তেলের গন্ধ
অনুবাদ গল্প জাকির আলী রজনিশ | অনুবাদ : মুহাম্মদ আবুল হুসাইন আগস্ট ২০২৪
তখন বিকেল পাঁচটা। বিখ্যাত আইনজীবী বিসেল তার অফিসে বসে গভীর মনোযোগ দিয়ে একটি ফাইল পড়ছিলেন। হঠাৎ তার একটা বই দরকার পড়লো। তার অফিস সহকারীকে ডাক দিলেন, ‘লুকাস, তুমি কোথায়?’ তারপর আবার ফাইলের মধ্যে মগ্ন হয়ে পড়লেন।
হঠাৎ তিনি কারো পায়ের শব্দ শুনতে পেলেন। দরজার কাছে কেউ থামলো। মাথা না তুলেই বিসেল বললেন, ‘লুকাস, শেলফ থেকে লজ অফ ডিফেন্স বইটা নিয়ে এসো তো।’
দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটি গলা পরিষ্কার করে বিসেলের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করলো। বিসেল ভাবলেন, লুকাসের কী হয়েছে? দরজায় দাঁড়িয়ে কী করছে সে? সে বই আনছে না কেন? বিসেল যখন এসব ভাবছিলেন, তখন দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা লোকটি অনুরোধ করে, ‘স্যার, আমি কি ভেতরে আসতে পারি?’
কণ্ঠের দিকে মাথা ঘুরিয়ে তাকালেন বিসেল। দেখলেন দরজায় এক যুবক দাঁড়িয়ে আছে। যুবকের বয়স প্রায় ২৬। একটি সাধারণ পোশাক পরা এবং তার মুখে একটি আত্মবিশ্বাসী হাসি ছিল। মোহনীয় হাসিতে মুগ্ধ বিসেল উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ, অনুগ্রহ করে ভেতরে আসুন।’
যুবকটি হেঁটে বিসেলকে অভ্যর্থনা জানালো। তারপর বললো, ‘আমি এডউইন ড্রিক। আমি কূপ খননে একজন বিশেষজ্ঞ এবং তেলের কূপ খননে আপনার অনেক কাজে লাগতে পারি।’ এডউইন আত্মবিশ্বাসের সাথে বললো। দেখে মনে হচ্ছিল সে বেশ আশাবাদী।
বিস্মিত বিসেল জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি কীভাবে জানলেন যে আমি কূপ খনন এবং তেল উত্তোলনের পরিকল্পনা করছি?’
এডউইন মুচকি হেসে উত্তর দিলো, ‘এমনিই। স্রষ্টা আমাদের একে অপরকে সাহায্য করার জন্যই সৃষ্টি করেছেন।’
বিসেল এডউইনের কথাবার্তা উপভোগ করছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘কীভাবে এডউইন?’
‘দেখুন, তেলের কূপ খননের জন্য আপনার একজন বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন। তাই স্রষ্টা আমাকে এখানে পাঠিয়েছেন। আর নিজের ভরণপোষণের জন্য আমার একটা চাকরির প্রয়োজন হওয়ায় আমি আপনার সামনে উপস্থিত আছি।’
বিসেলের কোনো উত্তর ছিল না। তিনি জানতেন যে এডউইন সত্য কথা বলছে। তিনি বললেন, ‘এডউইন, আপনাকে একজন বুদ্ধিমান মানুষ বলে মনে হচ্ছে। আমিও আপনার সাথে কাজ করে আনন্দ পাবো। তবে আমাকে প্রথমে রডারিকের সাথে কথা বলতে হবে। তাই অনুগ্রহ করে আগামীকাল আসুন। আমি তখন আমার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আপনাকে বলবো।’
‘স্যারের যেমন ইচ্ছা, আমি তাহলে আগামীকাল আসবো।’ এ কথা বলে এডউইন চলে গেল।
এডউইন চলে যাওয়ার পরেও বিসেল তাকে নিয়ে অনেক ভাবছিলেন। ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে দেখলেন টেবিলে ফাইলটা পড়ে আছে। তিনি আবার ফাইলে মন দিলেন।
এডউইন ছিল একজন বেকার যুবক। সে ফ্লোরিডায় থাকতো। সে যখন খুব ছোটো ছিল তখন তার মা মারা যান। এডউইনের সৎ-মা তাকে মোটেই পছন্দ করতো না। সে তাকে প্রায়ই বকাঝকা এবং মারধর করতো। সে এডউইনের খেলাধুলা ও হাসিমুখ দেখে ঈর্ষান্বিত হতো এবং তাই সবসময় তাকে হয়রানি করার সুযোগ খুঁজতো।
রবিন নামের একজন ঠিকাদার ছিলেন এডউইনের প্রতিবেশী। তিনি তেলের কূপ খনন করতেন। এডউইনের বাবা এডউইনকে খুব অল্প বয়সে কাজ শেখানোর জন্য রবিনের অধীনে রেখেছিলেন। এডউইন অনেক আগ্রহ ও উৎসাহ নিয়ে কাজ করতো। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সে হয়ে ওঠে একজন বিশেষজ্ঞ।
তখন পর্যন্ত প্রাকৃতিক তেল পাওয়া যায়নি। পোড়ানোর উদ্দেশ্যে মৌচাক থেকে আহরিত মোম, পশুর চর্বি এবং কয়লা থেকে আহরিত তেল ব্যবহার করা হতো। কয়লা থেকে তেল উত্তোলনের প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
ইতোমধ্যে আইনজীবী জর্জ বিসেল তার বন্ধু বিজ্ঞানের অধ্যাপক রডারিকের সাথে কথা বলেছিলেন। রডারিক বিসেলকে বলেছিলেন, ভূপৃষ্ঠের নিচ থেকেও তেল পাওয়া যায়। তিনি অনেক প্রমাণ দেন, ফলে বিসেল তার কথায় বিশ্বাস করেন। বিসেলের কাছে এটি বেশ লাভজনক ব্যবসা বলে মনে হলো। তাই তিনি তেল অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেন।
সন্ধ্যা ছয়টায় বিসেলের সাথে রডারিকের দেখা করার কথা ছিল। যথাসময়ে তিনি বিসেলের অফিসে পৌঁছে যান। শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর রডারিক জিজ্ঞেস করলেন, ‘বিসেল, তুমি কী সিদ্ধান্ত নিলে?’
‘আমি এটা নিয়ে অনেক চিন্তা করেছি। এই এলাকায় অনেক সম্ভাবনা আছে।’ বিসেল সংক্ষেপে উত্তর দেন। তারপর বললেন, ‘গতকালই এক যুবক আমার কাছে চাকরি খুঁজতে এসেছিল। তার কূপ খননের অনেক অভিজ্ঞতা আছে। লোকটি আমাদের অনেক সাহায্য করতে পারে।’
‘এটা ভালো খবর। কোনো চেষ্টা ছাড়াই তুমি একজন বিশেষজ্ঞ তেল-কূপ খননকারী পেয়েছো। এটা ভালো লক্ষণ। তাহলে সামনের সপ্তায় আমরা কাজ শুরু করি। আমি ওবেরা মরুভূমিকে বেছে নিয়েছি। এই এলাকায় প্রাকৃতিক তেলের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।’
‘ঠিক আছে, তাহলে এটাই সিদ্ধান্ত হলো। আমি প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করে দেবো। এসো।’ কলিং বেলের সুইচ টিপলেন বিসেল। পরের মুহূর্তে একজন ব্যক্তি চা-বিস্কুট নিয়ে এসে টেবিলের ওপর রাখলো। বিসেল এবং রডারিক চা-বিস্কুট খেলেন।
পরের দিন বিসেল রডারিক এবং এডউইকে সাথে নিয়ে ওবেরে মরুভূমিতে যান এবং এলাকাটি জরিপ করেন। ইতোমধ্যে আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। কয়েকদিন পর কাজ শুরু হয়। রমেনের তত্ত্বাবধানে দশজন শ্রমিক নিযুক্ত করে কূপ খনন শুরু হলো।
যেহেতু কাজের এলাকা ফ্লোন্ডে থেকে অনেক দূরে ছিল, শ্রমিকরা মরুভূমিতে তাদের তাঁবু ফেলে সেখানে অবস্থান করে। সারাদিনের কাজ শেষ হলে তারা নিজ নিজ তাঁবুতে ফিরে যেত। যথারীতি এডউইন কাজের প্রতি গভীর আগ্রহ নিয়ে এবং সময়ে সময়ে কর্মীদের উৎসাহিত করছিল। এভাবে বিশ দিনে প্রায় ষাট ফুট গভীর কূপ খনন করা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো তেলের সন্ধান মেলেনি। এটা দেখে বিসেল কিছুটা নিরুৎসাহিত হন। তিনি রডারিককে বললেন, ‘আমি এখানে তেলের কোনো চিহ্ন দেখছি না।’
‘চিন্তা করো না, আমরা অন্য জায়গায় খনন করবো,’ বিসেলের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করে রডারিক বললেন, ‘আমার হিসাব আমাকে বলে, এই অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে তেল রয়েছে।’
‘দেখো রডারিক, অনুগ্রহ করে সঠিকভাবে হিসেব করো। তোমার এবার ভুল করা উচিত নয়, কারণ একা এই কূপটি খনন করতে আমার প্রায় ৫০০ ডলার খরচ হয়েছে।’
‘চিন্তা করো না বিসেল। আমি তোমাকে আশ্বাস দিচ্ছি, তোমার সমস্ত টাকা উদ্ধার করা হবে।’
রডারিকের কথা বিসেলকে কিছুটা সাত্ত্বনা দিলো। তিনি রডারিকের নির্বাচিত স্থানে শ্রমিকদের কাজ শুরু করার নির্দেশ দেন। সেখানে কাজ শুরু হয়। তাও বিশ দিন ধরে চললো কিন্তু কোনো ফল হলো না। বিসেল এই দ্বিতীয় ব্যর্থতায় দুঃখ পেলেন। তিনি আশা হারাতে থাকেন।
তবে এডউইন আশাবাদী ছিল যে জায়গাটাতে তেল অবশ্যই পাওয়া যাবে। এইভাবে বিসেলকে উৎসাহিত করে সে বললো, ‘স্যার, আমি গত বিশ বছর ধরে তেলের কূপ খননের কাজ করছি। এখানকার মাটির ভিত্তিতে আমি আপনাকে বলতে পারি এখানে তেল অবশ্যই পাওয়া যাবে।’
বিসেল চিৎকার করে বললেন, ‘তাহলে তেল কোথায়? আমরা কেন খুঁজে পাচ্ছি না?’
‘ধৈর্য ধরো, বিসেল। তেল অবশ্যই পাওয়া যাবে।’ বললেন রডারিক।
রডারিক এবং এডউইনের অনেক বোঝানোর পরে বিসেল অবশেষে রাজি হন। বললেন, ‘ঠিক আছে, আমি আরও একবার চেষ্টা করবো। কিন্তু এবার যদি আমরা ব্যর্থ হই তাহলে আমি আর কারো কথা শুনবো না।’
‘ঠিক আছে, যেমন তোমার ইচ্ছা।’ রডারিক বললেন। তাকে খুব উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছিল। অনেক চিন্তাভাবনা করার পর তিনি একটি জায়গা বেছে নিলেন যেখানে তেলের কূপ খনন করা হবে। এডউইন শ্রমিকদের মাটি খনন শুরু করার নির্দেশ দিলেন। সবাই কাজটির সফলতার জন্য প্রার্থনা করছিল, যাতে তাদের প্রচেষ্টা সুন্দরভাবে ফলপ্রসু হয়।
যেখানে কূপ খনন করা হচ্ছিল সেখানে বিসেল এখন সারাক্ষণ উপস্থিত থাকেন। পরপর দুটি ব্যর্থতা তাকে কিছুটা বিগড়ে দিয়েছিল। তাই সামান্য অজুহাতেই তিনি কর্মীদের বকাঝকা করতেন।
তৃতীয় কূপটিও প্রায় সত্তর ফুট খনন করা হলেও তেল পাওয়া যায়নি। এতে বিসেল সম্পূর্ণরূপে হতাশ হয়ে পড়েন। পুরো প্রক্রিয়ায় তার দেড় হাজার ডলার ক্ষতি হয়েছে। তিনি মাঝপথে তেল অনুসন্ধানের কাজটি বাতিল করে দেন এবং তার আইন পেশায় মনোনিবেশ করার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ ইতোমধ্যে তিনি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঋণ পরিশোধ করতে চান।
প্রকল্পটি বাতিল করার বিসেলের অভিপ্রায় জেনে এডউইন দুঃখ পায়। কারণ তার কাছে মনে হচ্ছিল তারা তেল আবিষ্কারের প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছেন। তাই বিসেলের কাছে অনুনয় করে তিনি বললেন, ‘স্যার, আমি এখান থেকে তেলের গন্ধ প্রায় পাচ্ছি, আশা করি আপনি বুঝতে পারছেন আমি কী বলতে চাইছি। আমার মনে হয় যদি আমরা আরও কিছু সময় খনন করি তাহলে আমরা নিশ্চিত সফল হবো। কারণ আমরা তেল পাওয়ার খুব কাছাকাছি চলে এসেছি।’
‘ধন্যবাদ, কিন্তু তোমার পরামর্শ তেল উত্তোলনের জন্য কাজে লাগবে না।’ বিসেল বিরক্ত হয়ে জবাব দিলেন। এতক্ষণে তার মেজাজ একেবারে সপ্তমে উঠে গিয়েছে। তিনি চিৎকার করে বললেন, ‘যদি তুমি আর কোনো খোঁড়াখুঁড়ির কথা বলো, আমি নিশ্চিত তোমার মাথা ভেঙে দেবো।’
এডউইন এই তীক্ষ্ণ তিরস্কারে দুঃখ পায়। সে বিসেলের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে রডারিকের সাথে কথা বলে। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত সফল না হওয়ায় রডারিকও হতাশ হয়ে পড়েন। এখন এমনকি এডউইনেরও এই বিষয়ে বিসেলের সাথে কথা বলার যথেষ্ট সাহস ছিল না। কিন্তু সে নিরাশ হয়নি। সে সবসময়েই আশাবাদী ছিল বলে আশা ছাড়েনি। সে কখনই হাল ছেড়ে দিতে জানতো না। তাই বিসেল প্রকল্প বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া সত্ত্বেও এডউইন অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো।
যখন বিসেল এডউইনের পরিকল্পনার কথা জানতে পারলেন তখন তিনি এডউইনকে নিয়ে মজা করে বললেন, ‘অনেকে তেল খোঁজার চেষ্টায় দেউলিয়া হয়ে গেছে। তুমি তো একজন যুবক। কেন তুমি এমন বোকামিতে তোমার সময় ও শক্তি নষ্ট করছো?’
‘স্যার, আমি আপনার মতামতকে সম্মান করি। আপনি ঠিকই বলেছেন। কিন্তু আমি নিশ্চিত যে এখানে তেল রয়েছে।’
‘তুমি যদি তোমার আবেগের কথা শোনো তাহলে তুমি তৃষ্ণায় এবং ক্ষুধায় মারা যাবে। এখানে তোমাকে সাহায্য করার জন্য কেউ থাকবে না। তাই আমার পরামর্শ মেনে চলো এবং আমার সাথে ফিরে আসো।’ উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বিসেল বলছিলেন।
এডউইন বিনয়ের সাথে উত্তর দিলো, ‘এখানে মারা যাওয়া আমার ভাগ্যে থাকলে তা অবশ্যই ঘটবে। আমি বা অন্য কেউই এটা ঠেকাতে পারবো না। কিন্তু আমি চেষ্টা করে দেখতে চাই এবং আমি কাজটি সম্পন্ন করতে আপনার কাছ থেকে একটু সাহায্য চাই।’
‘সাহায্য! কী সাহায্য?’ বিসেল তার মুখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন।
‘আপনি যদি আমাকে তেলের কূপ খননের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু সরঞ্জাম ধার দেন তাহলে...’
‘ঠিক আছে, যা খুশি নাও।’
এডউইন তাকে সাহায্যের জন্য বিসেলকে ধন্যবাদ জানালো এবং সেই জায়গাটি অনুসন্ধান শুরু করলো যেখানে সে তেল পাওয়া যাবে বলে আশা করছিল।
বাকি জায়গা থেকে একটু উঁচু স্থান খুঁজে বের করার পর এডউইন মাটি খনন শুরু করে। তবে কাজ শুরু করার আগে সে সর্বশক্তিমান স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করতে ভোলেনি।
একজন ব্যক্তি যদি দৃঢ় ইচ্ছা শক্তিসম্পন্ন এবং কঠোর পরিশ্রম করতে প্রস্তুত হয়, তবে এই পৃথিবীতে তার পক্ষে অসম্ভব বলে কিছু থাকে না। এমনকি সবচেয়ে বড়ো বাধাও তাকে তার লক্ষ্য থেকে সরাতে পারে না।
এডউইন তার লক্ষ্য হাসিলের জন্য এতটা ক্ষ্যাপাটে হয়ে গিয়েছিল যে, বাইরের জগৎ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে দিনের পর দিন খনন করতে থাকলো। সে তার অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য ক্ষুধা-তৃষ্ণার কথাও ভুলে যায়। যারা তাকে দেখেছিল তারা তাকে পাগল এবং বোকা বলে মনে করেছিল। কিন্তু এডউইন মানুষের প্রতিক্রিয়ার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে খনন চালিয়ে যেতে থাকে। সে শেষ পর্যন্ত তার লক্ষ্য অর্জন করবে এই আশা এবং বিশ্বাস তাকে এগিয়ে রেখেছিল।
এডউইনের কঠোর পরিশ্রম বৃথা যায়নি। সে এত পরিশ্রম করছিল যে একাই এক মাসে প্রায় ষাট ফুট কূপ খনন করে ফেলে। তারপর কান মাটির কাছে রেখে মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করে।
এক পর্যায়ে সে স্পষ্ট শুনতে পায় যেন নিচ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে নদী! এডউইন অত্যন্ত আনন্দে আপ্লুত হয়ে পড়ে। সে যেন নতুন করে প্রাণশক্তি ফিরে পায় এবং নতুন উদ্দীপনা নিয়ে খনন কাজ চালিয়ে যায়।
প্রায় ঊনসত্তর ফুট খোঁড়াখুঁড়ি করার পর মাটির নীচ থেকে হঠাৎ তীব্র বেগে একটা কালো ফোয়ারা ফুটে উঠলো। এটি আর কিছু নয়, এডউইনের বহুল প্রত্যাশিত তেল যা তার আসল এবং অপরিশোধিত রূপের কারণে কালো দেখাচ্ছিল। এডউইন আনন্দে তেলে লাফিয়ে নাচতে শুরু করে। সে নিজের মধ্যে প্রশান্তি অনুভব করেছিল কারণ তার অদম্য সাহস এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সে উনবিংশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ জিনিসটি আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছিল যা সমগ্র মানবজাতির গতিপথকে পরিবর্তন করে দিয়েছে।
আরও পড়ুন...