সবুজ পাখি
হাদীসের আলো বিলাল হোসাইন নূরী ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কার আগে কে এসে সামনের সারিতে বসবে, এ নিয়ে প্রতিদিনই তুমুল প্রতিযোগিতা চলে। ক্লাসের ভেতর এ যেন এক যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা। এ যুদ্ধে যারা বিজয়ী হতে পারে, তারা যেন একেকজন মহাবীর খালিদ বিন ওয়ালিদ! তাদের মুখের হাসিতে যেন সে আত্মবিশ্বাসই ঝরে পড়ে।
শিক্ষকরাও বিষয়টা বেশ উপভোগ করেন।
আজ রফিক ও আদনান প্রায় একই সময়ে এসে উপস্থিত হয়। মানুষ দুজন হলেও বসার আসন খালি আছে একটা। দুজনই দৌড়ে এসে টেবিলে বই রাখে। রফিক বলে-আমি আগে রেখেছি, এ জায়গা আমার। আদনান বলে-না আমিই আগে রেখেছি। আজ আমিই বসব এখানে!
শ্রেণিশিক্ষক এসে দেখলেন, যুদ্ধ এখনো চলছেই। সব শুনে তিনি বললেন, তোমরা দুজনই বিজয়ী হয়েছ। তাই দুজনই একসাথে বসবে। পেছনে যেখানে জায়গা আছে, সেখানে। তারা হাসিমুখে রায় মেনে নিল।
ফেরার পথে তারা দেখল, কয়েকটি বখাটে ছেলে তার সহপাঠীদের বিরক্ত করছে। এরা প্রায়ই স্কুলের আশপাশে ঘুরঘুর করে। কিশোর বয়সেই নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে তারা। রফিক ও আদনান প্রতিবাদী হয়ে উঠল। বলল-আমরা সবাই ‘ওসমান হাদি’! এখানে কোনো অন্যায় মেনে নেওয়া হবে না!
ওরা ঝাঁপিয়ে পড়ল তাদের ওপর। ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত করে পালিয়ে গেল। হাসপাতালে নেওয়ার পথে দুজনই বিদায় নিল পৃথিবী থেকে।
হাজার হাজার মানুষ জড়ো হলো তাদের জানাজায়।
শ্রেণিশিক্ষক জানাজায় বললেন-সত্যি তারা দুজনই জিতে গেছে! অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে জীবন দেওয়া মানেই শাহাদাত! নবীজি বলেছেন-“শহীদদের নেতা হলেন হামজা ইবনে আবদুল মুত্তালিব। আর সে-ও শহীদ, যে ব্যক্তি কোনো জালিম শাসকের সামনে দাঁড়িয়ে তাকে সৎকাজের আদেশ করে ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে, অতঃপর সেই শাসক তাকে হত্যা করে।” [আল-হাকিম]
তিনি আরও বলেন-হয়তো তারা এখন সবুজ পাখি! ওহুদ যুদ্ধের শহীদদের কথা নবীজি আমাদের জানিয়েছেন-“মহান আল্লাহ তাদের রুহগুলোকে সবুজ রঙের পাখির মধ্যে রেখেছেন। তারা জান্নাতের ঝরনাসমূহের ওপর দিয়ে যাতায়াত করে। সেখানকার ফলমূল খায় এবং আরশের ছায়ায় ঝোলানো সোনার ফানুসে বসবাস করে। তারা যখন নিজেদের মনমতো খাবার, পানীয় ও আবাসন পেল, তখন বলল-আমরা জান্নাতে জীবিত আছি, এখানে আমাদের নিয়মিত রিজিক দেওয়া হচ্ছে-এ সংবাদ আমাদের ভাইদের নিকট কে পৌঁছে দেবে?” [আবু দাউদ]
পরের দিন সকল ছাত্র শপথ নিল-আমরাও থামব না! আমাদের রক্তেই রচিত হবে নতুন ইতিহাস, নতুন পৃথিবীর গল্প।
বিলাল হোসাইন নূরী
আরও পড়ুন...