থার্টি সিক্স
সাইন্স ফিকশন রাসেল ইসলাম জানুয়ারি ২০২৬
জাফর ও রফিক যেমন বুদ্ধিমান তেমনই সাহসীও বটে। একদিন জাফর ও রফিক আসরের নামাজ শেষ করে রাস্তা দিয়ে হাঁটছিল। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ তাদের চোখে পড়ল মাঠের পাশ থেকে সবুজ বেগুনি রঙের আলোকরশ্মি, যা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। জাফর ও রফিক অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। রশ্মিটি ছিল খুবই স্নিগ্ধ। মাত্র কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। কী অবাক কাহিনি! জাফর-রফিক রশ্মিটির কাছে যেতে না যেতেই ফুলে-ফেঁপে প্রকাণ্ড গোলাকার প্রকোষ্ঠে রূপ নিল। ‘কী আশ্চর্য! দেখে তো মনে হচ্ছে অদ্ভুত ঊর্ধ্বগামী যান,’ বিস্মিত হয়ে রফিক বলে উঠল।
‘একি! এটার তো কোনো দরজা-জানালা দেখছি না,’ জাফর বলল।
জাফর ও রফিক কথা বলতে না বলতেই অদ্ভুত যানের দেওয়ালের মাঝখান থেকে কিছু অংশ অদৃশ্য হয়ে গেল। দেখা দিলো সুন্দর এক প্রবেশ পথ। সবুজ গালিচায় মোড়া সিঁড়ি। হঠাৎ সবুজ আলোকরশ্মি জাফর ও রফিকের শরীরে পড়ল, ঠিক সে সময়ে দরজা দিয়ে একটা কার্পেট বের হয়ে তাদের সামনে এসে থামল। ওদের শরীরে সবুজ আলোকরশ্মিটি পড়তেই ঘোরের মধ্যে কার্পেটে উঠে দাঁড়াল। ওদের নিয়ে কার্পেটটি পুনরায় ভেতরে চলে গেল।
যানটিতে প্রবেশ করতেই ভেসে এলো ‘স্বাগত তোমাদের।’
ওরা তাকিয়ে কাউকে দেখতে পেল না। যানটির দরজা আপনা-আপনিই বন্ধ হয়ে গেল।
ভেতরে জটিল যন্ত্রাংশে ঠাসা। ওদের পাশেই চমৎকার কুশন চেয়ার।
জাফর বলল, ‘আমার কাছে বিষয়টা ভালো ঠেকছে না।’
‘আল্লাহ ভরসা।’ রফিক বলল।
ওরা চেয়ারে বসে অনুভব করল, এটা অদ্ভুত ও আরামদায়ক।
কিঞ্চিৎ দুলে উঠল অদ্ভুত যানটি। চাকা নেই, পাখা নেই, ইঞ্জিনের চিহ্নও নেই। এমনকি ড্রাইভার ছাড়াই চলছে নিঃশব্দে, প্রচণ্ড বেগে চলছে অজানা কোনো গন্তব্যে।
ভয়ে-শঙ্কায় কেঁপে উঠছিল ওরা। ওদের অবস্থা বুঝতে পেরেই যেন অত্যন্ত ¯েœহভরা কণ্ঠে ভেসে এলো, ‘কোনো ভয় নেই তোমাদের, তোমরা আমাদের মেহমান।’
ওদের সামনের ডিসপ্লেতে স্পষ্ট বাংলায় লেখা উঠল। বিভিন্ন তথ্য। এখন যানটি কোথায় আছে, কত কিলোমিটার বেগে চলছে, এখানের আবহাওয়া এবং আশপাশের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিচ্ছে। ওদের ভাবনা শেষ না হতেই যানটি বিশাল উদ্যানের সামনে এসে থামল। একটি কণ্ঠস্বর ভেসে এলো, ‘আমরা এখন থার্টি সিক্স গ্রহে।’
এমন গ্রহের নাম কোনো দিন শোনেনি ওরা।
এখানে সূর্য নেই। চারপাশে সবকিছুই সবুজ। আকাশ লালচে। তাই চারপাশ আলোকিত দেখাচ্ছে।
ওদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য দরজার সামনে এ গ্রহের অনেকে উপস্থিত হয়েছে। এরা সবাই মানুষ। সবুজ পোশাক পরে আছে ওরা।
খাটো সুদর্শন দুজন ওদের নিয়ে এলো এক বড়ো বাড়িতে। জাফর-রফিক এ গ্রহের প্রধান বিজ্ঞানীর সাথে দেখা করল। ওদের না জানিয়ে তুলে আনার জন্য ক্ষমা চেয়ে বললেন, ‘আমাদের গ্রহে কেবল সৎ লোকের আবাসস্থল।’
আমরা তোমাদের পৃথিবীতে রাখা ‘আর্নপিয়াক-২২ নভোযানটির’ মাধ্যমে জানতে পেয়েছি, তোমরা খুবই বুদ্ধিমান ও সাহসী যুবক। তোমাদের মধ্যে বিশেষ গুণ রয়েছে, যা আমাদের পরবর্তী মিশনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ওরা অবাক হলো। রফিক বলল, ‘আমরা আপনার বুঝতে পারছি না।’
‘আমরা একটি বিশেষ মিশনে অংশ নিচ্ছি। যেটা বাস্তবায়নে পৃথিবীর দুজন মানুষ দরকার। আমরা তাদের ব্রেইন স্ক্যান করব। আমরা তোমাদের বেছে নিয়েছি।’
জাফর-রফিক তাদের পরবর্তী মিশনের কথা জানতে চাইলে বিজ্ঞানী বললেন, ‘আমরা তোমাদের পৃথিবীতে সিগন্যাল আকারে পাঠিয়ে দেবো। তবে কিছুটা ধারণা তোমাদের দিতে পারি। পৃথিবীকে আমরা আমাদের গ্রহের মতো ইসলামের সুমহান মডেল আকারে দেখতে চাই। তবে পৃথিবীতে এ বিষয়গুলো তোমরা গোপন রাখবে যত দিন না আমরা সফল হই।’
লম্বা দম ফেলে জাফর-রফিক সমস্বরে বলে উঠল, ‘জি, ইনশাআল্লাহ।
রফিক বলল, ‘কিন্তু আমরা তো আপনাদের আর কোনো কাজে লাগলাম না। শুধু কি এ মিশনের জন্যই আমাদের বাছাই করা হয়েছিল?’
‘জি না। তোমরা যখন আমাদের যানটিতে উঠছিলে, সে সময় সবুজ আলোকরশ্মি তোমাদের মস্তিষ্ক স্ক্যান করে নিয়েছে।’ একটু থেমে আবার বললেন, ‘অনেকটা সময় কথা বললাম। এখন বাইরের উদ্যান থেকে ঘুরে আসলে কেমন হয়?’
‘অবশ্যই ভালো হয়।’ ওরা বলল।
গাছে গাছে ফুটে আছে বিচিত্র ফুল। আর কত যে লোভনীয় ফল তার ইয়ত্তা নেই। বাগানটিতে স্নিগ্ধ আলোয় ঝলমল করছে সবকিছু। অথচ রোদের তেজ নেই। নেই জোছনার অস্পষ্টতা কিংবা কৃত্রিম বাতির সমারোহ। ফলগুলো দেখে খুব লোভ হচ্ছে জাফরের। ক্ষুধার্তও ছিল সে।
বিজ্ঞানী বললেন, ‘আল্লাহর নিয়ামত তোমরা ইচ্ছেমতো গ্রহণ করো।’
জাফর একটা আপেল তুলে নিল। রফিক খেতে থাকল একটা ডাঁসা পেয়ারা।
‘এত স্বাদ কোনো আপেলে আগে পাইনি।’ জাফর বলল।
তাদের মুখ থেকে বেরিয়ে এলো, ‘আলহামদুলিল্লাহ।’
একটু পরেই জাফর-রফিকের বিদায় নেওয়ার সময় চলে এলো। বিজ্ঞানীসহ সবাই ওদের বিদায় জানাল।
হঠাৎ একঝলক রশ্মি তাদের যানটিতে উঠতে সাহায্য করল। সঙ্গে সঙ্গে আলোর গতিতে তারা পৃথিবীর মধ্যে অবতরণ করল। এমনকি যানটি নিমিষেই বাতাসের সাথে মিশে গেল। এদিকে পৃথিবীতে সময়ের কোনো পরিবর্তন ঘটল না।
কিশোরকণ্ঠ সায়েন্স ফিকশন প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত
আরও পড়ুন...