সোনাপুরে সাত গোয়েন্দা

রম্যগল্প হারুন ইবনে শাহাদাত মার্চ ২০২৬

‘না। আর একজনকেও আমরা এভাবে হারিয়ে যেতে দেবো না।’ সাদিক মুষ্টিবদ্ধ হাতে দৃঢ়তার সাথে বলে।

সাত গোয়েন্দা টিমের ছয় জোড়া চোখে টিম লিডার সাদিকের দিকে।

সোনারপুর গ্রাম থেকে গত মাসে পরপর তিনজন কিশোর নিখোঁজ হয়েছে। এভাবে চলতে দিলে গোটা গ্রাম ফাঁকা হয়ে যাবে। ভয়ে মানুষ সোনারপুর ছাড়তে শুরু করবে। কেউ আর তাদের আদরের সন্তানদের হারাতে চাইবে না। সোনারপুর গ্রামকে রক্ষা করতেই হবে। সোনারপুর যমুনার বুকে যেন এক টুকরো সোনা। চরের এ মাটিতে বাদাম, তরমুজ, ফুটি, মিষ্টি কুমড়া ছাড়াও ফলে ধান-পাট, ডাল, শাকসবজি। যমুনার পানি আর পলিমাটির ছোঁয়ায় এ চরের মাটি খুবই উর্বর।

আগে দস্যুরা ফসল কাটার মওসুমে আসত চাঁদা আর ফসলের তোলা তুলতে। কৃষকদের কষ্টের ফসল, গরু-ছাগল-ভেড়া এমনকি হাঁস-মুরগি পর্যন্ত জোর করে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় তুলে নিত। প্রতিবাদ করলেই গুলি, নয়তো অপহরণ। কিন্তু কিশোররা কেন নিখোঁজ হচ্ছে?

নাফিস, নাবিল, নাইম, মারুফ, নাহিদ, হাবিব কারো মুখে কোনো কথা নেই। মুখে চিন্তার রেখা। সোনারপুর চরের এ রহস্যের সমাধান কোথায়? না থানা পুলিশ কেউ কোনো কিনারা করতে পারছে না। গ্রামের মানুষ বলছে মাইছা দেও ওদের ধরে নিয়ে গেছে। 

‘মাইছা দেও কী?’ সাদিকের কাছে জানতে চায় হাবিব।

‘দেও মানে দৈত্য। গ্রামের মানুষ মনে করে যমুনা নদীতে মাছ খেয়ে বেঁচে থাকে এমন অনেক দৈত্য আছে। তাদের ওরা মাইছা দেও বলে।’

‘তা মাছ খেয়ে বেঁচে থাকে এমন দৈত্য মানুষ ধরে নিয়ে যাবে কেন?’

‘গ্রামের মানুষদের অনেকের বিশ্বাস দৈত্যরা মাঝে মাঝে মানুষও খায়, নয়তো হত্যা করে।’

সাদিকের কথা শুনে সবার গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে।

সাদিক ওদের মনের অবস্থা বুঝতে পারে। সে বলে, ‘তোমরাও কি বিশ^াস করতে শুরু করলে নাকি? মাইছা দেও...’

‘আরে না।’ সবাই একসাথে বলে ওঠে।

‘তাহলে আর দেরি নয়। সোনারপুর চর রহস্যের কিনারা আমাদের করতেই হবে।’


২.

টাঙ্গাইল জেলা শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরের দুর্গম চরের নাম সোনারপুর। যমুনার রুপালি পানির বুকে সবুজ শ্যামলঘেরা প্রকৃতির মায়ায় গড়া চরটি। বন্যা-খরা, ঝড়-বৃষ্টি, সাপ-কুমির আর চাঁদাবাজ-ডাকাতদের ভয় উপেক্ষা করে এ গ্রামে বসবাস করেন কিছু সাহসী মানুষ।

তিন মাস ধরে এ গ্রামের শান্তিপ্রিয় মানুষের মাঝে নেমে এসেছে এক নতুন বিপদ-তাদের ছেলেরা বাড়ি থেকে বের হয়ে হারিয়ে যাচ্ছে। কেন, কীভাবে, কে কোথায় ধরে নিয়ে যায় কেউ জানে না। বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে-মাইছা দেও এ কাণ্ড ঘটাচ্ছে।

ভুয়াপুর থেকে কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরাম সাত গোয়েন্দা টিমকে অনুরোধ জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছে। সাদিক জাতীয় দৈনিক ও টিভি চ্যানেলগুলোর খবর তন্নতন্ন করে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। কিন্তু না। মূলধারার কোনো সংবাদমাধ্যমে এই নিউজ নেই। মানে বিষয়টিকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছে না। 

সাদিকের মনে প্রশ্ন জাগে, কেন? কার ভয়ে জাতীয় সংবাদমাধ্যমের স্থানীয় প্রতিনিধিরা বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন।

সাদিক সাত গোয়েন্দা টিম অভিযানে যাওয়ার আগে রেকি করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু কাজটা খুব সহজ নয়। অচেনা শত্রুর চোখ ফাঁকি দিয়ে রেকি করা। খুবই কঠিন। বিশেষ করে সোনারপুরের মতো ছোট গ্রামে। এখানে যারা বসবাস করে, তারা সবাই একজন আরেকজনকে চেনে। নতুন কাউকে দেখলে সন্দেহ করবে শত্রুরা। শত্রুদের চোখ ফাঁকি দেবে, কিন্তু শত্রুরা তা জানবে না এ কি সম্ভব? একটু ভুল করলেই বিপদ। কিন্তু বিপদ দেখে ভয় পেলে তো আর গোয়েন্দাগিরি সম্ভব নয়। ভয়কে জয় করে সোনারপুর রহস্যের কিনারা করতে হবে।


৩.

অবশেষে ঠিক হয় নাবিল ও নাইম আগামীকাল সোনারপুর গ্রামে যাবে। তারা গ্রামের মানুষদের সাথে কথা বলে বিস্তারিত জানবে। তারপর সাদিককে জানাবে। কিন্তু কোন পরিচয়ে তারা সেখানে যাবে?

‘সাংবাদিক পরিচয়ে যাবে।’ সবার আগে মুখ খুলল নাফিস।

‘না, সাংবাদিক পরিচয় দিলে শত্রুরা সতর্ক হয়ে যাবে।’ সাদিক বলে।

‘বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র পরিচয়ে চরের জনজীবন নিয়ে গবেষণা করতে...’

নাহিদের কথা শেষ হওয়ার আগেই সাদিকের মুখে হাসি ফুটে ওঠে, ‘গুড আইডিয়া...’

‘তোমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড, জাপানি হাই পাওয়ার টর্চ, পাওয়ার ব্যাংক, শুকনো খাবার, তাঁবু, ফোল্ডিং লাঠি, মোবাইল জিপিআরএস বসানো প্যান্ট রেডি করো।’ সাদিক কমান্ডারের মতো নির্দেশনা দেয়।

‘জিপিআরএস প্যান্টে কেন, জ্যাকেট, জুতা বা অন্য কোথাও নয় কেন?’ মারুফ প্রশ্ন করে।

‘কারণ ধরা পড়লে শত্রুরা সাধারণত জ্যাকেট-জুতা-জামা খুলে রাখে।’ সাদিক বলল।

‘আমরা এভাবে তো ভাবিনি।’

‘আরও বেশি বেশি পড়তে হবে। পড়লেই ভাবনাগুলো মাথায় আসে। গোয়েন্দা কাহিনিগুলো পড়লেই এমন অনেক কৌশল সম্পর্কে জানতে পারবে...’


৪.

খুব ভোরে নাবিল ও নাইম ভুয়াপুরের বাসে ওঠে। দুপুরের আগেই ভুয়াপুর, তারপর যমুনা নদীর পাড়ে পৌঁছে। সেখান থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় সোনারপুর চর।

‘নতুন নাকি?’ এক কান কাটা অদ্ভুত চেহারার কালো-খাটো এক বামন ওদের কাছে জানতে চায়। চেহারাটা দেখেই কেমন ভয় ভয় লাগে।

‘কেন?’ নাবিল তাকে বলে।

‘ডর করে না?’ অদ্ভুত চেহারার লোকটি বলে।

‘কীসের ডর?’ নাইম জিজ্ঞেস করে।

‘মাইছা দেও!’

‘তুমি কে?’ নাবিল বলে।

‘হা-হা-হা।’ বিকট শব্দে হেসে ওঠে লোকটা। দেখতে বামন হলেও হাসির আওয়াজ খুবই বিকট।

‘হাসছ কেন?’ নাবিল জিজ্ঞেস করে।

‘হাসব না তো কাঁদব? আমারে চরের সবাই চেনে। আর তুমি...’

‘আরে আমরা তো নতুন...’

‘এইতো সোজা পথে হাঁটছ, আমিও তাই।’

‘মানে!’

‘মানে জানতে চাইলাম, তোমরা নতুন নাকি? যাবে কোথায়?’

‘চেয়ারম্যান বাড়ি।’ নাবিল বলে।

‘এই চরে কোনো চেয়ারম্যান থাকে না। একজন মেম্বার আছে।’

‘ঠিক আছে মেম্বার বাড়িতেই যাব।’

‘যাও ঐ যে কাঁশবন তার পর ছোট খাল।’

‘খাল?’

‘হ্যাঁ খাল, তবে পানি নাই। সাবধান খালের পাড় ভরা জঙ্গল...’

‘ঠিক আছে আর ভয় দেখাতে হবে না। নাবিল মৃদু ধমক দেয়।

‘ঐ যে কইলাম মাইছা দেও।’

‘আচ্ছা আমরা চলি।’ বলে ওরা পা বাড়ায়।


৫.

হাঁটু সমান উঁচু ঘাস, নলখাগড়ার গাছ পেরিয়ে নাবিল আর নাইম সাবধানে হাঁটছে। আর মাত্র কয়েক কদম হাঁটলেই খাল। খালের ওপারেই মেম্বার মানে ইউনিয়ন কাউন্সিলের সদস্যের বাড়ি।

দুজনের চোখে সামনের দিকে। হঠাৎ নাইমের জামা নলখাড়ায় আটকে যায়। নাবিল হাঁটছে। কিন্তু নাইম কোথায়?

সামনে-পেছনে, ডানে-বামে কোথাও নেই। ভয়ে নাবিলের গলা শুকিয়ে যায়। এমন সময় সেই বিকট হাসি, ‘হা-হা-হা... মাইছা দেও...। তুমি ফিরি যাও।’ নাবিল ভেবে পায় না, সেই অদ্ভুত লোকটি কোথা থেকে এলো? নাইম কোথায় গেল?

ভয়ে নাবিলের মাথার চুলগুলো দাঁড়িয়ে যায়। সে এখন কী করবে ভেবে পায় না। দ্রুত সাদিককে ফোন করে। কিন্তু নেটওয়ার্ক দুর্বল। জিপিআরএস কাজ করছে না।

‘তুমি সামনে পা ফেলার আগে লাঠি দিয়ে দেখে নাও। মেম্বার বাড়ি গিয়ে উঠো আমরা আসছি।

এ এক মহা বিপদ। নাবিল সাদিকের পরামর্শমতো পা ফেলার আগে লাঠি দিয়ে পরীক্ষা করছে।


৬. 

নাইম চোখ খুলে দেখে অন্ধকার। ওর হাত-পা বাঁধা। পরনে প্যান্ট ছাড়া কিছু নেই। সে ভেবে পাচ্ছে না এখানে কী করে এলো, নাবিলই বা কোথায়? কীভাবে এখান থেকে উদ্ধার হবে। 

‘ও আ। মা গো...’ নাইম কান পেতে বুঝতে চেষ্টা করে এটি নাবিলের কণ্ঠ কি না। কিন্তু না অচেনা কারো আর্তনাদ।

‘নাবিল! নাবিল!’ নাইম চিৎকার করে ওঠে।

‘চুপ! মুখে টেপ লাগিয়ে দেবো।’ ভয়ংকর কর্কশ এক ধমক দিলো কেউ।

‘আমি কোথায়? নাবিল কই?’ নাইমের করুণ কণ্ঠ।

‘আমাদের খাঁচায় বন্দি।’ আবার সেই কর্কশ কণ্ঠ।

‘তোমরা কারা?’

‘আমরা সোনারচর মানে তোদের সোনারপুরের রাজা রঞ্জন বাহিনী।’

‘তোমরা কী চাও?’

‘চরের রাজত্ব।’

‘তা আমাদের বন্দি করছ কেন?’

‘তোরা জেন-জি, আমাদের শত্রু। চাঁদাবাজি, তোলাবাজি, দখলবাজির দুশমন। তোমাদের একটা একটা করে ধরে ইন্ডিয়া নিয়ে যাব। তারপরও কিডনি, কলিজা, হাড্ডি, মাংস বেইচা দিমু।’

নাইম আর কোনো কথা বলে না। চুপ হয়ে যায়। সে বুঝতে পারে ফাঁদে পড়েছে। কথা বলে লাভ নেই। বের হওয়ার কৌশল খুঁজতে হবে। প্যান্টের সেলাইয়ের ভাঁজে হাত দিয়ে দেখে জিপিআর ঠিক আছে কি না? সাদিকের কাছে সংকেত পাঠানোর চেষ্টা করে। সে বুঝতে পারে হারিয়ে হওয়া কিশোররাও এখানেই আছে।

সে মনে মনে দোয়া ইউনূস পড়ে, আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে। 


৭.

নাবিল আরও সতর্ক। কাশবন, সবুজ ঘাস আর নলখাগড়ার বনেই ওরা ফাঁদ পেতে রেখেছে। ভুলে পা পড়লেই ফাঁদে পড়ে ওদের বন্দিশালায় আটকে যাবে। সে বুঝতে পারে খালের পাড়ে ফাঁদে পড়ে নাইম হারিয়ে গেছে। চরের লোকেরা খাল বলে না, বলে মরা গাং। কিন্তু ঐ বামন কমরুদ্দি খালই বলছে, তার মানে মাথায় গণ্ডগোল থাকলেও তালে ঠিক।

সাদিক নাবিলের সংকেত পেয়ে পাঁচ বন্ধুকে নিয়ে দ্রুত সোনারপুরে ছুটে। এবার আর বাসে নয়, মোটরসাইকেলে চড়ে ওরা চলছে। যমুনা নদীর পাড়ে আসার পর নৌকায় উঠে বসে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ওরা যখন সোনারপুর পৌঁছাল, তখন সূর্য ডুবুডুবু। চরের চারপাশটা ঘন কাশবন আর ঝাউগাছে ঢাকা।

গ্রামের মেম্বার রহমত চাচাকে সাথে নিয়ে নাবিল ওদের স্বাগত জানায়। ওদের আসার খবর মেম্বার রহমত ছাড়া কাউকে জানানো হয়নি।

রহমত ওদের জানালেন, নিখোঁজ হওয়া তিনটি ছেলেই শেষবার চরের উত্তর দিকের ‘মরা গাঙের বাঁক’ এলাকায় গিয়েছিল।’

রহমত আরও বললেন, ‘চরের মানুষ গুজবে বিশ্বাস করে, তারা বলে ওখানে মাইছা দেও আছে। সন্ধ্যায় ওদিকে যাওয়া বিপদ। রাতে ওখানে লাল-নীল আলো দেখা যায়।’

‘বামন লোকটাও আমাকে এ কথা বলেছে।’ নাবিল বলে।

‘সে কমরুদ্দি। ছেলেটা ভালো। তবে মাথায় একটু গণ্ডগোল আছে। একদিন রাতে কমরুদ্দি মরাগাঙের পাড়ে আধমরা হয়ে পড়েছিল। চরের মানুষরা সকালে গিয়ে দেখে ওর একটা কান কে যেন কেটে নিয়ে গেছে। তারপর অনেক চেষ্টা করে ছেলেটাকে বাঁচানো গেছে। কিন্তু আর বড় হয় না। আবোলতাবোল বকে সারা দিন। এই হাসে এই কাঁদে।


৮.

রাত গভীর হয়। মরা গাঙের বাঁকের কাছে অ্যাম্বুশ পেতে বসে আছে সাদিক আর নাফিস। একটু দূরে হাবিব আর মারুফ অ্যাম্বুশ করে আছে, ওদের সাথে আছেন রহমত মেম্বার।

হঠাৎ ওরা দেখল, ঘন কুয়াশার ভেতর দিয়ে একটি ছোট ডিঙি নৌকা নিঃশব্দে এগিয়ে আসছে। নৌকায় চাদর মুড়ি দেওয়া দুই লোক। তাদের হাতে অদ্ভুত সব যন্ত্রপাতি। কিছুদূর গিয়ে ঐ নলখাগড়ার বনে ওরা একটি মাটির ঢিবির আড়ালে অদৃশ্য হয়ে গেল।

সাদিক ইশারায় নাফিসকে ডাকল। ওরা হামাগুড়ি দিয়ে কাছে গিয়ে দেখল, সেখানে একটি সুড়ঙ্গপথ। ভেতরে টিমটিমে আলো জ্বলছে। সাদিক বুঝতে পারল, এটা মানুষের তৈরি গভীর পাতালপুরী, মানে আয়নাঘর।

সাদিক তার পকেট থেকে সিগন্যাল টর্চ দিয়ে বাকি অন্যদের সংকেত দিলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই ছয় বন্ধু একত্রিত হলো। সুড়ঙ্গের ভেতরে ঢুকে ওরা যা দেখল, তাতে ওদের রক্ত হিম হয়ে গেল। সেখানে নিখোঁজ তিনটি ছেলেকে বেঁধে রাখা হয়েছে। আর পাশেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে নাইম।

ওর মনে পড়ে কিছুদিন আগে পড়া এক গোয়েন্দা গল্প-‘গ্রামের পাশের এই চরে মাটি খুঁড়তে গিয়ে একদল পাচারকারী চক্র প্রাচীন গুপ্তধনের সন্ধান পেয়েছিল। কিশোররা তা দেখে ফেলায় তাদের আটকে রাখা হয়েছিল যাতে খবরটি জানাজানি না হয়।’

না, এমন ভাবনা মন থেকে দূর করে দেয় সাদিক। আসলে এই চরটাই একটা ধনভান্ডার। দেশের কথিত সভ্য মানুষরা এবং প্রতিটি সরকারই এদের অবহেলা করে। কেউ খোঁজ নেয় না। কিন্তু চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা সেই সুযোগটা ঠিকই কাজে লাগায়।

হঠাৎ শোঁ শোঁ শব্দে সাদিক সতর্ক হয়। সবাই একসাথে শুয়ে পড়ে। জার্মান রাইখ রিভলবারে পরপর তিনটি গুলি সামনের দেওয়াল ছিদ্র করে ওপরের নলখাগড়ায় বিচরণ করা শিয়ালের বুক ভেদ করে। শিয়ালটি হোয়া শব্দে চিৎকার করে ওঠে। সাথে সাথে শিয়ালের দল হুকা-হোয়া ডাকতে থাকে। ওরা ছয়জন অন্ধকারে ক্রলিং করে নিঃশব্দে সামনে এগোতে থাকে। সাদিক সতর্কভাবে এনিমি ইন্ডিকেটরে শত্রুর অবস্থান শনাক্ত। হাতের শক স্টিক দিয়ে রিভলবার ধরা ব্যক্তিকে আঘাত করে। ইন্ডিকেটরের নিশানায় একটুও ভুল হয়নি।

‘মরে গেলাম রে...।’ বলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে বিশালদেহী লোকটা।

‘কী হলো রঞ্জন ভাই!’ ওদের একজন ভয়ার্ত গলায় জানতে চায়।

‘আমরা মনে হয় ধরা পড়ে গেছি। আমার রিভলবার হাত থেকে পড়ে গেছে। লাইট জ¦ালা গনেশ!’

সাথে সাথে উজ্জ্বল আলো জ¦লে ওঠে। বাইরে পুলিশের বাঁশির হুইসেল। শত শত লোকের লোকে স্লোগান, ‘রঞ্জন ডাকাতের বিচার চাই।’

সাদিকের বুঝতে বাকি থাকে না এটা চরের ত্রাস রঞ্জন ডাকাতের আস্তানা। রাজনীতির লেবেল লাগিয়ে সে এতদিন চরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। আজ তার খেলা শেষ।

এতক্ষণে নাইমের চেতনা ফিরেছে। তিনজন কিশোরকে সাথে নিয়ে সাত গোয়েন্দা বাইরে আসে।

ওদের সামনের সারিতে হাত উঁচু করে আত্মসমর্পণ করে রঞ্জন বাহিনী। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ভুয়াপুর থানার ওসি ও তার দল রঞ্জন বাহিনীর ডাকাতদের হাতে হাতকড়া পরিয়ে প্রিজন ভ্যানে তুলল। সাথে থাকা অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয় নাইম ও খুঁজে পাওয়া তিন কিশোরকে।

সোনারপুর চরের মানুষ সাদিক ও তার বন্ধুদের নিয়ে রহমত মেম্বারের বাড়িতে আনন্দে মেতে ওঠে। 

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ