সিংহমাছ

চিত্র-বিচিত্র ওয়ালিউল্লাহ তনু অক্টোবর ২০২৪

মাছের নাম সিংহ। বনের রাজা নয় বরং সামুদ্রিক বিষাক্ত প্রাণী। সিংহমাছ পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত মাছের মধ্যে অন্যতম। বিষাক্ত হলেও এদের রয়েছে আকর্ষণীয় সৌন্দর্য। 

জাপানের ফুজি পর্বতের ছায়ায় রয়েছে সুরুগা উপসাগর। ৪০ মাইল দীর্ঘ ও ১৫ থেকে ৩৫ মাইল চওড়া এই সুরুগা উপসাগরেই অন্যান্য প্রাণীর সঙ্গে সিংহমাছের বাস। সমুদ্রের শৈলশ্রেণিতে এরা বসবাস করে। এদের মূল আবাস পশ্চিম আটলান্টিক, ইন্দো প্যাসিফিক, গালফ অফ মেক্সিকো এবং ক্যারিবিয়ান সাগরে। বঙ্গোপাসাগরেও দেখা যায় এদের। মূলত উষ্ণ অঞ্চলগুলোতে পাথর এবং কোরাল রিফের আড়ালে এরা বাস করে।

এদের বৈজ্ঞানিক গণ Pterois। সিংহের কেশরের মতো পাখনা বিশিষ্ট এ সামুদ্রিক মাছটি দেখতে সিংহের মতো হওয়ায় এমন নামকরণ করা হয়েছে। 

বিভিন্ন স্থানে লায়ন ফিশের বিভিন্ন রকম নাম রয়েছে। টার্কি ফিশ, ড্রাগন ফিশ, স্কর্পিয়ন ফিশ, ইত্যাদি। এদের দেহের উপরিভাগ বিষাক্ত হলেও ভেতরের অংশ বিষাক্ত নয়। 

পানির মধ্যে পাখনা ঝাপটে চলাফেরা করে সিংহমাছ। লম্বায় ১২ থেকে ১৫ ইঞ্চি হয়। এদের গড় ওজন ১২০০ গ্রামের মতো। এদের পাখনা দেখতে খুবই সুন্দর। পাখনায় রয়েছে সুঁচের মতো তীক্ষ্ণ কাঁটা। এই কাঁটা দিয়ে এরা শত্রুর দেহে শক্তিশালী বিষ ছড়িয়ে দেয়। এই বিষের প্রভাবে এদের শত্রু মারা যায়। তবে  বিষের প্রভাবে মানুষের মৃত্যুর ঘটনা বিরল। শিকার ধরার জন্যও এরা পাখনা ব্যবহার করে।

এরা লাল, কালো, সাদা এবং বাদামি রঙের হয়। সিংহমাছের দেহে রয়েছে বিচিত্র ডোরা দাগ। পাখনাগুলো পাখির পালকের মতো নরম। যখন বিচিত্র রঙের পাখনাগুলো মেলে ধরে তখনই এদের আসল সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। এদের দেহের রং এদের সমুদ্র তলদেশের প্রবালের সাথে মিলে যেতে সাহায্য করে। তখন এদের প্রবাল থেকে আলাদা করা কঠিন। 

মাছের প্রধান খাবার ক্ষুদ্র এবং অমেরুদণ্ডী প্রাণী। কাঁকড়া, সামুদ্রিক চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ এদের খাবার। এদের খাবার গ্রহণ কৌশল ভিন্ন ধরনের। প্রথমে শিকারের জন্য অপেক্ষা করে। শিকার নাগালে এলেই ধরে আস্ত গিলে ফেলে। সিংহমাছের হাঁ এত বড়ো যে নিজের সমান প্রাণীও গিলে ফেলতে পারে।

সিংহমাছ যখন খুব ধীরগতিতে চলাচল করে তখন এদের দেখতে ভীষণ সুন্দর লাগে। মাঝে মাঝে এরা পানিতে স্থির হয়ে ভেসে থাকে। রাতে এ রকম ভেসে থাকা সিংহমাছকে ভূতুড়ে মনে হয়।

এরা দিনের বেলা পাথরের আড়ালে লুকিয়ে থাকে। সূর্য ডুবলেই নেমে পড়ে শিকারে। অন্য মাছ এদের শিকার করতে ভয় পায় পাখনার বিষাক্ত কাঁটার জন্য। এরা পাঁচ থেকে ১৫ বছর বাঁচে।

বর্তমানে এই মাছের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এদের মূল আবাস যেহেতু সামুদ্রিক রিফ এবং পাথুরে এলাকায়, তাই বিভিন্ন বিরল প্রজাতির মাছ এবং প্রাণী এদের খাদ্যে পরিণত হবার কারণে দিন দিন হুমকির মুখে পড়ছে।

কিছু দেশে সিংহমাছকে সুস্বাদু খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সৌন্দর্যের কারণে ব্যবসার ক্ষেত্রে এদের চাহিদা অনেক। অ্যাকুরিয়ামে এই মাছ পালন করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হয়। এর বিষ মানুষের জন্য প্রাণঘাতী না হলেও প্রচণ্ড ব্যথাদায়ক। এর বিষের প্রভাবে মানুষের শ্বাসকষ্টসহ বিতৃষ্ণাভাব দেখা যায়।

আপনার মন্তাব্য লিখুন
অনলাইনে কিশোরকন্ঠ অর্ডার করুন
লেখকের আরও লেখা

সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

আরও পড়ুন...

CART 0

আপনার প্রোডাক্ট সমূহ