মিষ্টি পাখি মৌটুসি
চিত্র-বিচিত্র জুবায়ের মাহমুদ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
মৌটুসি বাংলাদেশের সুলভ সুদর্শন একটি পাখি। চিরসবুজ বন, ফলের গাছ কিংবা ফসলি জমির যেখানে ফুল সেখানেই এই পাখি। সুন্দরী এই পাখির প্রধান কাজ ফুলের মধ্যে ঠোঁট ডুবয়ে রস আস্বাদন করা। এদের ইংরেজি নাম Purple-rumped Sunbird এবং বৈজ্ঞানিক নাম Leptocoma zeylonica।
এদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের বন অথবা গ্রামীণ বন। বৈশ্বিক বিস্তৃতি বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমার। বাংলাদেশে এরা চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের মিশ্র চিরসবুজ বনের বাসিন্দা।
মৌটুসি পাখির কণ্ঠস্বর সুমধুর। এরা স্বভাবে চঞ্চল। বেশির ভাগই একাকী বিচরণ করলেও কখনো মৌসুমে জোড়ায় জোড়ায় দেখা যায় এদের।
বেগুনি কোমর মৌটুসি আকারে চড়ুইয়ের থেকেও ছোট। এই ছোট্ট পাখি দেহের দৈর্ঘ্য মাত্র ১০ সেন্টিমিটার, যার মধ্যে ঠোঁটই প্রায় ১.৬ সেন্টিমিটার। ওজন মাত্র ৯ গ্রাম। এরা এদের হালকা শরীর নিয়ে উড়তে উড়তে হঠাৎ শূন্যে স্থির হয়ে যেতে পারে। পাখি পর্যবেক্ষক বা বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রীদের কাছে খুবই প্রিয় এই পাখি।
দেহের রংবাহারি উপস্থিতির জন্য সবার পছন্দ মৌটুসি। দেখে মনে হবে দেহে কালো স্যুট আর টকটকে লাল শার্ট। গলায় চকচকে বেগুনি গলাবন্ধ। মাথায় চকচকে সবুজ টুপি। রোদের আলো পড়লে মাথা-গলা চকচক হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বেগুনি গলা থেকে যেন গোলাপি- বেগুনি দ্যুতি ছড়াতে থাকে।
স্ত্রী পাখি সামান্য খাটো। স্ত্রী-পুরুষ পাখির চেহারায় অনেক পার্থক্য। পুরুষ পাখির মাথা ব্যাক ব্রাশ ধাতব-সবুজ। ঘাড় ও পিঠ খয়েরি। ডানা বাদামি-কালচে। কোমর বেগুনি। লেজ কালচে। গলা বেগুনি। বুক উজ্জ্বল হলুদ। বুকের নিচ থেকে লেজতল পর্যন্ত হলুদাভ সাদা। শরীরের তুলনায় লেজ খাটো।
স্ত্রী পাখি মাথা ও পিঠ ধূসর-জলপাই। ডানা ধূসর-বাদামি। লেজ খাটো ধূসর-কালো। উভয়ের ঠোঁট কালো, লম্বা, কাস্তের মতো বাঁকানো। চোখ রক্তিম বর্ণের। পুরুষ পাখির পা নীলাভ-কালো। স্ত্রী পাখির পা ধূসর-কালো।
এরা বনের কিনারা, আশপাশ, বন লাগোয়া আবাদি জমি ও বাগানের ফুলে ফুলে বিচরণ করে নির্যাস পান করে। ছোট ছোট কীটপতঙ্গও খায়। ছোট পোকামাকড়, মাকড়সা ইত্যাদি।
প্রকৃতিতে এরা একটি বড়ো কাজ করে থাকে। এরা ফুলের পরাগায়ন করে থাকে। বাগান ও বনের যত ফুল থেকে ফল হয় তার বেশির ভাগ অবদান মৌটুসি পাখির। মৌটুসিদের পাশাপাশি ফুলের পরাগায়নের কাজটি পতঙ্গও করে থাকে।
এদের বাসা দেখতে নাশপাতি আকৃতির। গাছের সরু শাখায় ঘাস, আঁশ, পাতা, বাকল, মাকড়সার জাল ইত্যাদি দিয়ে লম্বা থলের মতো ঝুলন্ত বাসা বানায়। বাসা বানানো হলে স্ত্রী পাখি সেখানে দুই থেকে তিনটি বাদামি ছিটযুক্ত ধূসর বা সবুজাভ সাদা ডিম পাড়ে।
আরও পড়ুন...