মাটির মানুষ

কুরআনের আলো বিলাল হোসাইন নূরী জুন ২০২৬

দাদাবাড়িতে বেড়াতে এলেই শাবাবের মন হয়ে যায় শুভ্র এক কবুতর। ডানা ঝাপটিয়ে, ধুলো উড়িয়ে ঘুরে বেড়াতে ইচ্ছে করে এখান থেকে ওখানে। কখনো নদীর তীরে, কখনো ক্ষেতে-খামারে। দাদাও তখন দুরন্ত এক কিশোর হয়ে যান, শাবাবের মতোই! ফজরের পর তারা হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে যান নদীর কাছে, আসরের পর নেমে পড়েন ফুল-ফসলের মাঠে।

আজকের সকালটা ভীষণ ফরসা। বাতাসও আছে ঝিরিঝিরি। মেঘনা নদীর বুকের ভেতর শীতল ছন্দের দোলা। শাবাব বলল, দাদা! নদীটাকে একটু ছুঁয়ে দেখতে চাই।

দাদা বললেন, চলো।

নদীর পাড়ের উঁচু বাঁধ বেয়ে ধীরে ধীরে তারা নেমে গেল নিচে। পানিতে পা ডুবিয়ে বসে থাকল দুজন। পেছনে সবুজ গাছগাছালি, সামনে যতদূর চোখ যায় পানি আর পানি। যেন আকাশ এসে মিশে গেছে নদীর শেষ সীমানায়। আর সকালের সূর্যটাও সোনালি আভা ছড়িয়ে দিয়েছে নদীর কলিজার ভেতর।

এবার ফেরার পালা। নামা যতটা সহজ ছিল, ওপরে ওঠা ততটা সহজ নয়। শাবাব তো কয়েকবার পড়েই গিয়েছে। হাতে-পায়ে-গায়ে ধুলোমাটি মিলেমিশে একাকার। সে বলল, দাদা, এভাবেই বাড়ি ফিরব? আমার তো লজ্জা লাগছে!

দাদা বললেন, আরে, আমরা তো মাটিরই তৈরি। মাটির সাথে মাখামাখিতে লজ্জার কিছুই নেই। 

শাবাব বলল, মাটির তৈরি? কীভাবে? একটু বলো না, দাদা!

দাদা বললেন, চলো তাহলে। মাটির গল্প করতে করতেই আমরা বাড়ি ফিরি।

জানো, আমাদের আদি পিতা কে ছিলেন? 

-আদম (আ)।

-হ্যাঁ, এই আদমকে আল্লাহ মাটি থেকেই বানিয়েছেন। প্রথমেই তিনি একমুঠো মাটি নিয়েছেন সমগ্র পৃথিবী থেকে। সাধারণ মাটি। এ মাটিকে বলা হয় ‘তুরাব’। তারপর সে মাটির সাথে পানি মেশানো হলো। তৈরি হলো কাদা-‘ত্বিন’। নরম, আঠালো কাদা। এরপর সেই কাদা কিছু সময়ের জন্য রেখে দেওয়া হলো। তখন তা রূপ বদলিয়ে হয়ে গেল কালচে, দুর্গন্ধময়। যাকে বলা হয় ‘হামা মাস্নূন’। আর এ মাটি থেকেই তৈরি করা হয় আদম (আ)-এর আকৃতি। সবশেষে তা শুকিয়ে শক্ত হয়ে যায়, আগুনে পোড়ানো ছাড়াই। যাতে কেউ আঘাত করলে, মাটির পাত্রের মতো শব্দ হতো। এ অবস্থাকে বলা হয় ‘সালসাল’। 

-আচ্ছা, তারপর কী হলো, দাদা?

-তারপর আল্লাহ আদমের মাটির শরীরে রুহ ফুঁকে দিলেন। সাথে সাথেই তিনি হয়ে গেলেন জীবিত একজন মানুষ। শাবাব চিৎকার করে বলে উঠল, সুবহানাল্লাহ!

দাদা বললেন, দেখো মাটি থেকেই মানুষ তৈরি, মাটিতেই বসবাস আবার ফিরে যেতে হবে মাটির গভীরেই। আল্লাহ বলেন-“এ মাটি থেকেই আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি, তাতেই তোমাদের ফিরিয়ে দেবো এবং তা থেকেই পুনরায় তোমাদের বের করে আনব।” (সূরা ত্বা-হা : ৫৫)

মাটির গল্প শুনতে শুনতে শাবাবের গায়ের মাটি কখন যে শুকিয়ে গেল, বুঝতেই পারল না সে।

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ