অপরূপ পাখি নীলপরী

চিত্র-বিচিত্র শাহীন হোসাইন নভেম্বর ২০২৫

নীল ডানার অদ্ভুত সুন্দর পাখি নীলপরী। নীলপরী বৃক্ষচারি ও চিরসবুজ বনের পাখি। এটি বাংলাদেশের দুর্লভ আবাসিক পাখি। নীলপরী পাখি বাস করে বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে। সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি বনে এদের দেখা যায়। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, চীন, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কার বনেও এদের দেখা যায়।

পাখিটির ইংরেজি নাম Asian fairy-bluebird বৈজ্ঞানিক নাম Irena puella. এরা Irenidae গোত্রের অন্তর্গত। নীলপরী Passeriformes বর্গের পাখি অর্থাৎ এরা গায়ক পাখি। এরা একসাথে সুর করে ডাকে। 

নীলপরী মাঝারি আকারের পাখি। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির দেহের দৈর্ঘ্য ২৪-২৭ সেন্টিমিটার। এদের দেহের ওপরের অংশ, অর্থাৎ মাথা থেকে কোমর পর্যন্ত উজ্জ্বল চকচকে বেগুনি নীল। লেজ, ডানা ও দেহের নিচের অংশ চকচকে কালো। উভয় ডানার ওপর দুটি করে বেগুনি নীল ফোঁটা রয়েছে। চিবুক ও মুখমণ্ডল গাঢ় মখমলে কালো। লেজতল নীলচে। চঞ্চু সোজা ও কালো।

অন্যদিকে মেয়ে পাখি পরিপূর্ণ নীল-সবুজ। ডানা ও লেজ ফ্যাকাশে কালো। ডানার প্রান্ত নীলচে ধূসর। চঞ্চু বাদামি কালো। এরা সাধারণত ১০-১২ বছর বাঁচে।

নীলপরী সামাজিক পাখি। সাধারণত এরা একাকী, জোড়ায় বা পাঁচ-ছয়টির ছোট দলে থাকে। গাছে গাছেই এদের বিচরণ। বুনো ফল, ফুলের মধু এদের প্রিয়। মাঝেমধ্যে পোকামাকড়ও খায়। দিবাচর পাখিগুলো সাধারণত ফলজ গাছের ওপরেই বিচরণ করে। 

এরা মাটিতে খুব কম নামে। তবে ফল ও পোকামাকড়ের জন্য ঝোপঝাড়ে নামে। পছন্দের পাকা ফলের গাছ পেলে সেখানে নিয়মিত আসা-যাওয়া করে।

পাখিটি খুব চমৎকার বাসা বানায়। বনের উঁচু বৃক্ষই তাদের পছন্দ। ভূমি থেকে দুই থেকে ছয় মিটার উঁচুতে গাছের ডালে ঘন পাতার আড়ালে বাসা বানায়। মাকড়সার জাল, পাতার শিরা, লাইকেন, মস ও আঁশ দিয়ে গোলাকার বাটির মতো বাসা বানায় গাছের ডালে।

অপূর্ব সুন্দর এই পাখিটি বন ধ্বংসের কারণে বাংলাদেশ থেকে ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। এদের সংরক্ষণে বাংলাদেশ বন বিভাগের সাথে আমাদের সবার সচেতনতার প্রয়োজন। 

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ