তারকাদের শৈশবের ঈদ
খেলার চমক আবু আবদুল্লাহ মার্চ ২০২৬
বড় হলে সব মানুষই ছোটবেলার স্মৃতিগুলোকে বারবার মনে করতে পছন্দ করেন। ফিরে যেতে চান রঙিন শৈশবে। যারা বিখ্যাত হয়েছেন, তারা চাইলেও এখন আর গলিতে হেঁটে বেড়াতে পারেন না বন্ধুদের সাথে, পুকুরে ঝাঁপ দিতে পারেন না মনের আনন্দে। তাই রঙিন শৈশবের এসব স্মৃতি মনে করে সুখ অনুভব করেন। এই লেখায় জানাব কয়েকজন ক্রীড়া তারকার শৈশবের ঈদের স্মৃতির কথা।
মোহাম্মাদ আশরাফুল
বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রথম সুপারস্টার বলা হয় মোহাম্মাদ আশরাফুলকে। ২০০১ সালে টেস্ট অভিষেকেই সবচেয়ে কম বয়সি ক্রিকেটার হিসেবে সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি। রাজধানী ঢাকার মাদারটেক এলাকায় বেড়ে ওঠা সাবেক এই অধিনায়ক তার শৈশবের স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে জানিয়েছেন, ঈদের দিনও বন্ধু-কাজিনদের নিয়ে মহল্লার গলিতে নেমে যেতেন ক্রিকেট খেলতে।
শৈশবের ঈদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সাবেক এই টপঅর্ডার ব্যাটার বলেন, এখনো মনে আছে মুরুব্বিদের সালাম করলে ১০-২০ টাকা করে পেতাম। সেই টাকা একসঙ্গে করে বন্ধুরা মিলে শিশুপার্কে যেতাম। বলতে পারেন এটাই ছিল আমার শৈশবের ঈদ।
আশরাফুল আরও বলেন, বয়স ১৩ হতেই ক্রিকেট হয়ে পড়ে আমার সার্বক্ষণিক সঙ্গী। তখন ঈদের দিন নামাজের পর ক্রিকেট খেলাই হয়ে ওঠে আমার বিনোদন। ঈদের দিন আমরা, বিশেষ করে আমি ক্রিকেট খেলতাম। আমার খালাতো ভাইয়া খেলতেন ক্রিকেট, তাদের বাসায় ঢোকার গলিতে। আমিও সেখানে ঈদের দিন গিয়ে ক্রিকেট খেলতাম। মাদারটেক নতুন পাড়ায় ছিল খালার বাসা। বাসায় ঢোকার গলিটি ছিল খুব সরু। ৪ ফুট চওড়া সেই গলিতে খুব স্বাভাবিকভাবে গাড়ি ঢুকত না। আমরা ক্রিকেট খেলতাম।
তবে আনন্দের পাশাপাশি ঈদ নিয়ে করুণ স্মৃতিও আছে আশরাফুলের জীবনে। তার ভাষায়, ছেলেবেলায় একবার আমার পা ভেঙে গিয়েছিল, আমি ওই ভাঙা পা নিয়েই রোজার ও কুরবানির ঈদ করেছিলাম। সেই ঘটনাটি খুব মনে পড়ে। আমি ক্লাস ফোরে পড়ি তখন। লুকোচুরি খেলতে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে পা ভেঙে ফেলেছিলাম।
মোহাম্মাদ শামি ও সরফরাজ খান
ভারতীয় পেসার মোহাম্মাদ শামি বড় হয়েছেন ভারতের উত্তর প্রদেশের আমরোহা জেলার একটি গ্রামে। গ্রামেই চঞ্চল-উচ্ছ্বল শৈশব কেটেছে তার। ছোটবেলায় রমজান মাস থেকেই শুরু হতো তার ঈদের প্রস্তুতি। গ্রামের মুসলিম পরিবারগুলোতে লেগে যেত উৎসবের আমেজ। ঈদের দিনটি কাটত আনন্দ উদ্যাপনে। ভারতের হয়ে ৪৬২টি আন্তর্জাতিক উইকেট নেওয়া শামি তার শৈশবের ঈদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ঈদের দিনে বাড়িতে মেহমান আসত-এটাই আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের ছিল। আমরা দারুণভাবে ঈদ উদ্যাপন করতাম। পরস্পর কোলাকুলি করতাম।
২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ী এই পেসার বলেন, ছোটবেলায় বন্ধুদের মধ্যে যারা রোজা রাখত না-তাদেরকেই দেখতাম ঈদের জন্য বেশি প্রস্তুতি নিতে। এটা নিয়ে আমরা মজা করতাম।
২০২৩ ওয়ানডে বিশ^কাপের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি শামি আরও বলেন, ঈদের দিনের খাবারের মধ্যে আমাদের মেন্যুতে থাকত ফিরনি ও সেমাই। পাশাপাশি আমি বিরিয়ানি খেতে পছন্দ করতাম। আমার মা দারুণ বিরিয়ানি রান্না করেন। আমার বন্ধুরাও মায়ের রান্না করা বিরিয়ানি খেতে চাইত।
আরেক ভারতীয় ক্রিকেটার সরফরাজ খান তার ছোটবেলার ঈদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ঈদের দিন আমরা কুর্তা-পাজামা পরতাম এবং দল বেঁধে নামাজে যেতাম। সরফরাজ আরও জানান, ছোটবেলায় ঈদের দিন তার প্রিয় খাবার ছিল শির কুরমা। এ ছাড়া বন্ধু ও পরিবারের লোকদের সাথে নিয়ে ছবি তুলতেন।
বাবর আজম
পাকিস্তানি সুপারস্টার বাবর আজমের ছোটবেলা কেটেছে লাহোরে। লাহোরের ফিরদাউস মার্কেট, গুলবার্গ এলাকার অলি-গলিতে ছিল তার বেড়ে ওঠা। এখন বড় তারকা হওয়ার ফলে নতুন বাড়ি-গাড়ি সবই হয়েছে; আবার তারকা খ্যাতির কারণে যখন-তখন যেখানে-সেখানে ঘুরতে বা আড্ডা দিতেও পারেন না। যে কারণে শৈশবের স্মৃতিমাখা ঈদের দিনগুলো এখনো ভুলতে পারেন না। ২০২৩ সালে বাবর আজম ঈদের দিন ঘুরতে গিয়েছিলেন তার শৈশবের বাড়িতে। বাড়ি ও আশপাশের মানুষদের কাছে পেয়ে মনে পড়ে যায় ছোটবেলার দিনগুলোর কথা। সেই বাড়ি ও মহল্লার মানুষদের সাথে তোলা কিছু ছবি নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে বর্ণনা করেছেন ছোটবেলার স্মৃতি।
ঐতিহ্যগতভাবেই পাকিস্তানের শিশুরা ঈদের দিন কুর্তা-পাজামা পরতে পছন্দ করে। বাসায় বাসায় তৈরি হয় মিষ্টি জাতীয় নানা পদের খাবার। আর নামাজ শেষে শুরু হয় বন্ধুদের সাথে আড্ডা ও ঘোরাঘুরি। বাবর আজমও এসব আনন্দের মাঝে লাহোরের অলিতে গলিতে কাটিয়েছেন তার শৈশব কৈশোর।
আরও পড়ুন...