টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ধামাকা

প্রচ্ছদ রচনা আবু আবদুল্লাহ জুন ২০২৪

আবার এসে গেল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। চার-ছক্কার উন্মাদনায় মেতেছে ক্রিকেট বিশ্ব। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসরটি ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতম সংস্করণের নবম আসর। দ্বিবার্ষিক এই টুর্নামেন্টের এবারের আসরের আয়োজক যৌথভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্র। টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। ২০২২ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে তারা পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়।

এবারের আসরেও ইংল্যান্ড টপ ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামবে। সেই সাথে অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, ভারতকেও ভাবা হচ্ছে শিরোপার সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে। স্বাগতিক দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ সাম্প্রতিক সময়ে খুব একটা ভালো খেলছে না। তবু এই দলটিকে বিবেচনার বাইরে রাখা যাবে না, কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটাররা সারা বছর বিশে^র বিভিন্ন প্রান্তে টি-টোয়েন্টি লিগগুলোতে দাপটের সাথে খেলেন। তাছাড়া তারা এই বিশ^কাপের শিরোপা জিতেছে দুইবার। বাংলাদেশও ভালো কিছু করার আশায় রয়েছে। পেসার মোস্তাফিজুর রহমান আইপিএলে ভালো বোলিং করে আরো আত্মবিশ^াসী হয়ে উঠেছেন। বিশ^কাপে নিজেকে মেলে ধরতে পারলে সেটা বাংলাদেশর জন্য দারুণ হবে।


২০ দলের বিশ্বকাপ

এই প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কোনো আসরে ২০টি দল অংশ নিচ্ছে। ২০২২ আসরে দল সংখ্যা ছিল ১৬টি, এবার তা বাড়িয়ে ২০টি করা হয়েছে। আইসিসি অনেকদিন ধরেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বিশ^ায়ন করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। সহযোগী সদস্য সব দেশকে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে। এরপর এসব দলকে বিশ^কাপেও সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

এবারের আসরের দলগুলোর মধ্যে সরাসরি সুযোগ পেয়েছে দুইটি স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গত আসরের পয়েন্ট টেবিলের সেরা ৮টি দল ইংল্যান্ড, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড, সাউথ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা ও নেদারল্যান্ড। আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ের ওপর ভিত্তি করে দুটো দলকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সেই দুটি দেশ হলো বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। এছাড়া এবারই প্রথম মহাদেশ ভিত্তিক বাছাইপর্ব করে দল নেওয়া হয়েছে। ইউরোপ থেকে আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড, এশিয়া থেকে নেপাল ও ওমান, আফ্রিকা থেকে নামিবিয়া ও উগান্ডা, আমেরিকা অঞ্চল থেকে কানাডা এবং এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে পাপুয়া নিউ গিনি।

মহাদেশ ভিত্তিক বাছাইপর্ব করায় এমন কিছু দেশ সুযোগ পেয়েছে, যারা ক্রিকেট দুনিয়ায় ধীরে ধীরে পা ফেলছে। বিশ্বকাপের মতো বড়ো মঞ্চে খেলতে পারাটা তাদের জন্য বড়ো সুযোগ হয়ে দেখা দেবে। যা দলগুলোকে ভবিষ্যতে আরো ভালো খেলতে প্রেরণা দেবে।

তবে আইসিসির স্থায়ী সদস্য ও সহযোগী সদস্য দেশগুলোর মাঝে শক্তির পার্থক্য বেশি হওয়ার কারণে বিশ্বকাপের অনেক ম্যাচ একপেশে হয়ে যেতে পারে। যেটি টুর্নামেন্টের উত্তেজনা কমিয়ে দিতে পারে। যেমন ওমান, নামিবিয়ার মতো দলগুলো যখন ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলবে- সেই ম্যাচ খুব একটা দর্শক টানতে পারবে না।

যে কারণেই হয়তো আইসিসি সুপার এইট পর্ব চালু করেছে। এই পর্বে নকআউটের বদলে দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে লড়াই করবে সেরা ৮টি দল। অনেকেই এটিকেই বলছেন ‘মূল বিশ^কাপ’। কারণ এখানে সেরা দলগুলো পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়াই করবে।


মার্কিন মুল্লুকে বিশ্বকাপ

প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এই প্রথম ক্রিকেটের কোনো বিশ্বকাপ আসরের আয়োজক হলো। দেশটিতে ক্রিকেটের খুব একটা পরিচিতি নেই। সেখানে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়াতেই আইসিসি দেশটিকে সহ আয়োজক করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গরাষ্ট্রের তিনটি স্টেডিয়াম প্রস্তুত করা হয়েছে এবারের বিশ্বকাপের জন্য।

নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ডের নাসাউ কাউন্টি স্টেডিয়ামটি বানানো হয়েছে এবারের বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যেই। ৩৪ হাজার আসন বিশিষ্ট স্টেডিয়ামটিতে গ্রান্ড স্ট্যান্ড, ভিআইপি গ্যালারি, হসপিটালিটি বক্সসহ সব ধরনের সুবিধা আছে। নিউ ইয়র্ক সিটির প্রাণকেন্দ্র ম্যানহাটন থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরত্বের এই স্টেডিয়ামটিতেই হবে ভারত-পাকিস্তানের হাইভোল্টেজ ম্যাচ। এছাড়াও আরো ৭টি ম্যাচ হবে এই মাঠে।

আইসিসি জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার এডিলেড ওভাল কিংবা কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সের মতো পিচ বানানো হয়েছে এই মাঠে। তিন মাস আগ থেকে ফ্লোরিডায় তৈরি হয়েছে এই মাঠের পিচ। পরে বিমানে করে এনে বসানো হয়েছে স্টেডিয়ামটিতে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও টেক্সাস অঙ্গরাষ্ট্রকেও বিশ^কাপের ভেন্যু করা হয়েছে। ফ্লোরিডার লডারহিল শহরের সেন্ট্রাল ব্রোওয়ার্ড রিজিওনাল পার্ক স্টেডিয়ামে ম্যাচ হবে ৪টি। এই স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৪০ হাজার। এছাড়া টেক্সাসের গ্রান্ড প্রাইরি স্টেডিয়ামেও চারটি ম্যাচ হবে। এই মাঠের গ্যালারিতে এক সাথে বসতে পারবেন ১৫ হাজার দর্শক।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছয়টি পৃথক ভেন্যুতে বিশ^কাপের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য খারাপ খবর হচ্ছে এসব স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণক্ষমতা ১০ থেকে ২০ হাজারের মধ্যে। এমনিতেই ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আসনসংখ্যা তুলনামূলক কম। তার ওপর নামকরা কয়েকটি স্টেডিয়ামে এই বিশ^কাপের ম্যাচ হচ্ছে না। পোর্ট অব স্পেনের বিখ্যাত কুইন্স পার্ক ওভালে এবার কোনো ম্যাচ হবে না। তার বদলে ম্যাচ হবে স্যান ফার্নান্ডো শহরের ব্রায়ান লারা ক্রিকেট অ্যাকাডেমির মাঠে। যার ধারণ ক্ষমতা মাত্র ১৫ হাজার।

এন্টিগা এন্ড বারবুডার স্যার ভিভিয়ান রিচার্ড স্টেডিয়ামে বিশ^কাপের ৮টি ম্যাচ হবে। এই মাঠের আসন সংখ্যা মাত্র ১০ হাজার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সুপরিচিত ভেন্যুগুলোর মধ্যে বার্বাডোজের কেনিংসটন ওভালে হবে ফাইনালসহ ৯টি ম্যাচ। এই মাঠের ধারণ ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি ২৮ হাজার।

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ