অবাক নৈশভোজ
হাদীসের আলো বিলাল হোসাইন নূরী জুলাই ২০২৫
সকাল থেকেই আকাশ ছেয়ে আছে ঘনকালো মেঘে। এই বুঝি বৃষ্টি নামল। রুবাবের মনটাও আজ আকাশবিহারী মেঘপাখি। এমনিতেই বৃষ্টি তার অনেক প্রিয়। তার ওপর বাসায় যদি থাকে বৃষ্টিবিলাসের আয়োজন, তাহলে তো আর কথাই নেই।
বৃষ্টিবিলাস!
হ্যাঁ, মা খিচুড়ি রান্না করেছেন। ছুটির দিন হওয়ায় বাবাও বাসায় আছেন। তিনি মাকে বলছেন-আহ! ঘ্রাণেই তো পাগল হয়ে যাব। আচ্ছা, আমাকে কি একটু রান্নাবান্না শেখাবে?
মা মুচকি হাসেন। রুবাব বুঝতে পারে, বাবা এসব বলছেন মাকে খুশি করার জন্যই। তিনি করবেন রান্না? সামান্য চা বানিয়ে খেতেও যার রাজ্যের অলসতা।
সবকিছু তৈরি। এখনই খেতে বসবে সবাই। রুবাব চামচ দিয়ে সালাদ চেখে নিচ্ছে। বাইরে থেকে আওয়াজ এলো-বাসায় কেউ আছেন? একটু সাহায্য করবেন, মা!
বাবা দরজা খুলে একশ টাকার একটি নোট ধরিয়ে দিলেন লোকটার হাতে। খিচুড়ির ঘ্রাণ হয়তো তার ক্ষুধাকেও উসকে দিয়েছে। বাবা বুঝতে পারলেন। বললেন-ভেতরে আসুন, চাচা। চারটা খেয়ে তারপর যাবেন।
রুবাব বাবার অপেক্ষায় খিচুড়ির ডিশ সামনে নিয়ে বসে আছে। বাবা এসেই বলল-একজন মেহমান আছে। আগে তিনি খাবেন। তারপর যা থাকে, তা আমরা ভাগ করে খাব। এই বলে রুবাবের সামনে থেকে ডিশটা নিয়ে গেলেন বাবা। তার তো ভীষণ মন খারাপ হলো। কত আশা নিয়ে বসে আছে সে!
লোকটা ভীষণ ক্ষুধার্ত ছিল। তার খাওয়ার পর অল্প কিছু খাবার বেঁচে রইল। যা হয়তো একজন খেতে পারবে। কিন্তু তারা তো মানুষ তিনজন! বাবা বললেন, রুবাব তুমি খেয়ে নাও। আমরা পরে খাব। আম্মুও একই কথা বললেন। কিন্তু রুবাব তো আর অতটা ছোটো নয় যে কিছুই বুঝবে না! সে বলল-না, একসাথেই খাব আমরা।
খেতে বসে বাবা একা একা হাসছেন। মা বললেন-কী হলো? রান্না ভালো হয়নি?
রুবাব বলল-বাবা, হাসছ কেন?
বাবা বললেন-এক অবাক নৈশভোজের গল্প মনে পড়েছে।
এক লোক নবীজির কাছে এসে খাবার চাইল। তিনি খোঁজ নিয়ে দেখলেন, তাঁর বাসায় পানি ছাড়া আর কিছুই নেই। তখন বললেন, কে আছ, যে এই মেহমানকে নিয়ে নিজের সাথে খাওয়াতে পারো? এক আনসারি সাহাবী তাকে বাসায় নিয়ে গেলেন। জানতে পারলেন, তার বাসায়ও শিশুদের খাবার ছাড়া আর কোনো খাবার নেই। সাহাবী তার স্ত্রীকে বললেন-তুমি খাবার তৈরি করো। বাতি জ্বালাও। শিশুরা খাবার চাইলে তাদের ঘুম পাড়িয়ে দাও। তিনি তা-ই করলেন এবং খাবার পরিবেশন করার পর বাতি ঠিক করার বাহানা করে তা নিভিয়ে দিলেন। তারপর স্বামী-স্ত্রী দুজনেই অন্ধকারে আহার করার মতো শব্দ করতে লাগলেন। যাতে মেহমান বুঝতে পারে, তারাও খাচ্ছেন। অথচ তারা না খেয়েই রাত কাটালেন। সকালবেলা নবীজি তাদের বললেন, ‘আল্লাহ তোমাদের গত রাতের কাজ-কারবার দেখে হেসে দিয়েছেন’ অথবা বলেছেন, ‘খুশি হয়েছেন’। [বুখারি-মুসলিম]
আম্মু বললেন-সুবহানাল্লাহ!
রুবাবের আর বুঝতে বাকি থাকল না, আজ তারা কত ভালো একটা কাজ করে ফেলেছে।
বিলাল হোসাইন নূরী
আরও পড়ুন...