তুমুল ঝড়ের পর
হাদীসের আলো বিলাল হোসাইন নূরী জুলাই ২০২৬
বাইরে তুমুল বৃষ্টি!
ঝড়ো বাতাসের ঝাপটায় গাছপালা বারবার নুয়ে পড়ছে। মাঝে মাঝে বিজলির ঝলকে ফরসা হয়ে ওঠে আকাশ-পৃথিবী, আবার ডুবে যায় আগের আঁধারে। ভেজা মাটির গন্ধে চারপাশ ভরে আছে। ভয়ের ভেতরও যেন এক অদ্ভুত সুন্দরের খেলা।
এমন বাদলা দিনে ইরফান তো জানালার পাশেই থাকার কথা। অথচ সে বিছানায় পড়ে আছে! বাবা বললেন-কী হয়েছে?
ইরফান জানাল-তার সব স্বপ্ন শেষ! তাই মনটা ভীষণ খারাপ। বেশ কিছুদিন ধরে দিনরাত একাকার করে সে একটা রোবোটিক্স প্রজেক্ট বানিয়েছিল, বিজ্ঞান মেলার জন্য। কিন্তু আজ প্রতিযোগিতার ঠিক আগের দিন ইরফানের অসাবধানতায় একটি চেয়ার প্রজেক্টটির ওপর পড়ে যায়। ব্যস! ইরফানের সাধের রোবটটা ভেঙে চুরমার। যেন সে নিজেই ভেঙে খানখান হয়ে গেছে।
বাবারও খারাপ লাগল। ইরফানের মাথায় একবার হাত বুলিয়ে নিজেও শুয়ে পড়লেন।
বিকেলবেলা। আসরের ঠিক আগে ঝড় থেমে যায়। সব মানুষ বাইরে বেরিয়ে এসেছে। এমনকি শিশু-কিশোররাও। বাবা ইরফানকে বললেন-চলো, নামাজ পড়ে আমরাও আমাদের বাগানগুলো ঘুরে দেখি।
বাগানগুলো যেন ব্যথায় কাঁদছে। বেশ কিছু মেহগনিগাছ ভেঙে পড়ে আছে। শেকড়সহ উপড়ে সোজা শুয়ে পড়ছে কোনোটা। কড়ইগাছের বিশাল বিশাল ডাল পড়ে আছে এলোমেলোভাবে। এবার তারা এলো মাঠের কাছে। পানি থইথই করছে। আর আমনধানের সবুজ কচি চারাগুলো মাথা উঁচু করে জেগে আছে। ঝিরিঝিরি বাতাসে তারা দুলছে তো দুলছেই। যেন তাদের মনে সুখের কোনো শেষ নেই! বাবা বললেন-দেখলে তো? বড় গাছগুলো ভেঙে পড়েছে আর ধানের নরম চারাগুলো যেমন ছিল তেমনই আছে?
ইরফান অবাক হয়ে বলল-তাইতো!
বাবা এবার একটি হাদিস বললেন-রাসূল (সা) বলেছেন, “মুমিনের উপমা হলো ফসলের নরম চারাগাছের মতো। যার ওপর যেদিক থেকেই বাতাস বয়ে যায়, তাকে ঝুঁকিয়ে দেয়। আবার বাতাস থেমে গেলে সেটা সোজা হয়ে দাঁড়ায়। এভাবেই মুমিন সব সময় পরীক্ষা ও বিপদের মুখোমুখি হতে থাকে। আর পাপাচারী হলো দেবদারু বা পাইনগাছের মতো, যা সব সময় সোজা ও দৃঢ় থাকে। অবশেষে আল্লাহ যখন ইচ্ছে করেন, একবারেই তাকে ভেঙে দেন বা উপড়ে ফেলেন।” [সহীহ বুখারি-৫৬৪৪, সহীহ মুসলিম-২৮০৯]
বাবা বললেন-এর মানে কি জানো? যত বিপদই আসুক, মুমিন ভেঙে পড়ে না। সবর করে। আল্লাহর ফয়সালা মেনে নেয়। এরপর ধীরে ধীরে সবকিছু ঠিক হয়ে যায়। আল্লাহর রহমত নেমে আসে। আর পাপীকে আল্লাহ বিপদ-আপদ দিয়ে পরীক্ষা করেন না। পৃথিবীতে সে নানাভাবে প্রতিষ্ঠিত হলেও শেষমেষ একেবারেই ধ্বংস করে দেন!
ইরফান বলল-তাহলে তো আমার অধৈর্য হওয়া চলবে না! এবার না হোক, আগামীবার তো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারব।
বাবা বললেন-ইনশাআল্লাহ।
বিলাল হোসাইন নূরী
আরও পড়ুন...