ফিঙ্গারপ্রিন্ট আইল্যান্ড
বিজ্ঞান সুজন আহমেদ ডিসেম্বর ২০২৪
পৃথিবীর অন্যতম দ্বীপ রাষ্ট্র ক্রোয়েশিয়া। আড্রিয়াটিক সাগরে অবস্থিত বালজেনাক ক্রোয়েশিয়ার অন্তর্গত সিবেনিক দ্বীপপুঞ্জের একটি দ্বীপ। অ্যাড্রিয়াটিক সাগর বেষ্টিত এই দেশের ২৫০টি দ্বীপকে একত্রে বলা হয় সিবেনিক পর্বতমালা। এর মধ্যে ডালমাটিয়ান উপকূলে অবস্থিত বালজেনাক দ্বীপ। মধ্য দামাচিয়ার ঐতিহাসিক এক নগর এটি। এই দ্বীপটি দেখতে আঙুলের ছাপের মতো। তাই বালজেনাক দ্বীপ ফিঙ্গারপ্রিন্ট আইল্যান্ড নামে পরিচিত।
ডিম্বাকৃতির এই দ্বীপটি বিমান থেকে অবিকল আঙুলের ছাপের মতো দেখায়। আর সেখানকার নিচু পাথরের দীর্ঘ সারিকে দেখায় আঙুলের ত্বকের রেখার মতো।
দ্বীপটি আয়তনে একেবারেই ছোট। বালজেনাক দ্বীপের পরিধি মাত্র ১৪৩১ মিটার হলেও, এই দ্বীপের পাথরের দেওয়ালগুলির মোট দৈর্ঘ্য ২৩.৩৬ কিমি। তাই, বালজেনাক দ্বীপ এক হাজার দেওয়ালের দ্বীপ নামেও পরিচিত।
ক্রোয়েশিয়া এবং এর পার্শ্ববর্তী পশ্চিম ইউরোপের কয়েকটি দেশ যেমন : আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড প্রভৃতির উপকূলবর্তী সীমানা শুষ্ক পাথরের দেওয়াল দ্বারা বেষ্টিত। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার বালজেনাক দ্বীপের দেওয়ালগুলো একটু ভিন্ন। শত শত বছর আগে নির্মিত এই দেওয়াল তৈরি করা হয়েছে কোনো ধরনের সিমেন্ট, বালু কিংবা অন্য কোনো মিশ্রণ ছাড়াই।
ছোট্ট এই দ্বীপটিতে কোনো জনবসতি নেই। কখনো মানুষের বসতি ছিল এমনটিও জানা যায়নি। তবে আদ্রিয়াতিক সাগরের এ দ্বীপটিকে পাশের দ্বীপ কাপরিজের কৃষকেরা ফল ও সবজি চাষের এলাকা হিসেবে ব্যবহার করতেন। অনুমান করা হয়, কোমর পর্যন্ত উঁচু পাথরের দেওয়ালগুলো আঠারো শতকের। একটার সঙ্গে আরেকটা পাথর আটকে দেওয়ার এই প্রক্রিয়া পরিচিত, ‘ড্রাই স্টোন ওয়ালিং’ নামে। পাথরের এই দেওয়ালগুলি স্থানীয় ভাষায় সুহোজিদ নামে পরিচিত। তবে, কিছু পাথরের দেওয়াল সম্ভবত আরও আগে নির্মিত। এই পাথরের দেওয়ালগুলি জালের মতো সারা দ্বীপে ছড়িয়ে রয়েছে।
নির্মাণকারীরা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পাথরগুলো বাছাই করেছেন এবং একটির সঙ্গে আরেকটি স্থাপন করেছেন। দ্বীপের সমতল অংশগুলো এই দেওয়াল দ্বারা একটি থেকে অন্যটি আলাদা করা হয়েছে। সেখানকার মাটি বা জমিকে চাষযোগ্য করতেই এই ব্যবস্থা।
ক্রোয়েশিয়ার উপকূলের অনেক এলাকাই পাথুরে। এমন পাথরময় জায়গায় চাষ করাটা একটু কঠিন ছিল। কৃষক এই পাথরগুলো তুলে জমিকে কৃষিকাজের উপযোগী করতেন। পাশাপাশি এই পাথরগুলো দিয়ে এক একটি প্লটের চারপাশে সীমানা দেওয়ালের মতো বানাতেন। এই দেওয়ালগুলো সীমানার কাজ করার পাশাপাশি বারা নামে পরিচিত শক্তিশালী এক ধরনের ঝোড়ো বাতাস থেকে ফলের গাছগুলোর সংরক্ষণ হিসেবে কাজ করত।
মূলত আঙুরক্ষেত ও ডুমুরগাছের জন্য বিখ্যাত ছিল জায়গাটি। তবে এখন আর দ্বীপে কোনো ফল বা সবজির গাছ নেই।
ক্রোয়েশিয়া সরকার এই দ্বীপটিকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ইউনেস্কোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। সেই অনুযায়ী ২০১৮ সাল থেকে ইউনেস্কোর ‘ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটিজ’ এলাকা হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন...