গোধূলির গল্প

তোমাদের গল্প ছায়াবীথি শ্যামলিমা এপ্রিল ২০২৫

দুপুরের রোদ চারদিক যেন ঝলসে দিচ্ছে। স্কুল ছুটি হলো। সহপাঠীদের সাথে বেরিয়ে এলো গোধূলি ও হেনা। দুজনের মুখ হাসিতে ঝলমল করছে। স্কুলে আজ গরমের ছুটি দিয়েছে। কী যে আনন্দ! হাঁটতে হাঁটতে গোধূলি বলল, ‘শোন হেনা, আম্মুকে আজ বলবো মামাবাড়ি যেতে। ছুটির কয়েকটা দিন বেশ মজা করবো!’

হেনা বলল, ‘দারুণ হবে আপু। অনেক দিন তো মামাবাড়ি যাইনি।’

শ্রাবণী খুব ঘামছিল। হাতের চেটো দিয়ে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে সে বলল, ‘তোদের মামাবাড়ি কোথায় রে?’

গোধূলি বলল, ‘ফরিদপুরে। তুই ছুটিতে কোথাও বেড়াতে যাবি না?’

‘যাবো তো। জানিস, আমার মামাবাড়িতে পুকুর আছে। ঝাঁপিয়ে গোসল করবো।’

কথা বলতে বলতে পথ ফুরিয়ে এলো। বাড়ির কাছাকাছি এসে গোধূলি বন্ধুদের বলল, ‘গেলাম রে। তোরা সবাই ভালো থাকিস। এই কয়েকদিন তো আর আমাদের দ্যাখা হচ্ছে না।’

বাড়িতে এসে দুই বোন হাত-মুখ ধুয়ে খেতে বসলো। আম্মু খাবার বেড়ে দিলেন। হেনা বলল, ‘আম্মু জানো, আজ স্কুলে গরমের ছুটি দিয়েছে। চলো আমরা মামাবাড়ি বেড়াতেই যাই।’

আম্মু হাসলেন। ‘হ্যাঁ সোনারা, সে তো যাবোই। তোমরা খেয়েদেয়ে ব্যাগ গুছিয়ে নাও। আমরা সন্ধের ট্রেনেই মামাবাড়ি যাব ইনশাল্লাহ।’

হেনা খুশিতে চেঁচিয়ে উঠল। আম্মু ধমক দিলেন, ‘খেতে বসে চিৎকার করে না। খেয়ে নাও।’

বিকেলে আব্বু ফিরলেন। খেয়েদেয়ে তিনিও তৈরি হলেন। সন্ধের আগদিয়ে সবাই বেরিয়ে পড়লো। আব্বুর হাতে ব্যাগ। আম্মুর কোলে তিন বছরের হৃদ্য, গোধূলির ছোট ভাই। আব্বু টিকিট কেটে নিয়ে এলেন। ট্রেন এলে সবাই উঠে পড়লো কামরায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ছেড়ে দিলো ট্রেন। কু ঝিকঝিক ঝিকঝিক...। কী যে মিষ্টি এই আওয়াজ! গোধূলি আর হেনা কান পেতে শুনতে লাগলো সেই শব্দ। হৃদ্য অনর্গল কথা বলে যেতে লাগলো। কী বলে, ভালোমতো বোঝা যায় না। তবে শুনতে খুব মিষ্টি লাগে। ব্যাগ খুলে আম্মু সবাইকে পরোটা আর ডিমভাজি খেতে দিলেন। হৃদ্য ঘুমিয়ে পড়লো মায়ের কোলে। কিছুক্ষণের মধ্যে গোধূলি ও হেনাও ঘুমিয়ে পড়লো ট্রেনের দোলায় দুলতে দুলতে।

আম্মুর ডাকাডাকিতে ঘুম ভাঙলো। ‘এই, তোমরা ওঠো। সকাল হয়ে গেছে।’

চোখ কচলে দুই বোন উঠে দেখলো, ভোরের ঝলমল আলোয় কামরা ভরে গেছে। ফ্লাস্ক থেকে মগে দুধ ঢেলে আম্মু হৃদ্যকে খাওয়াতে লাগলেন। আব্বু বাথরুম থেকে এলেন। বললেন, ‘তৈরি হয়ে নাও। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা স্টেশনে পৌঁছে যাব।’ এই বলে আব্বু ব্যাগ ঠিকঠাক করতে লাগলেন।

স্টেশনে এসে ট্রেন থামলো। আব্বু সবাইকে নামতে সাহায্য করলেন। তার দুই হাতে ব্যাগ। আম্মুর কোলে হৃদ্য। একটা অটোরিকশা ঠিক করলেন আব্বু। এরপর সবাই উঠে পড়লো তাতে। আধঘণ্টার মধ্যেই তারা পৌঁছে গেল। আম্মু আগেই মোবাইলে কল দিয়ে মামাকে জানিয়ে দিয়েছিলেন আসার কথা। নানি দাঁড়িয়েছিলেন বাড়ির সামনে। তাদের দেখতে পেয়ে এগিয়ে এলেন।

কিছুক্ষণের ভেতরই হইচইতে ভরে উঠল বাড়িটা। নানি ও মামি মিলে মজার মজার খাবার রান্না করতে লেগে গেলেন। রান্নাঘরে বসে আম্মু তাদের সাথে গল্প করতে লাগলেন। গোধূলির মামাতো বোন রুকির বয়েস চার বছর। উঠোনে পাটির ওপর তার সাথে খেলায় মেতে উঠল হৃদ্য। গোধূলি আর হেনা উঠোনের চারপাশ ঘুরে বেড়াতে লাগলো। নানারকমের গাছপালা চারদিকে। হঠাৎ হেনা বলল, ‘আপা দ্যাখ, ভাই কী যেন চাবাচ্ছে...’

গোধূলি দৌড়ে এলো। হেনাও। দেখলো, পাটির ওপর কয়েকটা মার্বেল। রুকিই হয়তো খেলার জন্য এনেছে। গোধূলি বলল, ‘তাড়াতাড়ি মুখ থেকে ওটা ফেলে দাও হৃদ্য।’

হৃদ্য ফেললো না। চিবোতেই লাগলো। কী করা যায়! হেনা বলল, ‘ওভাবে হবে না আপা। ভাইকে হাসাতে হবে। ও যখন হাসবে তখন ওর মুখ থেকে মার্বেলটা বের করে নিতে হবে।’

কী চমৎকার বুদ্ধি! কিন্তু কীভাবে হৃদ্যকে হাসানো যায়? হঠাৎ গোধূলির খেয়াল হলো, মামির শোকেসে হাতির একটা মুখোশ সাজিয়ে রাখা আছে। সেটা নিয়ে এলেই হয়। সে দৌড়ে ঘরে গিয়ে মুখোশটা নিয়ে এলো। এরপর সেটা মুখে পরে হাতির মতো অঙ্গভঙ্গি করতে লাগলো। আর, মুখ দিয়ে হাতির মতো আওয়াজ করতে লাগলো। এই দেখে হৃদ্য হেসে দিলো। আর অমনি হেনা তার মুখ থেকে মার্বেলটা বের করে ফেললো। রান্নাঘর থেকে থালা হাতে মামি বেরিয়ে এলেন। থালায় ফালি-ফালি করে কাটা আম।

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ