চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি চ্যাম্পিয়নদের
খেলার চমক আবু আবদুল্লাহ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
আবার এলো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। দীর্ঘ ৮ বছর পর আবার এই টুর্নামেন্ট আবার ফিরে এসেছে ক্রিকেট সমর্থকদের জন্য। সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৭ সালে। সেবার চ্যাম্পিয়ন হয় পাকিস্তান। এরপর আইসিসি এই টুর্নামেন্ট বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। যে কারণে মাঝখানে একটি আসর (২০২১) অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে দর্শক চাহিদার কথা চিন্তা করে আবারো ফিরিয়ে আনা হয়েছে এই ওয়ানডে টুর্নামেন্ট।
১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে টুর্নামেন্ট। এবারের স্বাগতিক দেশ পাকিস্তান। খেলবে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের সেরা ৮টি দল। তাই জমজমাট লড়াই আশা করছেন সবাই। ক্রিকেট বোদ্ধারা বলছেন, দলগুলোর যে কেউ শিরোপার দাবিদার হয়ে উঠতে পারে। স্বাগতিক ও আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান চাইবে আবারো শিরোপা ধরে রাখতে। তাদের আছে দুুর্দান্ত একটি পেস বোলিং ডিপার্টমেন্ট। ব্যাটিংয়েও বাবর আজম, রিজওয়ানরা ছেড়ে কথা বলবেন না। ভারত অনেকদিন ধরেই দারুণ একটি টিম। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা কিংবা জাসপ্রিত বুমরাহ দারুণ ফর্মে আছেন অনেকদিন ধরে। দল হিসেবে অস্ট্রেলিয়া বরাবরই সেরা। মিচেল স্টার্ক কিংবা গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের সাথে আছেন আরো কিছু দারুণ পারফরমার।
দল হিসেবে ইংল্যান্ডও সমীহ জাগানিয়া। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড এই টুর্নামেন্টের সাবেক চ্যাম্পিয়ন। তাদেরকেও হিসাবের বাইরে রাখা যাবে না। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানকে কিছুটা দুর্বল দল হিসেবে চিহ্নিত করলেও যে-কোনো ম্যাচে জ¦লে ওঠার সামর্থ্য তাদের আছে। এবং এরকম দুয়েকটি ম্যাচেই পাল্টে যেতে পারে টুর্নামেন্টের হিসাব নিকাশ। বাংলাদেশ ২০১৭ আসরের সেমিফাইনালে উঠেছিল। দল হিসেবে আফগানিস্তান সাম্প্রতিক সময়ে ভালো খেলছে। তাই চ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্ট নিয়ে আগাম ভবিষ্যদ্বাণী করা কঠিন। যেখানে আটটির মধ্যে পাঁচটি দলই টুর্নামেন্টের সাবেক চ্যাম্পিয়ন।
গোড়ার কথা
আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শুরুর সাথে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের নাম। ১৯৯৮ সালের জুন মাসে ঢাকায় এই টুর্নামেন্টের প্রথম আসর অনুষ্ঠিত হয়। তবে বাংলাদেশ সেই টুর্নামেন্টে খেলতে পারেনি। নকআউট ফরম্যাটের টুর্নামেন্টে খেলেছিল টেস্ট খেলুড়ে নয়টি দেশ। তখন টুর্নামেন্টের নাম ছিল উইলস ইন্টারন্যাশনাল কাপ। সবাই বলতো ‘মিনি বিশ^কাপ’ বা ‘আইসিসি নকআউট ট্রফি’। সেই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।
এর আগে আইসিসি শুধু ওয়ানডে বিশ^কাপ আয়োজন করতো। ওই বছর থেকে দ্বিতীয় আরেকটি নকআউট ওয়ানডে টুর্নামেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। উদ্দেশ্য ছিল এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশগুলোর ক্রিকেটের জন্য তহবিল সংগ্রহ করা এবং ক্রিকেট জনপ্রিয় করা। যে কারণে টুর্নামেন্টের প্রথম দুটি আসর অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ও কেনিয়ায়। তবে এরপর থেকে টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোও এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের আগ্রহ দেখায় এবং পর্যায়ক্রমে সব দেশকে আয়োজনের সুযোগ দেয় আইসিসি।
শুরুর দিকে টুর্নামেন্ট হতো ২ বছর পরপর। দল সংখ্যা একেকবার একেক রকম। ২০০২ সালে সর্বোচ্চ ১২টি দল অংশ নেয় টুর্নামেন্টে। ২০০৯ সাল থেকে আইসিসি এই টুর্নামেন্ট চার বছর পরপর এবং আট দল নিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়।
মাঝখানে ২০১৭ সালের আসরের পর আইসিসি সিদ্ধান্ত নেয় শুধুমাত্র একটি ওয়ানডে টুর্নামেন্ট আয়োজনের, সেটি ওয়ানডে বিশ^কাপ। বিশ^ব্যাপী টি-টোয়েন্টির প্রসার এবং বিভিন্ন দেশে ফ্রাঞ্চাইজি লিগের ব্যস্ততার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। যে কারণে ২০২১ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হয়নি। তবে দর্শক চাহিদা ও স্পন্সরদের আগ্রহের কারণে আবার এই টুর্নামেন্টকে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এবারের আসর
এবারের আসরটি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির নবম আসর। অংশ নেবে আটটি দেশ। পাকিস্তান টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। এবারের স্বাগতিক দেশও পাকিস্তান। তবে পাকিস্তানের সাথে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে ভারত দেশটিতে সফর করবে না, যে কারণে ভারতের ম্যাচগুলো হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের সাথে আইসিসির প্রচুর দেনদরবার হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়- ভারত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে পাকিস্তানে যাবে না, বিনিময়ে পাকিস্তানও কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলতে ভারতের মাটিতে যাবে না। সেক্ষেত্রে ভারতে আয়োজিত টুর্নামেন্টেও পাকিস্তানের ম্যাচগুলো হবে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে।
এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল বাছাই করা হয়েছে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ^কাপের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে। স্বাগতিক দেশ হিসেবে পাকিস্তান সরাসরি সুযোগ পেয়েছে। বাকি ৭টি দল হলো ওই বিশ^কাপের প্রথম রাউন্ডের পয়েন্ট টেবিলের সেরা দলগুলো। এই প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে পারছে না সাবেক চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা। ওয়ানডে বিশ^কাপে ভালো না করায় দলটি বাদ পড়েছে। অন্য দিকে আফগানিস্তান এবার প্রথম খেলছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে।
আটটি দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে খেলবে টুর্নামেন্টে। দুই গ্রুপের সেরা চারটি দল সেমিফাইনালে খেলবে। পাকিস্তানের তিনটি শহরে টুর্নামেন্টের খেলাগুলো হবে। ফাইনালসহ ৫টি ম্যাচ হবে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে। এই স্টেডিয়ামে দর্শক ধারণক্ষমতা ২৭ হাজার। তিনটি করে ম্যাচ হবে করাচি ন্যাশনাল স্টেডিয়াম ও রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। দুই স্টেডিয়ামের ধারণ ক্ষমতা যথাক্রমে ৩৪ হাজার ও ১৫ হাজার।
নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ক্রিকেট স্টেডিয়ামকে। ভারতের গ্রুপ ম্যাচগুলো এখানে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ভারত সেমিফাইনাল ও ফাইনালে উঠলেও সেই ম্যাচ হবে দুবাই স্টেডিয়ামে। এই মাঠের ধারণ ক্ষমতা ২৫ হাজার।
আরও পড়ুন...