট স্বরে উচ্চারণ করে ‘ঈশ’... এবং বলে, কার মরণ-যে কেমন করি হইবে তাক কাঁইও জানে না! 

মুকুল রংপুর জেলা স্কুলে পড়ে। স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার পরে যেদিন রেজাল্ট দেওয়া হয় তার পরদিন থেকে এক সপ্তাহের জন্য ক্লাস বন্ধ থাকে। সেই ছুটিতে গ্রামের বাড়ি এসেছে ছেলেটা। সে এখন ভাবছে, চার দিন তো গেলই। ছুটি বাকি আর তিন দিন। সাথে যুক্ত হয়েছে শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি। শুক্রবারের মধ্যে আমাকে রংপুর পৌঁছে যেতে হবে। শনিবার থেকে আরম্ভ হবে ক্লাস টেনের নতুন ক্লাস। মুকুল প্রথম দিনটা মিস করতে চায় না। তা ছাড়া বাবার কড়া আদেশ “শুক্রবারের মধ্যে কিন্তু অবশ্যই ফিরবি” সে অমান্য করতে পারবে না। সময় বেশি নাই। এর ভেতর একটা দিন আবার ধামশ্রেণিতে, মানে নানার বাড়িতে কাটাবে সে। অদূরে একটা দোকানের সামনে কিছু মানুষের জটলা দেখে থানার হাট বাজারের সেই জটলাটা মনে পড়ে তার। গতকাল সকাল এগারোটার সময় ওরা যখন বাজার প্রাঙ্গণ অতিক্রম করছিল, তখন বেশ কিছু মানুষকে এক স্থানে দেখতে পায় মুকুল। লোকগুলো কিছু একটা দেখছিল। সেটা যে কী তা বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই। কারণ মানুষ চারপাশে গোল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কৌতূহল তীব্র হওয়ায় মুকুল সাইকেল থেকে নেমে পড়ে। তারপর বলে, দাদা, সাইকেলটা ধরো। একটু দেখে আসি কী ওখানে।

মনির উদ্দীন বলে, কী আর; মাছটাছ হইবে! 

মুকুল বলে, মাছ দেখার জন্য এত মানুষ ভিড় কইরছে? আচ্ছা দেখি কী ঘটনা।

বলেই সে জটলার দিকে এগোয়। মুকুল বেশ লম্বা ছেলে। ফলে পেছনে দাঁড়ালেও দুজন লোকের কাঁধের ওপর দিয়ে সে দেখতে পায় বিশাল এক কাতলা মাছ। ওজন আধা মনের কম হবে না। বেশিও হতে পারে। বড়ো বড়ো আঁশগুলো একটু লালচে রঙের। লেজটাও অনেক বড়ো। সবাই জানে, কাতলার মাথা অন্য মাছের চেয়ে বেশ বড়ো। সে কারণেও মাছটাকে খুব বড়ো দেখাচ্ছে। জটলার ভেতর থেকে কেউ একজন বলে, চব্বিশ-পঁচিশ স্যর হইবে। 

আরেকজন মন্তব্য করে, বড়ো নদীর মাছ।

কিছু সময় চুপচাপ দেখে সে ফিরে এসেছিল। এসেই বলেছে, দাদা, বিরাট কাতলা মাছ! কৌতূহল চেপে রাখতে না পেরে শেষে মনির উদ্দীনও এগিয়ে গেছে ওই ভিড়ের দিকে। এক হাতে সাইকেল ধরে রেখে মুকুল তখন ভাবছে, ক্লাস সেভেনে থাকতে পড়া সেই গল্পটার কথা। সেই গল্প যেখানে সমুদ্রপাড়ের এক বালক সারাদিন জাল ফেলে একটাও বড়ো মাছ পায় না। শেষ বিকেলে বিশাল এক মাছ ভেসে ওঠে তার পায়ের কাছে। সে মন-খারাপ ওই জেলে বালকের দুঃখের কাহিনি শোনে এবং শেষে তাকে তার পিঠে চড়িয়ে নিয়ে যায় সাগরের তলদেশে-জলরাজকুমারীর প্রাসাদে। মুকুল আরও ভাবে ‘জলরাজকুমারী’ নামের সেই গল্পে বর্ণিত মাছটা বোধ হয় এত বড়ো ছিল। সে কল্পনা করে, তার পিঠে চেপে দুই হাতে কানকো শক্ত করে ধরে রেখে সেও চলেছে সমুদ্রের গভীরে, জলরাজকুমারীর শ্যাওলাপ্রাসাদ অভিমুখে।

সাধারণত রাত সাড়ে দশটায় ঘুমিয়ে পড়ে মুকুল। আজ অনেক রাত পর্যন্ত তার ঘুম আসছে না। মনির উদ্দীন গাঢ় ঘুমে অচেতন। এখন কটা বাজে? মুকুল বালিশের নিচ থেকে সিটিজেন নিউ মাস্টার ঘড়িটা বের করে দেখে, বারোটা তেইশ। সে ঘুমানোর চেষ্টা করে। একসময় ঘুমিয়ে পড়ে সেও। শেষ রাতে, ঘুমের আঠা যখন গাঢ়তর হয়ে এসেছে, মুকুল দেখতে পায়, থানার হাট বাজারের প্রাঙ্গণে দেখা বৃহৎ ওই কাতলাটা তাকে পিঠে নিয়ে চলেছে মহাসমুদ্রের তলে। মহীঢাল পেরিয়ে আরও গভীরে বাঁক নেওয়ার সময় মাছ বলছে, তুমি ভয় পাচ্ছ না তো? 

মুকুলের উত্তর, না, আমার ভালো লাগছে, বন্ধু।

কিছু দেখতে পাচ্ছ আশেপাশে?

হ্যাঁ, দেখতে পাচ্ছি। তারামাছের ঝাঁক, সাগরচিল, কচ্ছপ। আরও অনেক কিছু, নাম জানি না। 

মাছ বলে, তুমি আমার পেটের নিচে দু-পা চেপে রেখে টাইট হয়ে বসে থাকো। অল্প সময়ের মধ্যে আমরা শ্যাওলাপ্রাসাদে পৌঁছে যাব।

মুকুল বলে, আচ্ছা, ঠিক আছে।

স্বপ্নের আয়ু মাত্র এক/দেড় সেকেন্ড। এর ভেতর মানুষ কত কিছু দেখতে পায়। সম্ভব-অসম্ভব কত কিছু! মুকুল এ মুহূর্তে দেখতে পাচ্ছে, একটা ট্রেন বালাবাড়ি থেকে উলিপুরের দিকে এগোচ্ছে। রেলাইনের নিচের খালে মাছ ধরছে উলঙ্গ শিশুর দল। ছাগল চরাতে আসা এক গৃহবধূ ও তার কিশোরী মেয়ে চলন্ত ট্রেন দেখছে এক দৃষ্টিতে। ট্রেনটা বোধহয় লেট ছিল। বেশ জোরে ছুটছিল ওই লৌহযান। কুড়িগ্রাম-রমনা বাজার রেলপথের অবস্থা সুবিধাজনক নয়। গতি বাড়িয়ে দেওয়ায় রেলগাড়িটা হেলেদুলে এগাচ্ছে। এ দৃশ্য দেখে মজা পায় খালপাড়ে দাঁড়ানো এক মধ্যবয়সি লোক। সে মন্তব্য করে, ইহ্! গাড়িখ্যান ঝুকি আসপার নাগছে! হঠাৎ মুকুল দ্যাখে, ট্রেনটা একটা ফুলবাগানের ভেতর দিয়ে চলে গেল। বিস্কুট ফুলের ঝাড়ে অসংখ্য প্রজাপতি। বছর তিনেক বয়সের একটা মেয়ে প্রজাপতি ধরার চেষ্টা করছে। যখনই তার ছোট্ট নরম হাত প্রজাপতির গায়ের একদম কাছে পৌঁছায় তখনই সে উড়ে গিয়ে অন্য ফুলের ওপর বসে। বাচ্চাটা আবার এগোয় আরেকটা প্রজাপতির দিকে। হঠাৎ মাছের পিঠ থেকে পিছলে পড়ে যায় মুকুল। সে মহাসমুদ্রের গভীর খাদে তলিয়ে যেতে থাকে। মাছটা মুখ হা করে তাকে ধরার চেষ্টা করে। একবার, দু’বার, তিনবার। এভাবে অনেকবার। তার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ততক্ষণে মুকুল আরও গভীরে তলিয়ে গেছে। সে বুঝতে পারছে, সে আর বাঁচবে না। গভীর অন্ধকারে পানিতে তার মৃত্যু হতে চলেছে। আতঙ্কে সে চিৎকার দিয়ে ওঠে। আর তখনই মুকুলের ঘুম ভেঙে যায়। সে বিছানায় উঠে বসে। সে এটা ভেবে শান্তি পায় যে, এতক্ষণ যা দেখছিল তার পুরোটাই স্বপ্ন। একটু পরেই মুকুলের ঠোঁটে নিঃশব্দ হাসির রেখা ফুটে ওঠে। সে মনে মনে বলে, ধুস! স্বপ্নের কোনো মাথামুণ্ডু নাই। কোথায় সমুদ্র, কোথায় রেলগাড়ি আর কোথায় ফুলের ঝাড়? সব একাকার হয়ে গেছে!

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ