বরফতলে রহস্য

বিজ্ঞান মাকসুদুর রহমান জুলাই ২০২৪

অ্যান্টার্কটিকা বরফ আচ্ছাদিত মহাদেশ। এখানে রয়েছে বরফ ঢাকা পাহাড়চূড়া। অনেকের ধারণা অ্যান্টার্কটিকার বরফের চাদরের নিচে লুকিয়ে আছে পিরামিড! আমরা জানি পৃথিবীর ইতিহাসে সপ্তম আশ্চর্যের মধ্যে একটি মিসরের পিরামিড। নীলনদের পাড়ের মতো বড়ো বড়ো পিরামিড কি থাকতে পারে অ্যান্টার্কটিকায়! পিরামিডের এমন ধারণা দিয়েছেন এক দল ‘কন্সপিরেসি থিয়োরিস্ট’।

‘কন্সপিরেসি থিয়োরিস্ট’দের মতে, অ্যান্টার্কটিকা বরফে আচ্ছাদিত হয়ে এবং কোনো স্থায়ী মানববসতি না থাকা সত্ত্বেও বরফের নিচেই ঢাকা রয়েছে ত্রিকোনাকৃতি এক ‘পিরামিড’।

এমন ধারণা হওয়ার পেছনে রয়েছে একটি উপগ্রহচিত্র। উপগ্রহচিত্রে অ্যান্টার্কটিকার এলসওয়ার্থ পর্বতমালার দক্ষিণ অংশে বরফ থেকে পিরামিড আকৃতির একটি কাঠামোর অগ্রভাগ দেখা যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, এলসওয়ার্থ পর্বতমালায় বেশ কয়েকটি পর্বতচূড়া রয়েছে, যেগুলো ত্রিকোণ আকৃতির হলেও তাদের ভিত্তি বর্গাকার এবং প্রতিটি দুই কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। ঠিক মিসরের পিরামিডের মতো।

‘কন্সপিরেসি থিয়োরিস্ট’দের দাবি, সেগুলো পিরামিড। কোনোভাবে মিসর থেকে অ্যান্টার্কটিকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ধারণা করা হয়েছে মানুষই সেখানে পিরামিড তৈরি করেছে।

আবার অনেকের ধারণা এই কাঠামোটি প্রায় ১০ হাজার বছরের পুরোনো এক সভ্যতার অন্তর্গত। সেই সময় অ্যান্টার্কটিকা উষ্ণ ছিল। বরফে ঢাকা ছিল না।

ধারণা যাইহোক মূলত এখানে কোনো পিরামিড নেই, রয়েছে পর্বত। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিদ্যার অধ্যাপক এরিক রিগনোটের কথায়, অ্যান্টার্কটিকার মধ্যেই রয়েছে এলসওয়ার্থ পর্বতমালা। এরই একটা শৃঙ্গ উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে। শৃঙ্গ অস্বাভাবিক রকমের ত্রিভুজাকৃতির। সেই কারণেই একে পিরামিড বলে অনেকে ভুল করছেন।

বরফে ঢাকা হিমবাহ এলাকায় এই ধরনের পর্বত দেখতে পাওয়া যায়, যেগুলোর চূড়া দেখতে পিরামিডের মতো। এগুলো ‘পিরামিডাল পিকড মাউন্টেন’ নামে পরিচিত।

পটসডামের ‘জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিয়োসায়েন্স’-এর ভূতত্ত্ববিদ মিচ ডারসি একটি সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, অ্যান্টার্কটিকায় ৪০০ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকাজুড়ে বিস্তৃত  এলসওয়ার্থ পর্বতমালায় এ রকম পিরামিড-আকৃতির অনেক পর্বতচূড়া রয়েছে। পর্বত বরফে ঢাকা থাকলেও সেগুলোর চূড়া বরফের বাইরে রয়েছে।

ডারসি জানিয়েছেন, চূড়াগুলো স্পষ্টতই পাথর দিয়ে তৈরি এবং ঘটনাচক্রে উপগ্রহচিত্রে যে পর্বত দেখা গিয়েছে, সেটির শিখরও পিরামিড আকৃতির। এই ধরনের পর্বতচূড়াকে ‘নুনাটক’ বলে যা হিমবাহ বা বরফের চাদরের ওপরে উঠে থাকে।

এলসওয়ার্থ পর্বতমালা অ্যান্টার্কটিকার সর্বোচ্চ পর্বতমালা। ১৯৩৫ সালে লিঙ্কন এলসওয়ার্থ সেই পর্বতমালা আবিষ্কার করেন। তার নামেই এই পর্বতমালা।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে প্রথমবার দক্ষিণ গোলার্ধের এই মহাদেশে পিরামিড রয়েছে বলে ভুল তথ্য ছড়ায়। এরপর ২০১৭ ও ২০১৯ সালে এই বিষয় নিয়ে  আলোচনা চলে। এলসওয়ার্থ পর্বতমালার গড় তাপমাত্রা থাকে হিমাঙ্কের ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে।

বিজ্ঞানীদের দাবি গত কয়েক বছর ধরেই বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে অ্যান্টার্কটিকায়। ব্যাপক হারে শুরু হয়েছে বরফের গলন। বিগত বছরে  বরফ গলার ফলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় অ্যান্টার্কটিকার সুবিশাল একটি বরফের অংশ। ইতালির রোম শহরের চেয়েও বড়ো ছিল সেই বরফ খণ্ডটি।

অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলে যাওয়ায় বিভিন্ন সমুদ্রের পানির স্তর ধীরে ধীরে বাড়ছে। গবেষকদের দাবি, মহাদেশের সমস্ত বরফ গলে গেলে বিশ্বের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে বেশ কয়েকটি দেশ।

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ